somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তে এমো !! ব্রাজিল !!! আন্দোলন চলছে !! চলুন ব্রাজিল নিয়ে কিছু কথা বলি।

১৯ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্রাজিল!!

এমন একটা দেশের নাম যার শুভাকাঙ্খী বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে অন্তত একজন হলেও আছে। এই ব্রাজিলের পক্ষে বিপক্ষে বাংলদেশে কত আলোচনা-সমালোচনা, কথার যুদ্ধ হয়, চায়ের কাপে ঝড় উঠে। কিন্তু ব্রাজিলের সাম্প্রতিক খবর কি আমরা রাখছি। ব্রাজিলের প্রতি এতো ভালোবাসা থেকে আমরা কি কিছু শিখছি?

ব্রাজিল অর্থনৈতিকভাবে পৃথিবীর ৬ষ্ট বৃহৎ রাস্ট্র। সামনেই ২০১৪ এর বিশ্বকাপ। ২৭ বিলিওয়ন রিয়াল খরচ হচ্ছে বিশ্বকাপের এই মহাউৎসব আয়োজনের জন্য। কিন্তু ব্রাজিল এ মূহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জন প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ রিও কিংবা সাও পাওলোর রাস্থায় জড়ো হয়েছে। ও হ্যাঁ ঠিক রাস্থা নয় মূলত সাও পাওলো ক্যাথিড্রালের সামনে।

আপনি কি জানেন কেনো এই প্রতিবাদ, কেন এই আন্দোলন?

অতি সামান্য তুচ্ছ একটা কারন সাও পাওলো ও রিও এর মেয়র বাস ভাড়া মাত্র ১০% বাড়িয়েছে, যা বৃটিশ পাউন্ডে £০.০৬ বা বাংলাদেশী টাকায় ৭ টাকার মাতো বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আগে ছিলো ৩ রিয়াল এখন হয়েছে ৩.২ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল। আর তাতেই আগুন লেগে গেছে। লাখো মানুষ রাস্থায় এসে পরেছে। রায়ট পুলিশের সংগে জিহাদ হচ্ছে। সেই সাধারন বাস ভাড়া বাড়ানো বিরোধী আন্দোলন দেশটাকে এমন নাড়া দিয়েছে যে এখন আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ও যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য একজোট হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডিলমা রুসেফ

এখন কথা হচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট কি করছেন এই মহা কঠিন দুরবস্থায়। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। তার আগে আগে বিশ্বকাপের প্রস্তুতু হিসেবে কনফেডারেশান কাপ হবে সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্টের টেনশন আরো বেশী। মজার ব্যাপার হলো তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলেছেন " এই আন্দোলনকারী মানুষগুলোর কথা অবশ্যই শুনতে হবে। এরা একটা উত্তম দেশ তৈরির জন্য এক হয়েছে"" এবং বিরাট সংখ্যক মানুষের লংমার্চকে তিনি তার দেশের গনতন্ত্রের প্রমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আহা এই না হলে নেতা। ইতোমধ্যে তিনি সাও পাওলোর মেয়রের সংগে বৈঠকের আ্যারেঞ্জ করেছেন বিষয়টার সুন্দর সমাধানের জন্য।

আমরা যারা ব্রাজিল ব্রাজিল করি তাদের জন্য

ব্রাজিলে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে আমার পেট ব্যাথা নাই। আমি সিরিয়ার মুসলমান নিয়েই খুব একটা চিন্তিত না সেখানে ব্রাজিলতো অনেক দুরের ব্যাপার। কিন্তু কিছু জিনিস শিখলাম তাদের এই আন্দোলন থেকে।

১.সামান্য বাস ভাড়া বৃদ্ধি থেকে কি বিরাট আন্দোলন, ভালোর জন্য আন্দোলন শুরু হতে পারে। যেখানে কাউকে জবাই করা, কিংবা বস্তায় ভরে নাস্তা করার কথা নেই।

অথচ আমাদের দেশে ৩০ লাখ শেয়ার ব্যাবসায়ী নিঃস্ব হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট হয়, দেশ জুড়ে গনহত্যা হয় কিন্তু মানুষ জেগে উঠে না।

২. মজার ব্যাপার হচ্ছে ওদেশে প্রথমালু পত্রিকা নাই। বিবিসি বলেছে কিছু আন্দোলন কারী ব্যাংক ও দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করেছে। আবার একই সময় অন্য আন্দোলনকারীরা এদেরকে নিবৃত্ত করেছে। প্রথমালু থাকলে নিশ্চয় বলতো এরা জংগি জামায়াত-হেফাজতের কর্মী, কিংবা খুঁজতো কোথায় কেউ পত্রিকা জ্বালিয়েছে কিনা তাহলে কাগজ বিনষ্টকরনের একটা রিপোর্ট ছাপাতো!!

৩. রাতের আঁধারে গ্রেনেড আর বুলেটে নিরীহ ঘুমন্ত আন্দোলনকারীদের উপর চলেনি এখনো। বরং দেশের প্রধানমন্ত্রী খুশী হয়ে বলছেন হাজার হাজার মানুষ পতাকা হাতে একটা সুন্দর দেশ বানাতে এক হয়েছে এজন্য তিনি গর্বিত। না এখানে কারো ফাঁসী, কারো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা কোন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি।

৪. ব্রাজিলের রাস্ট্র প্রধান একজন নারী বাংলাদেশের রাস্ট্রপ্রধানও একজন নারী অথচ কত ব্যাবধান, বিস্তর ব্যাবধান। আহা নারী কখনো রুসেফ কখনো লেডি হিটলার।

অ.ট
বিজয় সন্নিকটে, বিজয় নিশ্চয় আসবে। বিজয় আসবেই। ২৮ ফেব্রুয়ারী কিংবা ৫ ই মে'র রক্ত বৃথা যেতে পারেনা। যেমন ২৫মার্চ কালো রাতের রক্ত বৃথা যায় নি।


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৫১
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×