ঃ কেমন আছেন?
ঃ জ্বি ভাল। আপনি ভালতো?
ঃআছি ভালই। এখনতো মনে করেন আমি চরম সুখে আছি...
ঃতাই নাকি? খুব ভাল...
ঃএই যে মনে করেন আপনে আমারে বিয়া করার জন্য রাজি, এইটা আমার কাছে এত্তো ভাল লাগছে বুঝাইতে পারব না।
ফোনের ওপাশ থেকে জামালের বিস্তৃত হাসি কানে ভেসে এলো রিনিতার। লোকটি পরম সুখ অনুভব করছে তাকে বিয়ে করে কাছে পাওয়ার জন্য এটা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলোনা। লোকটি আনন্দে বিভোর হয়ে আছে। আর এই আনন্দের কোন স্পেসিফিক সংজ্ঞা পৃথিবীতে হয়ত কেউ দিতে পারবে না।
জামাল, বয়স ঊনচল্লিশ। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর লেখাপড়া চালিয়ে যায়নি। বেশ কিছুদিন বাহরাইনে থেকে এসেছে। এখন একটা সিএনজি অটো রিকশা কিনে নিজেই পরিচালনা করছে। দুই বছর আগে দুরারোগ্য ব্যাধীতে স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছে। সাত বছর বয়সী একটা ছেলে আর মাকে নিয়ে বর্তমান সংসার। একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে। বোন একটা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ছোটখাট চাকুরি করে আর তার বর আছে একটা বাইং হাউজে। সবাই ঢাকার বাড্ডা এলাকায় থাকে। বিয়েতে তার কোন দাবি দাওয়া নেই। এই হলো তথাকথিত ম্যাচ মেকার প্রদত্ব ইনফরমেশন এবাউট মিঃ জামাল। রিনিতা নিজেকে জলাঞ্জলী দেয়ার জন্য নিজের সিদ্ধান্তে অটল। সে একজন অশিক্ষিত লোককে বিয়ে করে নিজেরে সাথে সাথে তাকে ঘিরে থাকা আরো অনেকগুলো মানুষকে কষ্ট দিতে চায়! কষ্ট দিতে চাওয়ার কি কারণ? রিনিতা কাকে কাকেই বা কষ্ট দিতে চায়?...
ছোট্ট মফস্বলের মেয়ে রিনিতা। তার বাবাকে হারিয়েছে বেশ ক’বছর হলো। পরিবারে এই একটা মানুষ ছিল যে কিনা রিনিতার মনের সব কথা বুঝত। খুব ছোটবেলায় বাবা-মায়ের অসাবধানতায় টাইফয়েডে শারিরীকভাবে বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয় সে। তারপর থেকে অসুস্থ। বলতে গেলে বাবার কাছেই বেড়ে উঠা। বাবা ছিল তার একমাত্র বন্ধু। তার অসুস্থতার কারণে অন্যান্য ভাই-বোনের প্রতি মায়ের মনোযোগটা রিনিতার বেশি বলেই মনে হত। সে বহুবার জানার চেষ্টা করেছে এই মা তার নিজের মা কিনা। না...তিনি তার নিজেরই মা। বাবা তার সারাজীবনে একজন জীবন সঙ্গী নিয়েই কাটিয়ে দিয়ে গেছেন। রিনিতা তার মায়ের প্রতি টান অনুভব করত খুব কমই। কি কারণ সে সেটা জানে না। তবে বড় হওয়ার পর বুঝেছে এটা এক ধরণের মানসিক রোগ। সে তার ভাই-বোনের সাথেও খুব বেশি মিশত না। কারণ তার কাছে মনে হত ভাই-বোন তাকে দেখতে পারে না আর তার সাথে তারা অযথাই মারামারি করে। শুধু তাই নয়, অন্য কাউকে কিছু না বলে তার মা তাকেই মারামরি করার কারণে পিটিয়ে পিঠ ফুলিয়ে ফেলত। ছোট বেলা থেকেই রিনিতা ভীষণ অভিমানী। কেউ কিছু বললে তার মাথা গরম হয়ে যেত আর নিজেকে নিভৃতে শাস্তি দিত। বেশ কয়েকবার সে মরে যাওয়ার কথা ভেবেছে। বাবা ছাড়া কেউ তার কচি মনটাকে বোঝার চেষ্টা করতনা। মাঝে মাঝে সে কোন কারণে চরম জেদ করলে বাবাও টুকটাক ধমক দিতেন। তখন রাগে অভিমানে বাবার সাথেও কথা বন্ধ করে থাকত। তারপর একদিন তার বাবা নিজেই তার কাছ থেকে পরপারে চলে গেলেন! পিতাহীন কঠিন দিন কাটতে থাকে তার। পিতৃবিয়োগ অসহনীয় উঠতে থাকে। তবে এরই মধ্যে মায়ের কাছাকাছি থাকতে থাকতে মাকে ভাল লাগতে শুরু হয়। সে বুঝতে পারে মাকেও সে প্রচন্ড ভালবাসে আর মা-ও তাকে অন্যদের তুলনায় কম ভালবাসে না। কিন্তু বাবা কে ছাড়া কিছুই ভাল লাগে না তার। বাবাহীন বাড়িটাতে দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে।
এরই মধ্যে বন্ধু ওপুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। ভালবাসতে শুরু করে ওপুকে। কিন্তু ওপুর সাথে তার মৌন দ্বন্দ্ব শুরু হয় যখন সে বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে। তার ছেলেবেলার অসুস্থতা ওপুর পারিবারিক আর সামাজিক সমস্যা হিসেবে বড় হয়ে ধরা দেয় দু’জনার সম্পর্কের মাঝখানে। ভালবাসা হেরে যায় মানুষের ছোট মানসিকতার কাছে। বৈরি সমাজের কুৎসিত মানুষগুলে কে ঘৃণা করতে থাকে সে। ভীষণ অভিমানী রিনিতা কোন বিতর্কের অবতারণা না করে সব সম্পর্ক ছেদ করে দিয়ে নিজের মত চলতে থাকে। তার নিজের একটা পৃথিবী গড়ে তোলে যেখানে সে নিজে ছাড়া আর কারো প্রবেশ নিষেধ। পড়াশুনার পাশাপাশি আবৃত্তি, গান আর ইন্টারনেট-কম্পিউটার নিয়ে সময়গুলো কেটে যায় তার একা একাই...
একটা সময় লেখাপড়ার কারণে ঢাকায় থাকতে শুরু করে রিনিতা। একা একাই সময়গুলো কাটতে থাকে এখানেও। যে কোন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর মত চমৎকার ক্ষমতা আছে তার। এজন্য বন্ধু মহলে বেশ দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সে। প্রয়োজন না হলে বাইরে খুব কমই যায়। ওপুর সাথে সম্পর্ক ছেদের পর অনেকেই আসতে চাইলেও আর কাউকে মনের দরজায় কড়া নাড়ার সুযোগ দেয়নি। ওপুকে সে আজও ভালবাসে! কিন্তু হঠাৎই নতুন একজন মানুষ তাকে ভালবাসার সেতুতে এনে দাঁড় করাতে না করাতেই আবারো সেই সামাজিক বৈরিতা চোখের সামনে নগ্ন নৃত্যে মেতে ওঠে। হিস্ট্রি রিপিটস্ ইটস সেলফ। রিনিতা অসহায় বোধ করতে থাকে নতুন এই মানুষটিও তার মনকে বুঝলনা। সে ভাবতে থাকে সামাজিকতার দোহাই দিয়ে সবাই তাকে এভাবে কেন ইগনোর করছে? কোন উত্তর খুঁজে পায় না সে...
উচ্চতর ডিগ্রি শেষ হয়ে যায় তার। ভাল কোন কাজ করবে বলে যখন নিজেকে প্রস্তুত করছে তখন আরো একবার চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয় সে। পরিবার থেকে বেশ কঠিন স্বরেই জানানো হয় পড়া শেষ এবার বাড়ি ফিরে এসো। কিন্তু রিনিতা আবার সেই একঘেয়ে গন্ডির ভেতর ফিরে যেতে চায় না। সে খুব ভাল করেই জানে যেকোন মানুষের কাছে বিয়ে দিয়ে দেয়া হবে তাকে। যৌতুকের লোভে তাকে বিয়ে করার জন্য অনেক অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মানুষ বহুবার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে শুধুমাত্র তার শারিরীক অসুস্থতার দূর্বলতার কারণে। সে বহুবার ভেবেছে, কেন তাকে ভালবেসে কেউ কাছে আসার জন্য প্রস্তাব করেনি! পরিবারে তর্কে জড়িয়েছে বহুবার, বিয়েটাই কি সব কিছু? কিন্তু এই সমাজে নিরাপদে টিকে থাকতে হলে কাউকে বেছে নিতেই হবে। অনলী ফর সোসাল সিকিউরিটি বিয়েটা জরুরি তাছাড়া তার অসুস্থ জীবনে কেউ তার পাশে থাকুক এটাই পরিবারের চাওয়া। হোক না যৌতুক নিয়ে বিয়ে করা তারপরও এ্যাট লিস্ট একটা সীল থাকবে। রিনিতার কাছে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়...
কি করবে, কি করা উচিৎ বুঝে উঠতে পারে না সে। এই কঠিন সমাজ একটা মেয়েকে নিজের মত করে বাঁচতে দিতে চায় না! এই সমাজের একজন ভাল মানুষ নিস্বার্থে তাকে ভালবেসে বুকে নিতে কুন্ঠিত হয় শুধুমাত্র সে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের থেকে একটু ভিন্ন বলে। পরিবার কিছু টাকা দিয়ে বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন করতে চায়। এতে ভরণ-পোষনের বাড়তি ঝামেলাও থাকবে না। কি নিষ্ঠুর এই পৃথিবী! বেঁচে থাকতে আর ইচ্ছে করে না তার। বুক ফেটে কান্না আসে। মনের সব কষ্টগুলো শোনার কেউ নেই...
মাঝে মাঝে পরিচিতদের ভেতর থেকেও কুৎসিত কথাগুলো হজম করতে হয় তাকে। যৌন সম্পর্কের আহ্বানগুলো খুব সহজেই দিয়ে ফেলে কেউ কেউ। চরম ঘৃণায় রিনিতা ভাবতে থাকে এই সমাজের মানুষগুলো শারিরীক অসুস্থ মানুষকে ঘরের বউ করতে সামাজিকতা আর পারিবারিক দোহাই দিতে পারে ঠিকই কিন্তু যৌনতার আহ্বান করতে পারে অবলীলায়। তখন তাদের কাছে একটুও খারাপ লাগে না। মৌন সম্পর্ক নয় যৌন সম্পর্কই তাদের কাছে বড়। আর আহ্বানে সারা না দিলেই ব্যাকডেটেড, গোঁয়ার, এই যুগে ভার্জিনিটি ধরে রাখার মত গেঁয়ো ইত্যাদি শব্দগুলো শুনতে হয়।
রিনিতা খুব চেয়েছিল তার নতুন ভালবাসার মানুষটি এ্যাট লিস্ট গদবাঁধা আচরণ করবে না তার সাথে। সে যেমন মানুষ খুঁজেছে, সেরকম স্বপ্নের মানুষই মনে হত তাকে। সে ভাবত এই মানুষটি দেবে না কোন সামাজিকতার দোহাই কিন্তু সেও ওপুর মতই...
ঃএকটা কথা জিজ্ঞাস করি?
ঃ জ্বি বলুন।
ঃআপনে মাস্টার ডিগ্রি পাশ তারপরেও আমার মত অশিক্ষিত একটা মানুষরে বিয়া করতাছেন কেন্?
ঃপ্রতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাই কি সব কিছু? আপনাকে একজন ভাল মানূষ মনে হয়েছে তাই...
ঃতাই বইলা আমারে কেন্? আপনে একটু অসুস্থ, এইটাই কি কারণ নাকি অন্য কোন কারণে?
ঃঅন্য কারণ মানে?
ঃ না মানে...আপনে কিছু মনে করবেন না আমার কথায়। আপনেতো ইচ্ছা করলে আমার থিকা আরো ভাল শিক্ষিত কাউরে বিয়া করতে পারেন।
ঃ কেন? আপনাকে বিয়ে করতে চাইতে পারি না? আমার কাছে মনুষ্যত্ব বড়, শিক্ষা নয়।
ঃ আপনে সত্যি খুব বড় মনের মানুষ তা না হইলে আমার মত...
ঃ বার বার নিজেকে ছোট করবেন না প্লিজ। আপনিও অনেক বড় মনের মানুষ। আর একটা কথা, আমি অপনাকে কোন টাকা-পয়সা দিতে পারব না...
ঃ কি যে বলেন না বলেন। আমরা অশিক্ষিত ঠিকই কিন্তু অমানুষ না। জানি না আপনার মর্যাদা আমি দিতে পারমু কিনা কিন্তু আপনি দেইখা নিয়েন আমি আপনারে অনেক ভালবাসমু...
ঃ আমি আপনার সাথে নিশ্চই ভাল থাকব। আচ্ছা আপনি আমাকে কেন বিয়ে করতে চাইছেন সেটা বলুন?
ঃআপনি এতোবড় শিক্ষিত একজন মানুষ। আমিতো সময় থাকতে লেখা-পড়া করি নাই। বোনটারে পড়াইছি ঠিকি। আমার কোন ভাই নাই তাই বাবা-মা কোনদিন বকা দেয় নাই, পড়ার জন্য জোর করে নাই। ঘুরছি ফিরছি আর খাইছি। বিদেশ যাইয়া টাকা নষ্ট করছি। এখন বুঝতাছি লেখা-পড়ার কত দাম। আপনে হবেন আমার ঘরের আলো। আমার ছেলেটা মানুষের মত মানুষ হইতে পারব...
রিনিতার চোখ বেয়ে অঝর ধারায় জল পড়তে লাগল। চোখ বন্ধ করে তার আপনজনদের চেহারা মনে করার চেষ্টা করল। এই সাধারণ মানুষটা কত সহজেই তাকে আপন করে নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর অথচ...
নিজেকে এখন বেশ অপরাধী মনে হচ্ছে তার। যদিও এটা ঠিক যে তার সমপর্যয়ের কারো সাথে ঘর বাঁধা হয়ত হত কিন্তু শুধুমাত্র সবাইকে কষ্ট দেয়া আর নিজের অস্তিত্বকে এই নিষ্ঠুর ভদ্র সমাজের সামনে হত্যা করার জন্য এই অশিক্ষিত লোকটিকে বেছে নিয়েছে সে। অথচ এই লোকটি অবলীলায় তাকে নিয়ে নির্জলা স্বপ্নের ভান্ডার তৈরি করতে আরম্ভ করেছে যেখানে কোন নগ্ন চাওয়া-পাওয়া নেই, অর্থনৈতিক চাওয়া-পাওয়া নেই। আছে একরাশ ভালবাসাবোধ। যদিও কার মনে কি আছে সেটা জানা কঠিন। তারপরও লোকটির এই সরলতার সামনে নিজেকে খুব হিপোক্রেট মনে হল তার! এই লোকটির ভালবাসা, প্রেম, সরলতা তাকে কোনদিনই আকৃষ্ট করবেনা জেনে শুনেও সে নিজেকে বলী দিতে চলেছে।
ঃএখন থিকা কোন জায়গায় যাওয়ার হইলে আমারে ফোন করবেন। আমি যেইখানেই থাকি চলে আসমু।
ঃ হুমম...দেখা যাক।
অন্য মনষ্ক হয়ে উত্তর দিল রিনিতা।
ঃবাণিজ্য মেলায় গেছিলেন?
ঃআমি কোন মেলায় যাইনা...
ঃ কেন্? ওহ...বুঝতে পারছি। আপনে বোধয় অসুস্থতার কারণে যান না...
ঃ হুমম...
ঃ এবার যাবেন? আমি অপনারে হাত ধইরা...
ঃজামাল সাহেব, আমি চাই না আমাদের বিয়ের বিষয়টি এই মুহূর্তে আমার বাড়িতে কেউ জানুক। এতে আপনার কি কোন আপত্তি আছে?
ঃকিন্তু বাড়িতে না জানায়া কিছু করলে তারা যদি মানতে না চায়? আপনারে যদি বাড়ি থিকা বার কইরা দেয়?
ঃ দিলে দেবে, আমিতো আপনার বাড়িতে থাকব। এনি ডাউট?
ঃ জ্বি?
ঃ না মানে...আমার বাসায় কেউ রাজি হবে না আপনার সাথে বিয়ের ব্যাপারে। কিন্তু আমিতো যথেষ্ট বড় হয়েছি নিজের মত করে নিজের সিদ্ধান্ত নেওযার জন্য। তাই চাই না এখন তারা জানুক আর কোন প্রোবলেম ক্রিয়েট করুক। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেনে নিতে বাধ্য হবে। আর মেনে না নিলেও কিছু করার নেই। আমি কি বলতে চাচ্ছি আপনি বুঝতে পেরেছেনতো?
ঃ জ্বি, বুজতে পারছি।
রিনিতা আর কোন কথা বলতে পারলনা। চোখে জল চলে এলো আবারো। ওপুকে মনের কবরাস্থানে কবর দিয়েছে বহুকাল আগেই কিন্তু এখন যাকে সে নতুন করে ভালবাসল, ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখল...তার ভালবাসার মানুষটা কি তার এই ডিসিশনে কষ্ট পাবে? হয়ত পাবে...হয়ত পাবে না। রিনিতা নিজের জেদকে খুব বেশি সাপোর্ট করে। এই একঘেয়ে লাইফ তার নিজের কাছে অসহ্য হয়ে উঠেছে। মানুষের হীন মন্যতা, নিষ্ঠুর চাওয়া-পাওয়া আর ইগনোরে আর সে পদ দলিত হতে চায়না। রিনিতা জানে এই বিয়ে মানে তার নিজেকে হত্যা করা কারণ সে যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছে ওই লোকটির পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। মেয়েদের জেদ মেয়েদের কে নিচে নামায় আর পুরুষের জেদ পুরুষকে করে বাদশাহ্। জীবনের এই কঠিন সিদ্ধান্ত তার আত্মমৃত্যুর নামান্তর...
রিনিতা সিমাহীন আকাশের দিকে তাকায়। আকাশের দিকে তাকালে নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হয়। কিন্তু আকাশটাকেও আর সিমাহীন মনে হয়না এখন। আকাশটাও যেন এখন তার মত কোন গন্ডির ভেতর আবদ্ধ! যেখানে শূণ্যতা ছাড়া কিছুই নেই...
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


