somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সফল ব্রেক আপ আর ..........................................

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্তিমের আজ বড় বেশী খারাপ লাগছে। অনেক কথা মনে পড়ছে, অনেক স্মৃতি অনেক ভাল লাগার মুহূর্তগুলো আজ ওকে অনেক বেশী পীড়া দিচ্ছে। আগামীকাল ওর প্রানপ্রিয় পাখিটাকে না বলতে হবে। সে কেমন করে এই পাশবিক কাজটা করবে? বড্ড বেশী বাচতে ইচ্ছে করছে। কেবলই মনে হচ্ছে মানুষ এত কম সময়ের জন্য বাঁচে কেন? আর কটা দিন বাঁচা যায় না। ওর অসুস্থতার কথা ওর বাবা মা ছাড়া কেউ জানে না। ও কারো সাথে শেয়ার করে নি। এমনকি নিশিকেও না যাকে সে নিজের আরেক অস্তিত্ব মনে করে।

নিশিকে ফোন করল অন্তিম।
নিশিঃ হ্যালো জান।

অন্তিমঃ উম। কি করছ?

নিশিঃ এইত কাল ক্লাস আছে। নোট গুছাচ্ছি।

অন্তিমঃ কাল একটু দেখা কর। আমি আসব।

নিশিঃ হুম এসো।

অন্তিমঃ আচ্ছা নিশি, আমি যদি না থাকি তুমি আমাকে মিস করবে?

নিশিঃ থাকবা না মানে। কি হইছে তোমার? উলটা পাল্টা কি বলছ?

অন্তিমঃ না এমনি। কাল আস। রাখি তাহলে। আজ কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।

নিশিঃ রাখো, একটা ঘুম দাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।গুড নাইট।


নিশির সাথে ২ বছরের সম্পর্ক অন্তিমের। কাল সে সম্পর্কের ইতি টানবে অন্তিম। সম্পর্কটা হবার আগেই অবশ্য রোগটা ধরা পরে। অন্তিম কোনভাবেই চায় নি সম্পর্কে জড়াতে। কিন্তু নিশির প্রগাড় ভালবাসাকে সে ফেলে দিতে পারে নি। অন্তিম ১টা শর্ত জুড়ে দিয়েছিল, ‘আমি যদি কখনও তোমাকে না বলি, তুমি মন থেকে তা মেনে নিবে আর আমাকে মাফ করে দিবে।‘ নিশি শর্ত মেনে নিয়েছিল কারন অন্তিমের পাগলামি, উদাসীনতা সম্পর্কে ও জানতো। কাল তাদের সম্পর্কের ২ বছর পূর্তি। আর কালই হবে ওদের ব্রেক আপ। অন্তিম চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না, ‘আমি আমার জানটাকে একা রেখে কিভাবে চলে যাচ্ছি? খোদা, তুমি আমাকে কেন পাঠালে আর কেনই বা নিয়ে যাচ্ছ?’


১৩ই মার্চ। অন্তিমের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। নিশির সাথে দেখা হবে। আজ ও অনেক চিন্তিত অনেক বিচলিত। ওর হাতে ১টা খাম আর ১টা ডায়েরী। নিশি আসছে। রিকশা থেকে নামল। ভাড়া মিটিয়ে এইদিকেই অন্তিমের দিকেই আসছে। আজ নিশিকে অনেক বেশী সুন্দর লাগছে।‘তোমাকে আমার আর পাওয়া হল না, আজ আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। না, এত দুর্বল হলে চলবে না। অন্তিম নিজেকে শক্ত কর, সহজ কর নিজেকে।‘ অন্তিম প্রস্তুত করল নিজের মনকে।

নিশিঃ কি ব্যাপার। তোমাকে খুব চিন্তিত মনে হল কাল। কি হয়েছে, খুলে বল তো।

অন্তিমঃ হুম, বলব বলেই আসলাম। আজ আমাদের সম্পর্কের ২ বছর হচ্ছে। তোমার কি মনে আছে?

নিশিঃ হুম, খুব ভালভাবেই মনে আছে। আমি তো ভেবেছি তুমি ভুলেই গেছ। গত বছর তো তোমার মনেই ছিল না। আজ মনে রাখলে কি করে?

অন্তিমঃ অন্তিম সময়ে সবাই সব কিছু মনে রাখে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই।

নিশিঃ মানে কি? অন্তিম সময়ে? কি বলছ?

অন্তিমঃ আজ এই সময়টুকু আমাদের সম্পর্কের অন্তিম মুহূর্ত। আজকের পর থেকে আমি আর তোমার থাকব না।

নিশিঃ তোমার হয়েছে কি? আমি কি ভুল করলাম? এমন করছ কেন আমার সাথে?

নিশির চোখ বেয়ে অশ্রু ধারা বয়ে যাচ্ছে।অন্তিম তা দেখেও না দেখার ভান করল।

অন্তিমঃ নিশি, তোমার কোন দোষ নেই।আমি তোমাকে মনে প্রানে ভালবেসেছি। বিশ্বাস কর, আমি যা বলছি তা আমি বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু আজ না বলেও উপায় নেই। আমাদের সম্পর্কের আগে শর্ত ছিল যে আমি চলে যেতে চাইলে আমাকে না করতে পারবে না। আমাকে ক্ষমা কর। আমার শর্তটা মান প্লিজ। আমি তোমার কাছে আর কিছু চাই না।

নিশিঃ তুমি এসব কি পাগলামি করছ? দোহাই তোমার, তুমি চুপ কর। আমি তোমাকে ছাড়া বাচব কিভাবে?

অন্তিমঃ কথা বাড়িয়ো না। এই ডায়েরী আর খামটা রাখো। সন্ধ্যা ৭ টায় খামটা খুলবে আর ডায়েরীটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য শেষ উপহার। ডায়েরীতে তোমার আর আমার কথা লিখা আছে। ডায়েরীর সবগুলো পেজ লিখা হল না। যাই হোক,ভাল থেকো। বিদায়।

অন্তিমের বুক ফেটে যাচ্ছে নিঃশব্দ চাপা আর্তনাদে। শেষ সব শেষ। জীবনের সব লেনাদেনা শেষ। বাসায় ফিরে এল সে।


সন্ধ্যা ৭ টায় খামটা খুলল নিশি। ১টা চিঠি। চিঠিটা এরকম,


“ নিশি, এই চিঠি যখন পড়ছ তখন আমি হয়ত অনেক দূরে। আমার উপর অভিমান করো না। আমি বুঝতে পারছি আমার শরীর খারাপের দিকে যাচ্ছে। যে কোন সময় আমি আর থাকব না। তাই তরিঘড়ি করে সব কিছু করা। তোমাকে পাবার ভাগ্য আমার নেই। আমাকে ভুলে যেও না। আমার জন্য দোয়া কর। তুমি সুখী হও।“


নিশি ফোন করার জন্য মোবাইলটা হাতে নিল। তার আগেই ফোন বেজে উঠল। অন্তিমের বন্ধুর ফোন।

নিশিঃ হ্যালো।

অন্তিমের বন্ধুঃ নিশি, মনটাকে শক্ত কর।

ভয় পেয়ে গেল নিশি।

নিশিঃ আমার অন্তিমের কি হয়েছে? বলত।

অন্তিমের বন্ধুঃ অন্তিম নেই, একটু আগে ও আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে। তুমি ওদের বাসায় চলে আসো। যদি ওকে শেষ দেখতে চাও।

নিশি আর কথাই বলতে পারল না। হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×