পরকীয়াঃ বৈধ না অবৈধ?
২৫ শে জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৪২
মানব সমাজে পরকীয়ার অবস্থান নিষিদ্ধের কাছাকাছি, অনেক দেশে (যেমন মধ্যপ্রাচ্যে) পরকীয়া/ব্যাভিচার আইনত দন্ডনীয় (অবস্থা বিশেষে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ), পশ্চিমে অনেক দেশে পরকীয়ার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও হালে কমই প্রয়োগ হয়, তবে নৈতিকভাবে এখনও অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। যাহোক নৈতিক হোক বা সামাজিক বা আইনগত হোক পরকীয়া কোন সমাজেই ভালো চোখে দেখা হয় না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সমর্থন না করলেও ঠিক কি কারনে আমরা পরকীয়ায় আকৃষ্ট হই।
মানুষ বাদ দিয়ে অন্যান্য প্রানীর দিকে তাকালে দেখব প্রানী সমাজে পরকীয়ার বেশ প্রচলন আছে। এমনকি প্রকৃতি পরকীয়াকে অনেক সময় উৎসাহ দিয়ে থাকে। গত কয়েক দশক ধরেই জানা ছিল যে পাখীদের একটা বড় অংশ (92%) scoially monogamous, মানে সামাজিক ভাবে তাদের মাত্র একজন সঙ্গী থাকে, পুরুষ এবং মেয়ে পাখী দুজনেই অনেক সময় বাসা বানায়, বাচ্চা ফোটার পর একসাথে খাবার সংগ্রহ করে। পাখীর বাচ্চা খুব দ্্রুত বড় হয় এবং বেড়ে ওঠার সময় প্রচুর খাবার দাবী করে, একা মা পাখীর পক্ষে এত খাবারের ব্যাবস্থা করা সম্ভব নয়। অনেক পাখী আছে যেখানে একজোড়া ছেলে এবং মেয়ে পাখী সারা জীবনের জন্য একসাথে থাকে। স্তন্যপায়ী দের মধ্যেও বেশ কিছু প্রানী আছে যারা এরকম মনোগ্যামাস (যেমন Gibbon)। 80র দশকে অনেক বিজ্ঞানী গবেষনা করতে শুরু করেন যে পাখীদের এই social monogamy এবং sexual monogamy-এর কোন সম্পর্ক আছে কি না। নব্বই দশকে ডিএনএ প্রযুক্তি সহজলভ্য হলে সম্পর্ক নির্ধারন আরও সহজ হয়ে যায়। এখানে পাখীদের সামাজিক মনোগ্যামি বলতে বোঝানো হয়েছে, একজোড়া পাখীর আপেক্ষিক সামাজিক বন্ধন (যেমন মানুষের ক্ষেত্রে বিয়ে), আর যৌন মনোগ্যামী বলতে পাখীদের যৌনসঙ্গী সত্যিকার অর্থে মাত্র একজনই কিনা তা বোঝানো হয়েছে। বারবার বিভিন্ন প্রজাতির পাখীর মধ্যে গবেষনা করা হলেও ফলাফল মোটামুটি একই রকম 10% থেকে 40% পর্যন্ত পাখীর বাচ্চার সত্যিকার বাবা, তাদের সামাজিক ভাবে স্বীকৃত বাবা এক নয়। এই ফলাফল এমনকি বিজ্ঞানীদের কাছেও আশ্চর্যজনক।
পুরুষ পাখীরা সুযোগ পেলে পরকীয়া করে আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু মেয়ে পাখীরা কেন করছে তার ব্যাখ্যা ঠিক সহজ নয়। এর কারন মেয়ে পাখী পরকীয়ায় ধরা পড়লে সঙ্গী পুরুষ পাখী সাধারনত তাকে ছেড়ে চলে যায়, এবং মেয়ে পাখীর পক্ষে একা পাখীর বাচ্চা বড় করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং পরকীয়ায় মেয়ে পাখীর ঝুকি অনেক বেশী। পুরুষ পাখী কেন পরকীয়ায় অধিকতর আকৃষ্ট হয় তার একটা বায়োলজিকাল কারন আছে। তবে কারনটা খোলাসা করার আগে প্রজননের উদ্দ্যেশ্যটা পরিস্কার করা দরকার। জীব প্রজননে আগ্রহী কারন সে তার জিন (gene) পরবর্তি প্রজন্মের মধ্যে প্রবাহিত করতে চায় (অবচেতন ভাবে), কেন চায় তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এরকম (বিস্তারিত লিখতে গেলে মুল বিষয় থেকে দুরে সরে যাবো) - ধরা যাক কোন প্রানী সমাজে 100 টা প্রানীর মধ্যে 50 টা ছিল বংশ বিস্তারে আগ্রহী আর 50 টা অনাগ্রহী, স্বভাবতই অনাগ্রহীরা চেষ্টা কম করায় তাদের পরবর্তি প্রজন্মের সংখ্যা আগ্রহীদের পরবর্তি প্রজন্মের চেয়ে কম হবে, ধরা যাক এক জেনারেশন পরে আগ্রহীদের সংখ্যা বেড়ে হলো 80, আর অনাগ্রহীরা কমে গিয়ে 20, এভাবে চলতে থাকলে একসময় কয়েক প্রজন্ম পরে অনাগ্রহীরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বাস্তবের প্রানীজগতেও আসলে তাই আগ্রহীরাই টিকে আছে। সে যাক, বাচ্চা তৈরীতে ছেলে আর মেয়ে (পাখী) দের ভুমিকার গুরুত্বপুর্ন একটা পার্থক্য আছে, ছেলেরা তৈরী করে স্পার্ম এবং স্পার্ম অত্যন্ত স্বল্প ব্যায়ে তৈরী করা যায়, তুলনা মুলকভাবে মেয়েরা তৈরী করে ডিম, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কোন পুরুষ তার জীবদ্দশায় মিলিয়ন মিলিয়ন স্পার্ম তৈরী করলেও, মেয়ে প্রানী মাত্র গুটিকয়েক ডিম তৈরী করতে পারে। ডিমের বৃদ্ধি এবং সেখান থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য মেয়ে প্রানীকে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। ছেলে-মেয়ে দুদলেরই লক্ষ্য কিভাবে নিজের পরবর্তি প্রজন্ম বাড়ানো এবং তাদের সারভাইভাল নিশ্চিত করা যায়, ছেলেরা যেহেতু অল্প খরচেই স্পার্ম বানায় তাই তাদের স্ট্র্যাটেজী থাকে কিভাবে বেশী বেশী মেয়ে প্রানীর সাথে বাচ্চা বানানো যায়, অন্য দিকে ডিমের সংখ্যা যেহেতু সীমিত এবং ব্যায়স্বাপেক্ষ মেয়ে প্রানীর স্ট্র্যাটেজী হয় দুই ধরনের (1) নির্ভরযোগ্য পুরুষ পাখী বের করা যে সন্তানদের খাদ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে, এতে ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাদের জীবনধারন নিশ্চিত করা যাবে এবং (2) নির্ভরযোগ্য পুরুষ পাখী সবসময় আকর্ষনীয় পুরুষ পাখী নাও হতে পারে (এখানে আকর্ষনীয় বলতে বোঝানো হয়েছে যে সব বৈশিষ্ট্য জঙ্গলে পাখীর টিকে থাকাকে maximize করতে পারবে, যেমন শক্তিশালী গড়ন), সেক্ষেত্রে মেয়ে পাখী সুযোগ পেলে ঝুকি নিতে পারে, পাখী মহল্লার সবচেয়ে হ্যান্ডসাম পুরুষ পাখীর কাছ থেকে স্পার্ম নিয়ে আসতে পারে, যতক্ষন সঙ্গী পুরুষ টের না পাচ্ছে। ছেলে পাখীরাও যে চাইলেই পরকীয়া করতে পারে তা নয়, অন্য পুরুষ পাখীরা যতদুর সম্ভব বাধা দেয়া বা নিজেদের মেয়ে পাখীকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করবে। এ কারনে মনোগ্যামাস পাখী সমাজে পরকীয়া বেশ প্রচলিত।
পাখী ছাড়াও অন্যান্য আপাত সামাজিক মনোগ্যামাস প্রানীদের কেউই যৌন মনোগ্যামাস নয়, গত কয়েক দশকের গবেষনায় তা প্রমানিত হয়েছে। পরকীয়ার অনেক ঝুকি আছে তবে বুঝে শুনে পরকীয়া করতে পারলে প্রকৃতি সেটা সমর্থনও করে, এবং প্রকৃতি এজন্য বোনাস incentive -এর ব্যবস্থাও রেখেছে।
মানুষ নিজে প্রানীকুল থেকে ভীষন আলাদা কিছু নয়, আমাদের মনোগ্যামির প্রধান শত্রু আমাদের বায়োলজি। আমাদের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন, ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে আকারে বড়, ছেলেরা তুলনামুলক ভাবে বেশী সহিংসতাপুর্ন, ছেলেদের প্রতিযোগীতাপুর্ন মনোভাব, মেয়েদের তাড়াতাড়ি পরিপুর্ণতা লাভ এগুলো নিশ্চিতভাবেই polygynous প্রজাতির বৈশিষ্ট্য। এতে মনে হয় মানব সমাজে পরকীয়ার প্রচলন অনেক পুরোনো, লক্ষ বছরের বিবর্তনে opportunistic adultery আমাদের জেনেটিক কোডে ভালোভাবেই বাসা বেধেছে। পরকীয়া বিরোধী আইন কানুন, অনুশাসনের বহুল উপস্থিতি প্রমান করে পরকীয়া নির্মুল করা সহজ নয়। অবশ্য প্রকৃতির কাছে যৌক্তিকতা থাকাই নৈতিক বৈধতার প্রমান হিসেবে যথেষ্ট নয় ।
প্রকাশ করা হয়েছে: বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯
হযবরল বলেছেন:
দারুণ ইনফরমেটিভ লিখা। আপনার লিখার একটা প্যারা দুবার চলে এসেছে , মুছে ফেলুন। পরের র্পবে মানুষের পলিগ্যামি ন্যাপার নিয়ে লিখুন ।টাইমসে একবার একটা গবেষণা নিবন্ধ নিয়ে আলোকপাত করেছিল যে মেয়েরা বাই ন্যাচার লেসবিয়ান বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায় । এটা নিয়ে কিছু পারলে নামান ।
হযবরল বলেছেন:
না পড়লে না পড়ুক সমাজ গেল গেল বলে চিৎকার করলেই সমস্যা। ভাল লিখার পাঠক সংখ্যা সবসময়ই কম।
অতিথি বলেছেন:
উৎস:পড়বে ঠিকই । স্বীকার করবেনা শুধু । রসময় পড়েনি কোন বংগপুংগব ?
যত ভয় সব স্বীকারে ও শিৎকারে(যদি কেউ শুনে ফেলে?)
আপনি লিখে যান ।
উৎস বলেছেন:
ধন্যবাদ হযবরল, মনে হয় এবার প্যারা ঠিক হয়েছে। হ্যা লিখব, তবে ব্লগের পাঠকরা যেমন ঘোর সমকামী বিরোধী, ঘৃনায় হয়তো পড়তে চাইবে না ... অবশ্য নাও হতে পারে পাঠিকার চেয়ে পাঠক অনেক বেশী এখানে লেসবিয়ান শুনলে পড়তে আসবে নিশ্চয়ই।
অরূপ বলেছেন:
উৎস ভাই,যাই নাই.. কেমন করে যাই! লেখাটা পড়তে মজা লাগল.. রবার্ট উইনস্টন করা একটা প্রোগ্রামে দেখানো হয়েছিল পশ্চাৎদেশ লাল হয়ে যাবার কারনে কেন বেবুন/ড্রিল এরা বহুগামী হতে পারে না, যা মানবীরা পারে.. হাস্যকর শুনতে, কিন্তু ব্যাখ্যাটা মজার ছিল, পরিস্কার মনে না থাকায় লিখলাম না..
অপ বাক বলেছেন:
প্রাণী তার অস্তিত্বের প্রয়োজনে বহুগামী। এমনটার পর নতুন ব্যাখ্যা আসবে জীনতাত্তি্বক। শরীরে নির্দিষ্ট একটা জীন কর্মক্ষম থাকলে মানুষ বহুগামী হয়- সমকামিতা নিয়েও একই আলোচনা চলছে- সমকামী জীন নির্দিষ্ট করা হয়েছে- এভাবে যখন আলোচনা শরীর বৃত্তিয় বিষয়ে চলে আসে তখন একটা আশংকা চলে আসে মনে- এটাকে অনেকেই ব্যাধি মনে করতে পারে- জেনেটিক ত্রুটির কারনে মানুষ সমকামী বা বহুগামী- এবং সেই সাথে যদি এর বিরুদ্ধমত তীব্র হয় তাহলে এই ব্যাধির বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনে দাবি আসবে- দাবি আসবে জিন চিকিৎসা করে এইসব বহুগামীত্ব সমকামিত্ব ব্যাধি নির্মুল করার- যদি অন্য পক্ষ শক্তইশালী হয় তাহলে জেনেটিক মেকাপ বদল করে সবাইকে বহুগামি এবং সমকামি করে দেওয়া হোক এমন আন্দোলনও শুরু হতে পারে- এটাই প্রকৃতির রীতি বলে এমন একটা আন্দোলন শুরু হয়েও যেতে পারে-তবে পড়ে ভালো লাগলো- বহুগামিতবে রসামাজিকতা- নৈতিকতা কিংবা শরীরবৃত্তিয় প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে আমি পরকীয়া করতে চাই-
অতিথি বলেছেন:
মানুষ কেন পরকিয়া করে, বা তার জন্য কি টেনডেনসি কাজ করে তা জনাতে চাই। আর ও একটা বিষয় জানতে চাই, একজন প্রেমিকায় যে সন্তুষ্ট থাকে না , প্যারালাল প্রেমিকা থাকে যাদের তােেদর মনস্তত্ত নিয়ে লিখতে পারেন।
হযবরল বলেছেন:
দিদি তো একটু পুরুষতান্ত্রিক কথা বলে ফে ললেন। নারীদের কি প্যারালাল প্রেমিক থাকতে পারেনা । দুটো নিয়েই লিখুন উৎস।
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার ইনফরমেটিভ লেখা!পড়ে খুবই মজা পেলাম;
পাখিদের মধ্যে নাকি মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা সাদা-পেঁচারা পরকীয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে।
অতিথি বলেছেন:
উৎস, একটু ফোড়ন দেই, যদি অনুমতি দেন তো।মানুষ কিন্তু শারীরিকভাবে কিঞ্চিৎ বহুগামী। প্রাইমেটদের অন্ডকোষের ওজন পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। গরিলা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একগামী, আর শিম্পাঞ্জি (ব্যাটা পাজির পা ঝাড়া) অবিমিশ্র বহুগামী। কিন্তু একগামী সমাজ ব্যবস্থায় বাস করে বলে গরিলার অন্ডকোষ শরীরের তুলনায় ছোট, কারণ যে মাদী গরিলার জরায়ুতে সে শুক্র প্রবিষ্ট করবে, সেখানে কোন প্রতিযোগিতা নেই। অপরদিকে শিম্পাঞ্জির সমাজ ব্যবস্থায় জোর যার জরায়ু তার, একটি শিম্পাঞ্জি ডিম্বের জন্যে প্রতিযোগিতা করছে কয়েকটি শিম্পাঞ্জির শুক্র। স্বাভাবিকভাবেই যে যতো বেশি পরিমাণ শুক্র ঢালতে পারবে তার সাফল্য (অর্থাৎ ডিম্ব নিষেকের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজের জিন বাহিত করা) সম্ভাবনা তত বেশি। অন্ডকোষের ওজন আর শরীরের ওজনের লগারিদম ছকে ফেললে দেখা যায় তামশা। প্রাইমেটদের এই গ্রাফে দেখা যায়, মানুষ গরিলার চেয়ে একটু ওপরে আছে, কিন্তু শিম্পাঞ্জির চেয়ে অনেক নিচে। অর্থাৎ, পুরুষ মানুষ হচ্ছে সুযোগসন্ধানী বহুগামী, ফাঁক পেলে একটু আধটু বহুগামিতা সে করবে, তবে শিম্পাঞ্জির মতো বেইসবল ব্যাট নিয়ে সেটার সপক্ষে লড়বে না (লড়তেও পারে অবশ্য, ইদানীং মানুষের ভাবসাব ভালো না)।
তবে বহুগামিতা আর পরকীয়ার মধ্যে পার্থক্য তো প্রকট। পরকীয়া হচ্ছে অন্যের দখলের ডিম্বটিকে নিজের শুক্র দিয়ে কৌশলে নিষিক্ত করে চম্পট দেয়া। সেই ভ্রুণ বেড়ে উঠবে অন্যের ব্যয় করা রিসোর্স খরচ করে, আমার ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে ঐ শুক্র আর সঙ্গমকালীন শক্তিক্ষয়। আর রিটার্ন মাশাল্লা দারুণ, পরের খরচে জিন পাচার। বহুগামিতা কিন্তু বেশ খরুচে ব্যাপার, বহুগামী হবার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে অন্যান্য আরো বহুগামী-হতে-ইচ্ছুকদের সাথে দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা করতে হবে। এই প্রতিযোগিতার পেছনে অনেক রিসোর্স খরচ হয়ে যায়, যেমন মদ্দা এলেফ্যান্ট সীল মাদী এলেফ্যান্ট সীলের তুলনায় ওজনে অনেক বেশি। পরকীয়াবাজ ছুপা রুস্তমরা বরং সেই তুলনায় বিবর্তনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে, কোনমতে কাজের কাজটি সেরে চম্পট দিতে পারলেই হয়ে গেলো। কাজটি বিধিবহিভর্ূত বলেই মনে হয় আমার কাছে, তবে কানে কানে বলি, পরকীয়া প্রেম করার ধান্ধাতেই আছি।
উৎস বলেছেন:
ধন্যবাদ মুখফোড়। আসলে শেষের দিকে আমি বহুগামীতা আর পরকীয়ার পার্থক্য তুলে ধরতে ব্যার্থ হয়েছি। পরকীয়ায় লাভ বেশী নিঃসন্দেহে।
অতিথি বলেছেন:
পরকীয়ার জৈবনির্ধারণবাদীতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে দেখছি। আমি সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু সামনে আনছি।নৈতিক বৈধতা এক ধরণের সামাজিক উৎপাদ যেটি আবার তার শারীরমনস্তাত্তিক অবস্থার নির্দেশনা দেয়। যেীন প্রসঙ্গে অথবা "নিজ" নারী বা পুরুষের বদলে "অন্য" নারী বা পুরুষের সাথে সম্পর্কের যে বিষয়টিকে পরকীয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তা যৌণ সম্পর্কের সীমা -এই ধারণার সাথে সম্পর্কিত। এখন বা এসময়ে জনমদাত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ককে যেভাবে ঘৃণার চোখে দেখা হয় , িবগত ইতিহাস কিন্তু সে কথা বলেনা কেননা পূর্বে উত্তরাধিকার বা পরিচয় নির্ধারিত হত মায়ের দ্্বারা সেই নিশ্চিত করত কে তার সন্তান। কিন্তু এরও আগে মায়ের সাথে ছেলে সন্তান বা পিতার সাথে মেয়ে সন্তানের সম্পর্ককে বিশেষ চোখে দেখা হতনা। এর একটি বস্তুবাদি ব্যাখ্যা এমন যে যখন থেকে ব্যাক্তি মালিকানার উদ্ভব হয় তখন থেকেই পুরুষের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা জরুরী হয়ে পড়ে কেননা এটা ছাড়া সে তার কতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারবেনা।
পরকীয়া সম্পর্কের যে বৈধতার প্রশ্ন তা কিন্ত একভাবে উত্তরাধিকারের সাথে যুক্ত। বিয়েকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরলে এটি যে একক পরিবার সৃষ্টি করে সেটির সম্পদের বৈধতা দেবার জন্য এবং পুনঞ্জীভূত রাখার জন্য সামাজিক আইনকানুন তৈরী হয় এবং সাধারণত এটি শক্তিশালীর পক্ষেই হয়। রোমান সম্রাজে রাজকীয় নারীদের এমন অনেক বৈধ প্রেমিক ছিল যাদের কে আমরা এখনকার প্রেক্ষীতে পরকীয়া বলতে পারি।
পরকীয়া প্রবণতাগত অর্থে মনে হয় যে অধিকাংশ মানুষই ইনহেরেন্টলি বহুগামী। যদিও এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। আর সমকামীতার যে প্রসঙ্গ আসে তাতে বলতে হয় যে সমকামীতা প্রকাশ্যে আসার অনেক আগে থেকেই সমকামীতার চর্চা হয়েছে। এখানে নারী না পুরুষ বেশি সমকামী সেটিও একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। আমার নিজের প্রশ্ন হল সমকামীতার যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিরুদ্ধতা তা বৈধতার কোন কোন পূর্ব ধারণাকে নিদের্শ করে? ধন্যবাদ।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
ডারউইন কি দরকার? মুখা ভাই-র মন্তব্য পড়লেই বুঝা যায় মানুষ আসলে শিম্পানজি থেকেই আসছে! উৎস, ভালো লিখেছেন। আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র অনেক বিচিত্র আর বিশাল। মাঝখান দিয়া লাভ আমাদের। অনেক কিছু জানতে পারি।
অতিথি বলেছেন:
পরকীয়ার অর্থ কি? অন্যের ক্ষেতে মই দেওন? কে জানে? কিন্তু সবাইর কথায় মনে হইলো- গামীতা- এই বিষয়টা এক্কেরে যৌনতার সাথে সম্পর্কীত! কিন্তু অন্যের বৌ যদি তার জামাইয়ের চেয়ে আমারে ভালোবাসে সেইটা কি হইবো? জামাইয়ের সাথে কথা কওনের চেয়ে আমার লগে কথা কইতে পছন্দ করে তাইলে কি হইবো? এইটাতো হইতেই পারে! আমার কাছে পরকীয়া শব্দটারে অতেুক লাগতাছে! য্যান দলিল কইরা একটা সম্পর্ক হইছে, যেইটারে ভাঙনটা অপরাধ! মানুষ কি তার পছন্দ পালটানের অধিকার রাখেনা? ভাই এইসব বন্ধ কইরা নিজেগো সম্পর্কগুলিরে নিয়া ভাবেন...
হযবরল বলেছেন:
এই নিয়া লিখা আর তো নামাইল না।
অতিথি বলেছেন:
আহেম, স্বরহীন দিদি যেন কি বলতে চাইলেন?উৎস আপনার লেখা চলিয়ে যাবার জন্যে ধন্যবাদ। খুব রিজিড লেখা, (আমার) আগ্রহ থাকে শেষ পর্যন্ত।
অতিথি বলেছেন:
পরকিয়া নিয়ে লেখাটা উৎস খুব ইনফরমেটিক করার চেষ্টা করেছেন। চেষ্টার ত্রুটি করেননি, কিন্তু বিভিন্ন ভিউ থেকে দেখা হয়নি উৎস। পরকিয়ার ব্যাপারটা শুধুই শরীরবৃত্তিক নয়। এখানে মনের একটা বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাই শরীরবৃত্তিক তত্ত্ব দিয়ে এটা প্রমাণীত করলেই যথেষ্ট নয়।আর বৈধ এবং অবৈধ আপেক্ষিক ব্যাপার। বৈধ অবৈধ নিদ্ধারিত হয় প্রচলিত কিছু রীতি নীতির দ্্বারা... আপনি সে রীতিনীতি না মানলে অবৈধ ব্যাপারও বৈধ হয়ে যেতে পারে আপনার কাছে। প্রশ্ন করতে পারেন 'পরকিয়া কি গ্রহনযোগ্য না অগ্রহনযোগ্য?'
সেক্ষেত্রে আমি উত্তর দেব- কেউ যদি তার হাজবেন্ড/ওয়াইফকে অন্য কারো সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়াটা গ্রহনযোগ্য মনে হয় তাহলে তার কাছে তা গ্রহনযোগ্য... অগ্রহনযোগ্য মনে হলে অগ্রহনযোগ্য। ব্যাপারটা যতটা না শরীরবৃত্তিক/জেনেটিক তারচেয়েও বেশী মানসিক।
বাইদ্যাওয়ে, আমার কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। :-)
অতিথি বলেছেন:
হিমু, গ্রহনযোগ্যতাও আপেক্ষিক... তবে একজন নিদ্দিষ্ট ব্যাক্তির কাছে তা অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট রীতি মেনে চলে... যেমন আপনি যদি মনে করেন আপনার ওয়াইফ পরকিয়া করলে সমস্যা নেই, তাহলে আপনার কাছে গ্রহনযোগ্য হতে পারে পরকীয়া... কিন্তু আপনার অভিযোগ আছে আপনার ওয়াইফের পরকীয়ার ব্যাপারে.. কিন্তু আপনি নিজে করে বেড়াবেন.. সেটা ভন্ডামী বা লুচ্চামীর পর্যায়ে পড়ে যায়... কারন আপনি নীতিগত ভাবে সমর্থন না করেও করে যাচ্ছেন...।
হিমু বলেছেন:
গ্রহণযোগ্যতাও তো আপেক্ষিক। প্রচলিত কিছু রীতিনীতির দ্্বারাই নির্ধারিত হয় গ্রহণযোগ্যতা। উৎস ভাই, চলুক। পরকীয়া তো ডরনা কেয়া, যব পরকীয়া তো ডরনা কেয়া, পরকীয়া কোয়ি চোরি নেহি কী, পরকীয়া, ট্যাং ট্যাং ট্যাং ট্যাং ট্যাং ট্যাং ...
রাকিব হাসনাত সুমন বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন। তথ্য বহুল লেখা। পরকীয়া নিষিদ্ধের কাছাকাছি বলছেন ঠিক আছে। আরে ভাই বাংলাদেশে তো প্রেম করাই প্রায় নিষিদ্ধ। সামনে যে দিন আসছে মোল্ললারা পুরোপুরি ক্ষমতা পাইলে তো মেয়েদের সঙ্গে ছেলেরা কথাই বলতে পারবেনা। যাই হোক, আপনার লেখাটা ভালো হয়েছে। পরকীয়া মানুষ ছাড়া সব প্রাণীর মধ্যেই বিদ্যমান। তবে ওরা জেনে করেনা। আর মানুষ বেশি করতে চায় কারন এটা নিষিদ্ধ বলে। লুকিয়ে প্রেম করার মজাই তো আলাদা, তাই না।
পরকীয়া কিন্তু সব সময়ই শারীরিক না। প্রেমের মতোই এখানে মনটাই আসল। তবে হ্যা প্রায় সব ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শরীর ভিত্তিক হয়ে পড়ে।
চমৎকার লেখার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।
















