অন্যের বই চেয়েচিন্তে, খেয়ে-না খেয়ে নাটোরের বাগাতিপাড়ার সোনাপুর গ্রামের দিনমজুর বদিউর রহমানের মেয়ে সাহারা খাতুন চাঁদপুর বিএম কলেজ জিপিএ ৫ পেয়েছে। মেয়ের পড়াশোনার খরচ কিভাবে যোগাড় হবে, এ চিন্তায় সাফল্যের হাসি হাসতে পারছেন না বদিউর রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছনের বেড়ার উপরে টিনের ছাপড়া দেওয়া ছোট্ট একটা ঘর, সেখানে থাকে সাহারা ও তার মা। পাশে আর একটা ভাঙা ঘরে ছাগল আর সাহারার বাবা বদিউর থাকেন একসঙ্গে। অপারেশনের রোগী বদিউরের ভারী কাজ করা নিষেধ থাকলেও, পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, শখ-আহ্লাদ সব মেটানোর দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া কোনো জমি নেই। অন্যের জমিতে নিড়ানি দেওয়া, ধান লাগানো, ধান-গম কাটা এ জাতীয় কাজ করে সংসার চালান তিনি। একটা ছেলেসন্তানের আশায় এক এক করে চারটি মেয়ে জন্ম নেয় বদিউর রহমার ও সুফিয়া বেগমের সংসারে। বড় মেয়ে সফুরাকে বেশিদূর পড়াতে পারেননি। দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দেন এক গার্মেন্ট শ্রমিকের কাছে। মেজো মেয়ে সারমিন খাতুন পাবনা নার্সিং কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী। সেজো মেয়ে কবিস্তারা খাতুন এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এত খরচ দিতে অপারগ বদিউরের আরেক মেয়ের ভালো ফলের খবর শুনে হাসির বদলে যেন কেঁদে দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি মেয়ের কাছি মাপ চাইছি; আমার সামর্থ নাই পড়াতি পারবো না। আমি কি দি পড়াবো, আমার যে কিচ্চু নাই।' এ কথা বলেই কান্নাভেজা চোখ মুছেন বদিউর। তিনি বলেন, 'আমি বউরে বলি মেয়েদের লিকাপড়া শিকাবো না, রিকসায়ালার সাতে বিয়া দিবো, বউ আমার কতা শোনেনা। আমি কি করবো কামও করতে পারিনা, ভিক্ষাও করতে পারিনা।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


