![]()
'ও আমার লক্ষ্মীন্দর মিলাইছে বাজার' কিংবা 'ধীরে যাইয়া পথিক মায়ের' অথবা 'আমার লখাই কেন মরল' ইত্যাদি গান আর ঢোল, প্রেমঝুড়ি ও করতালের তালে নাচছে বিষধর চারটি সাপ ও একটি বানর। এই নাচ দেখতে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শকের ভিড় মুহুর্মুহু করতালিতে জমে ওঠে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মধ্যবয়সী সাপুড়ে আবুল হোসেন তাঁর দুই সহযোগী জহর শেখ ও চের আলীকে নিয়ে কখনো সাপ গলায় জড়িয়ে কখনো হাত ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন মজার মজার খেলা। এরই ফাঁকে ঘোষণাও দিচ্ছেন কারো বাড়িতে বিষধর সাপ থাকলে তা তাঁরা ধরে দেবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবচর পৌর এলাকার পলাশী সিনেমা হলের পাশে আবুল হোসেনের সাপ ও বানরের খেলা বেশ জমে উঠেছিল। আবুল হোসেন গলায় সাড়ে চার হাত লম্বা বিষধর গোখরা সাপ পেঁচিয়ে ঢোলের তালে গান গাইতে থাকেন। এরই ফাঁকে বানরও খেলা দেখায়। প্রায় ১০ ধরনের খেলা দেখান তিনি। এ সময় উপস্থিত দর্শনার্থীরা যে যা পারেন তাই দেন। দুই টাকা থেকে ১০ টাকাও দেন কেউ কেউ। এসবের অবসরেই কথা হয় আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের অনেক জায়গা ঘুরেই তিনি সাপ ধরেছেন ও সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের বাহ্বা কুড়িয়েছেন। তিনি আরো জানান, কারো বাড়ির সাপ ধরতে পারলে ৩০০ থেকে ৭০০ পর্যন্ত টাকা পান। সারা দিন কাজ শেষে থাকেন কোনো স্কুলের বারান্দায়। এ কাজ করেই ৩০ বছর আগে পাশের গ্রামের রশিদা বেগমের সঙ্গে সংসার বেঁধেছেন তিনি। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। এ কাজ করেই কিনেছেন বিঘা দেড়েক জমি। সারা দিনে আয় হয় ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে তিনি অর্ধেক আর বাকিটা দুই সহযোগীকে সমান ভাগ করে দেন।
দর্শনার্থী কিশোর নিখিল দাস বলেন, 'সারাজীবন অনেক সাপের খেলা দেখছি। তবে একসঙ্গে বাদ্যের তালে বানর ও সাপের ভয়ঙ্কর খেলা এর আগে দেখিনি।'
আবুল হোসেন বলেন, '৩৫ বছর আগে শখের বশেই সাপ ধরা শিখেছিলাম। এখন এটাই মূল পেশা। শুধু টাকার জন্য নয়, মানুষকে বাঁচানোর মধ্যেই মূল শান্তি আমার। সাপে কাটলে পাঁচটি ঔষধি গাছ কল্পনাথ, ইশেরমূল, চাঁদার, তেলাকচুর ও মেহেদি গাছের পাতা রস করে খাওয়ালে বিষ পানি হয়ে যায়_এ কথাটা আমি সবাইরে বলি।
এটা পরীক্ষিত। এই গাছগুলো দামি না বনে জঙ্গলে হয়। কিন্তু মানুষ গাছ কেটে বন-জঙ্গল পরিষ্কার করায় ঔষধি গাছ তেমন পাওয়া যায় না। তা ছাড়া সাপ ও বানর বাদ্যের তালে নেচে আনন্দ পায়। আমাদের মতো ওদেরও তো আনন্দ আছে।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




