somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়ংকর খেলা

২৪ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




'ও আমার লক্ষ্মীন্দর মিলাইছে বাজার' কিংবা 'ধীরে যাইয়া পথিক মায়ের' অথবা 'আমার লখাই কেন মরল' ইত্যাদি গান আর ঢোল, প্রেমঝুড়ি ও করতালের তালে নাচছে বিষধর চারটি সাপ ও একটি বানর। এই নাচ দেখতে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শকের ভিড় মুহুর্মুহু করতালিতে জমে ওঠে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মধ্যবয়সী সাপুড়ে আবুল হোসেন তাঁর দুই সহযোগী জহর শেখ ও চের আলীকে নিয়ে কখনো সাপ গলায় জড়িয়ে কখনো হাত ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন মজার মজার খেলা। এরই ফাঁকে ঘোষণাও দিচ্ছেন কারো বাড়িতে বিষধর সাপ থাকলে তা তাঁরা ধরে দেবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবচর পৌর এলাকার পলাশী সিনেমা হলের পাশে আবুল হোসেনের সাপ ও বানরের খেলা বেশ জমে উঠেছিল। আবুল হোসেন গলায় সাড়ে চার হাত লম্বা বিষধর গোখরা সাপ পেঁচিয়ে ঢোলের তালে গান গাইতে থাকেন। এরই ফাঁকে বানরও খেলা দেখায়। প্রায় ১০ ধরনের খেলা দেখান তিনি। এ সময় উপস্থিত দর্শনার্থীরা যে যা পারেন তাই দেন। দুই টাকা থেকে ১০ টাকাও দেন কেউ কেউ। এসবের অবসরেই কথা হয় আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের অনেক জায়গা ঘুরেই তিনি সাপ ধরেছেন ও সাপের খেলা দেখিয়ে মানুষের বাহ্বা কুড়িয়েছেন। তিনি আরো জানান, কারো বাড়ির সাপ ধরতে পারলে ৩০০ থেকে ৭০০ পর্যন্ত টাকা পান। সারা দিন কাজ শেষে থাকেন কোনো স্কুলের বারান্দায়। এ কাজ করেই ৩০ বছর আগে পাশের গ্রামের রশিদা বেগমের সঙ্গে সংসার বেঁধেছেন তিনি। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। এ কাজ করেই কিনেছেন বিঘা দেড়েক জমি। সারা দিনে আয় হয় ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে তিনি অর্ধেক আর বাকিটা দুই সহযোগীকে সমান ভাগ করে দেন।
দর্শনার্থী কিশোর নিখিল দাস বলেন, 'সারাজীবন অনেক সাপের খেলা দেখছি। তবে একসঙ্গে বাদ্যের তালে বানর ও সাপের ভয়ঙ্কর খেলা এর আগে দেখিনি।'
আবুল হোসেন বলেন, '৩৫ বছর আগে শখের বশেই সাপ ধরা শিখেছিলাম। এখন এটাই মূল পেশা। শুধু টাকার জন্য নয়, মানুষকে বাঁচানোর মধ্যেই মূল শান্তি আমার। সাপে কাটলে পাঁচটি ঔষধি গাছ কল্পনাথ, ইশেরমূল, চাঁদার, তেলাকচুর ও মেহেদি গাছের পাতা রস করে খাওয়ালে বিষ পানি হয়ে যায়_এ কথাটা আমি সবাইরে বলি।
এটা পরীক্ষিত। এই গাছগুলো দামি না বনে জঙ্গলে হয়। কিন্তু মানুষ গাছ কেটে বন-জঙ্গল পরিষ্কার করায় ঔষধি গাছ তেমন পাওয়া যায় না। তা ছাড়া সাপ ও বানর বাদ্যের তালে নেচে আনন্দ পায়। আমাদের মতো ওদেরও তো আনন্দ আছে।'
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×