somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষত গুলো গোলাপী !

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটা খুব ছোট্ট ছিলো । জল রঙের গোলানো ধবধবে সাদায় হুট করে কেউ যদি ঢেলে ফেলে একটু হলুদ , সেই রকম তার গায়ের রঙ । ফর্সা শরীরে লালচে গোলাপী আভার দাগ দেখতে বড্ড সুন্দর লাগে । এই জন্য মেয়েটার মা কি করতো জানো? দিনের সবাই যখন অফিসে , কাজের লোকটাও নেই, মায়ের গোল গোল সাদা দাঁত গুলো কামড় বসাতো নরম ত্বকে । আর মেয়েটা খেলনা ফেলে ভাবতো , 'আদর?আদর জিনিসটা তাহলে খুব পঁচা ।'

একটু একটু বড় হতে হতে টের পাওয়া গেলো মেয়েটা আসলে অন্যদের মত নয় । কেমন যেন ! ওকে কিছুতেই চালাকি শেখানো গেল না। ভুল করে ফেলে ভয়ে থর থর করে কাঁপতে কাঁপতেও ও কখনো মিথ্যে বলার কথা ভাবতো না। অনেক কিছু নিয়ম কানুন ,কলা কৌশল - মানে বড়রা যেই সব করে আর কি - ওকে শেখানো হলো । কিন্তু , এমন কি এক্কা দোক্কা খেলার দাগ নিয়েও কাউকে ঠকাতে পারলো না মেয়েটা । ভীষন বোকা বোকা রয়েই গেলো ।

আরো কিছু অভাবনীয় পাগলামি ধরা পড়লো । এই যেমন , কেউ কিছু চাইলে সে কখনোই না করতো না, নিজের যে কোন জিনিস দিয়ে দিত নির্দ্বিধায়! নিজের ক্ষতি করে হলেও সে অন্যের উপকার করতে চাইতো। অন্য কাউকে আনন্দ দেওয়ার ভিতরেই পেতো আনন্দ । মানে , একদম বোকাই রয়ে গেলো ।

সমস্ত পৃথিবী তাকে বোকা বলে দিলো । আশেপাশের মানুষেরা 'বোকা' পেয়ে তাকে বার বার ঠকিয়ে নিলো । কারন বোকা মেয়েটা প্রতিশোধ নিত না যে! বাংলাদেশ নামক যেই দেশটাতে সে জন্মেছিলো , সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তাকে জানিয়ে দিলো , সে হলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের চেয়ে একটু উপরের কেউ। কারণ সে অন্যদের মত মুখস্থ করতে চায় না। সত্যি কিছু শিখতে চায়। প্রশ্ন করতে চায়। প্রচলিত সব কিছুকে খুলে , মেলে, উলটে পালটে জানতে চায়, বুঝতে চায়। সমাজের ধ্রুবক ; ক্ষমতাবানরা তাকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে বুঝিয়ে দিলো , সে যত প্রতিভা নিয়েই জন্মাক আর যত চেষ্টাই করুক, তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না ।

শুধু একজন। একজন মেয়েটাকে চুপি চুপি জানিয়ে গেলো , "ইউ আর এ ডায়মন্ড ইন দা রাফ।" হীরা যখন খনিতে থাকে , তাকে উজ্জ্বল করতে হলে চাই চোখের নোনা জল। আর নিরন্তর আঘাতে আঘাতে তাকে কাটা চাই। নির্মম , ধারালো , পৌণ পুণিক । সেই একজন তাকে বুঝিয়ে বললো , মেয়েটা যেন কষ্টকে ভয় না পায় । জীবনকে ভয় না পায়। তীক্ষ্ণ ফলা গুলো তার আশেপাশে চিরকাল রয়ে যাবে , যতদিন না সে পরিপূর্ণ রত্ন হয়ে ওঠে ।

মেয়েটা এখন তাই বিশ্বাস করে । কিন্তু , একটা ছোট্ট ব্যাপার এখনো তাকে জ্বালিয়ে মারে । আসলে কি হয়েছে জানো? বিধাতা একটা মজা করেছেন । বাইরের খুব শক্ত কার্বন খোলসের ভিতরে তিনি খুব নরম, মিষ্টি আর মায়াবী একটা হৃদয় দিয়েছেন । প্রতিবার আঘাতে ঐ বোকা হৃদয়টা কাঁদে । আর গুটিয়ে ছোট হয়ে যায় । তোমরা যতবার মিথ্যা বলো , যা চাইলেই পেতে তাই ঠকিয়ে নিয়ে খুশি হও , নিষ্ঠুর হও , মেয়েটা হারিয়ে যেতে চায় খুব অন্ধকার শীতল কোন জগতে ।

মেয়েটা বোকা তো ! তাই মাঝে মাঝেই ভাবে , মার মত বিধাতাও তাকে খুব আদর করেন। মা যেমন কামড় দিয়ে গোলাপী দাগ দেখে মজা পেতেন , সেই রকম! হৃদয়ের ক্ষত গুলো মনে হয় গোলাপী ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৫
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×