একটু একটু বড় হতে হতে টের পাওয়া গেলো মেয়েটা আসলে অন্যদের মত নয় । কেমন যেন ! ওকে কিছুতেই চালাকি শেখানো গেল না। ভুল করে ফেলে ভয়ে থর থর করে কাঁপতে কাঁপতেও ও কখনো মিথ্যে বলার কথা ভাবতো না। অনেক কিছু নিয়ম কানুন ,কলা কৌশল - মানে বড়রা যেই সব করে আর কি - ওকে শেখানো হলো । কিন্তু , এমন কি এক্কা দোক্কা খেলার দাগ নিয়েও কাউকে ঠকাতে পারলো না মেয়েটা । ভীষন বোকা বোকা রয়েই গেলো ।
আরো কিছু অভাবনীয় পাগলামি ধরা পড়লো । এই যেমন , কেউ কিছু চাইলে সে কখনোই না করতো না, নিজের যে কোন জিনিস দিয়ে দিত নির্দ্বিধায়! নিজের ক্ষতি করে হলেও সে অন্যের উপকার করতে চাইতো। অন্য কাউকে আনন্দ দেওয়ার ভিতরেই পেতো আনন্দ । মানে , একদম বোকাই রয়ে গেলো ।
সমস্ত পৃথিবী তাকে বোকা বলে দিলো । আশেপাশের মানুষেরা 'বোকা' পেয়ে তাকে বার বার ঠকিয়ে নিলো । কারন বোকা মেয়েটা প্রতিশোধ নিত না যে! বাংলাদেশ নামক যেই দেশটাতে সে জন্মেছিলো , সেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তাকে জানিয়ে দিলো , সে হলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের চেয়ে একটু উপরের কেউ। কারণ সে অন্যদের মত মুখস্থ করতে চায় না। সত্যি কিছু শিখতে চায়। প্রশ্ন করতে চায়। প্রচলিত সব কিছুকে খুলে , মেলে, উলটে পালটে জানতে চায়, বুঝতে চায়। সমাজের ধ্রুবক ; ক্ষমতাবানরা তাকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে বুঝিয়ে দিলো , সে যত প্রতিভা নিয়েই জন্মাক আর যত চেষ্টাই করুক, তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না ।
শুধু একজন। একজন মেয়েটাকে চুপি চুপি জানিয়ে গেলো , "ইউ আর এ ডায়মন্ড ইন দা রাফ।" হীরা যখন খনিতে থাকে , তাকে উজ্জ্বল করতে হলে চাই চোখের নোনা জল। আর নিরন্তর আঘাতে আঘাতে তাকে কাটা চাই। নির্মম , ধারালো , পৌণ পুণিক । সেই একজন তাকে বুঝিয়ে বললো , মেয়েটা যেন কষ্টকে ভয় না পায় । জীবনকে ভয় না পায়। তীক্ষ্ণ ফলা গুলো তার আশেপাশে চিরকাল রয়ে যাবে , যতদিন না সে পরিপূর্ণ রত্ন হয়ে ওঠে ।
মেয়েটা এখন তাই বিশ্বাস করে । কিন্তু , একটা ছোট্ট ব্যাপার এখনো তাকে জ্বালিয়ে মারে । আসলে কি হয়েছে জানো? বিধাতা একটা মজা করেছেন । বাইরের খুব শক্ত কার্বন খোলসের ভিতরে তিনি খুব নরম, মিষ্টি আর মায়াবী একটা হৃদয় দিয়েছেন । প্রতিবার আঘাতে ঐ বোকা হৃদয়টা কাঁদে । আর গুটিয়ে ছোট হয়ে যায় । তোমরা যতবার মিথ্যা বলো , যা চাইলেই পেতে তাই ঠকিয়ে নিয়ে খুশি হও , নিষ্ঠুর হও , মেয়েটা হারিয়ে যেতে চায় খুব অন্ধকার শীতল কোন জগতে ।
মেয়েটা বোকা তো ! তাই মাঝে মাঝেই ভাবে , মার মত বিধাতাও তাকে খুব আদর করেন। মা যেমন কামড় দিয়ে গোলাপী দাগ দেখে মজা পেতেন , সেই রকম! হৃদয়ের ক্ষত গুলো মনে হয় গোলাপী ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




