চোখ দুটোকে চুমু খেতে মন চাইছে । 'অবসেসড । অবসেসড । আই এ্যাম অবসেসড উইথ দোজ আইস ।' নাকের ডগাটা ঘামে ভিজে হয়েছে শিশির ভেজা ঘাসের গালিচা । জিব দিয়ে চেটে নেবার ইচ্ছেটা দাঁতে দাঁত চেপে সামলে আলতো করে উঠে পড়ি । রাতে অনেকক্ষণ জাগিয়ে রেখেছি । আরেকটু ঘুমোক ।
বিছানা থেকে নামতে বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে । ওর পাশ থেকে উঠে যাওয়াটা আমার শরীর বড় অপছন্দ করে! পর্দাটা একটু টেনে দিয়ে ফিরে দাঁড়াতে দাঁড়াতে দেখি বালিশ টেনে পাশ ফিরে শুলো । সাদা চাদরটা সরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে খোলা পিঠ । মেয়েদের পিঠ নিয়ে তো কবিদের কবিতার শেষ নেই । মহিলা কবিরা প্রেমিকের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে অনেক কল্পনা করলেও এই পিঠের ব্যাপারে আজো কেন একটা দুরন্ত কবিতা লিখতে পারলো না? ঈশ । আফসোস হয় আমার ।
পিঠের প্রতি আমার দারুন পৃষ্ঠপোষকতা আছে । ভালোবাসাবাসির শুরুটা পিঠময় ম্যারাথন চুমু দিয়েই করতে পছন্দ করি । এহ হে ! তাকিয়েই রয়েছি । যাচচলে , সব দেরি হয়ে যাবে । মনযোগের প্রধান আকর্ষনটাকে ঢেকে দিয়ে বাথ্রুমের দিকে পা বাড়াই ।
সব কিছু বাঁধা রুটিন । এখন আর চিন্তা করা লাগে না । ডান হাতে দরজা খুলে বাম হাতে চুল সামলে একটা হাত খোপা । খোঁপায় কাটা গুঁজে বেসিনে দাঁড়ানো । রাত পোশাক ছেড়ে শাওয়ার নিয়ে ওর শেভের জিনিস, গোসলের টাওয়েল, শ্যাম্পু রেডি করা ।হাত পা গুলো স্বতঃস্ফুর্ত এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে । বেরিয়ে এসে ওর কাপড় বের করতে করতে সারাদিনের কাজের তালিকাটা ঝালিয়ে নেই। নাস্তার মেনু রাতেই রেডি করে রেখেছি। মাথায় টাওয়েল নিয়ে ঘর গুছাতে শুরু করি ।
বেশিদিন হয়নি বিয়ে হয়েছে । এই বাড়ির অলি গলি আমার চেনা হয়নি তেমন। তবু এই যৌথ জীবনটা কল্পনায় এতবার যাপন করা হয়েছে , কোন কাজকেই নতুন মনে হয় না । যেন সবই জানা। সবটাই প্রতিক্ষীত । রান্নাঘরে নাস্তার তোড় জোড় করতে লাগি। চা ও খায় না। আমি কফি ছেড়েছি বহুকাল । এক প্যাকেট গ্রিন টি কাপের গরম পানিতে ডুবিয়ে সসেজ ভাজতে বসি। ও পছন্দ করে । সাথে একগাদা ফল আর সবজির সালাদ করবো ।
এই কুচি কুচি করে কাটাকুটি আমার একদম ভালো লাগে না । এত্ত সময় লাগে ! মা গো মা ! পৃথিবীর সব থেকে বিরক্তিকর কাজ হলো রান্না করা । তার চেয়েও বিরক্তিকর কাজ হলো ৩০ মিনিটের রান্নার জন্য ২ ঘন্টার কাটাকুটি , বাটাবাটি করা । বিয়ের আগে বোনেরা মিলে মিশে হাউ কাউ করে রান্না করতাম বলে কখনো খারাপ লাগে নাই । রান্না করতে দারুন অপছন্দ হলেও আমি খাওয়াতে পছন্দ করি বরাবরই । এখন ওকে লাগে । মানে পাশে লাগে । মাঝে মাঝে জোর করে ধরে নিয়ে আসি । সে বড় চেঁচামেচি করে ।
"রান্না ঘরে আমি কি করবো ? আমি কি রান্না জানি?"
আমি প্রথম দিন মুচকি হেসে জানিয়ে দিয়েছিলাম,
"তোমার কাজ রান্না করা নয় । আমাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা । আর মাঝে মাঝে চুম্বন চিকিৎসা দেওয়া।"
ওর অবশ্য আপত্তি দেখা যায় নাই । কুকের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে এইটা নাকি খুবই হট অফার । কিন্তু সব সময় করা যায় না । শাশুড়ি আর দেবর আছে বাসায় । দেখতে পেলে কেলেংকারি !
সবজির উপর ডিম ছড়িয়ে মাইক্রো ওয়েভে ঢুকিয়ে ঘরে আসি । অন্যদিন এতক্ষণে উঠে যায় । আজ শুক্রবার । আজকে ওর গড়াগড়ি দিন । মানে সারাদিন যা করবে , সব গড়িয়ে গড়িয়ে । বারোটার আগে ওঠানো যাবে না । সারাসপ্তাহ দুনিয়াদারির সাথে যুদ্ধ করি ও , আমি দুজনেই । শুক্রবারটা আমাদের "অলস দিন"। চুল মুছে , শাড়িটা পরে ওর পাশে গিয়ে বসি । ঝুঁকে কানের পেছনটাতে একটা আলতো চুমু । ওর এই জায়গাটা ভীষন সেন্সিটিভ । সাথে সাথেই কাজ হয় । গুটিশুটি ছেলেটা আড়মোড়া ভেঙে গুট্টুস থেকে পুরুষ হয়ে উঠতে থাকে । এই একটা মজার জিনিস । ঘুমালে সব পুরুষকেই কি এত সুন্দর লাগে? চিন্তার বিষয় । ওর ভয়ংকর রাগী স্বভাবটা একমাত্র ঘুমুলেই কোথায় যেন লুকিয়ে পড়ে । তখন মুখটা শান্ত , কোমল আর প্রচন্ড মায়া । আহা রে !
এই সময় ওকে আমার খালি চুমু খেতে ইচ্ছে করে । মাঝে মাঝে তো অস্থির হয়ে যায় । চুল টেনে মনে করিয়ে দেয় ।
"এত চুমু খেলে তো মোটা হয়ে যাবে । ওহো , দম তো নিতে দাও । নিঃশ্বাস আটকে মেরে ফেলবে নাকি?"
শুনতে আমার বয়েই গেছে । আমার জিনিস । আমি যত ইচ্ছা , যখন ইচ্ছা , নেব - দেব। আমি হাসি । চুমু দিয়ে ওকে ঘুম থেকে জাগানোতে যে কি সুখ লুকানো , এই ছাগলটা বুঝলে তো! ঘুমিয়ে উঠে সারা শরীরে কেমন একটা ঘুম ঘুম গন্ধ হয় । মজা আছে । আমি জাগাই ওকে । আসলে ব্যাপারটা খুবই বৈজ্ঞানিক । মুখ গম্ভীর করে বোঝাই ।
"দেখো , চুমু দিলে ঘুম থেকে ঐ জায়গাটা জেগে উঠে , তাই না? তা ধরো যে , ঠোঁটে চুমু দিলে ঠোঁটটা জেগে উঠবে । সেই সূত্র ধরে এখন কান , নাক, চোখে চুমু না খেলে বাকি জায়গা গুলো জাগবে কি করে ?"
"তার মানে তুমি এখন সারা শরীর জাগাবে?"
আমার দুষ্টুমি মাত্রা ছাড়ায় ।
"এভরি ইঞ্চ , বেবি। এভরি ইঞ্চ।"
মাইক্রো ওয়েভে ডিম সবজি জমে যেতে থাকে । সসেজ ঠান্ডা হয় । সালাদ গুলো বোধ হয় গেলো প্যাতা প্যাতা হয়ে । যাক গে ! আজকে আমাদের দিন ।
" সুখ বৃক্ষের একটি পাতা আজকে না হয় করবো চুরি
সময়ের হাত থমকে দিয়ে আজকে তোমার হাতটা ধরি ?"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

