somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অলস ভোরের ভাবনা!

০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালটা এমনই ! ঘুম ভাঙলো । মুখটা আস্তে পাশ ফিরিয়ে চোখ দুটোকে সামান্য সময় দিলাম । ভুরু কুচকে ঘুমের রাজ্যে যুদ্ধ করছে একটা প্রিয় মুখ । আমার হাসি পেয়ে গেলো । "সূর্যটাকে অফ করে দাও না" ধরনের বায়না নিয়ে ভারি একটা অস্বস্তির মুখভঙ্গী করে শুয়ে । পর্দাটা সরে গেছে কোন ভাবে । ভোরের প্রথম আলো এসে রোদ্দুরে ভরে গেছে মায়াময় মুখ।

চোখ দুটোকে চুমু খেতে মন চাইছে । 'অবসেসড । অবসেসড । আই এ্যাম অবসেসড উইথ দোজ আইস ।' নাকের ডগাটা ঘামে ভিজে হয়েছে শিশির ভেজা ঘাসের গালিচা । জিব দিয়ে চেটে নেবার ইচ্ছেটা দাঁতে দাঁত চেপে সামলে আলতো করে উঠে পড়ি । রাতে অনেকক্ষণ জাগিয়ে রেখেছি । আরেকটু ঘুমোক ।

বিছানা থেকে নামতে বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে । ওর পাশ থেকে উঠে যাওয়াটা আমার শরীর বড় অপছন্দ করে! পর্দাটা একটু টেনে দিয়ে ফিরে দাঁড়াতে দাঁড়াতে দেখি বালিশ টেনে পাশ ফিরে শুলো । সাদা চাদরটা সরে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে খোলা পিঠ । মেয়েদের পিঠ নিয়ে তো কবিদের কবিতার শেষ নেই । মহিলা কবিরা প্রেমিকের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে অনেক কল্পনা করলেও এই পিঠের ব্যাপারে আজো কেন একটা দুরন্ত কবিতা লিখতে পারলো না? ঈশ । আফসোস হয় আমার ।

পিঠের প্রতি আমার দারুন পৃষ্ঠপোষকতা আছে । ভালোবাসাবাসির শুরুটা পিঠময় ম্যারাথন চুমু দিয়েই করতে পছন্দ করি । এহ হে ! তাকিয়েই রয়েছি । যাচচলে , সব দেরি হয়ে যাবে । মনযোগের প্রধান আকর্ষনটাকে ঢেকে দিয়ে বাথ্রুমের দিকে পা বাড়াই ।

সব কিছু বাঁধা রুটিন । এখন আর চিন্তা করা লাগে না । ডান হাতে দরজা খুলে বাম হাতে চুল সামলে একটা হাত খোপা । খোঁপায় কাটা গুঁজে বেসিনে দাঁড়ানো । রাত পোশাক ছেড়ে শাওয়ার নিয়ে ওর শেভের জিনিস, গোসলের টাওয়েল, শ্যাম্পু রেডি করা ।হাত পা গুলো স্বতঃস্ফুর্ত এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে । বেরিয়ে এসে ওর কাপড় বের করতে করতে সারাদিনের কাজের তালিকাটা ঝালিয়ে নেই। নাস্তার মেনু রাতেই রেডি করে রেখেছি। মাথায় টাওয়েল নিয়ে ঘর গুছাতে শুরু করি ।

বেশিদিন হয়নি বিয়ে হয়েছে । এই বাড়ির অলি গলি আমার চেনা হয়নি তেমন। তবু এই যৌথ জীবনটা কল্পনায় এতবার যাপন করা হয়েছে , কোন কাজকেই নতুন মনে হয় না । যেন সবই জানা। সবটাই প্রতিক্ষীত । রান্নাঘরে নাস্তার তোড় জোড় করতে লাগি। চা ও খায় না। আমি কফি ছেড়েছি বহুকাল । এক প্যাকেট গ্রিন টি কাপের গরম পানিতে ডুবিয়ে সসেজ ভাজতে বসি। ও পছন্দ করে । সাথে একগাদা ফল আর সবজির সালাদ করবো ।

এই কুচি কুচি করে কাটাকুটি আমার একদম ভালো লাগে না । এত্ত সময় লাগে ! মা গো মা ! পৃথিবীর সব থেকে বিরক্তিকর কাজ হলো রান্না করা । তার চেয়েও বিরক্তিকর কাজ হলো ৩০ মিনিটের রান্নার জন্য ২ ঘন্টার কাটাকুটি , বাটাবাটি করা । বিয়ের আগে বোনেরা মিলে মিশে হাউ কাউ করে রান্না করতাম বলে কখনো খারাপ লাগে নাই । রান্না করতে দারুন অপছন্দ হলেও আমি খাওয়াতে পছন্দ করি বরাবরই । এখন ওকে লাগে । মানে পাশে লাগে । মাঝে মাঝে জোর করে ধরে নিয়ে আসি । সে বড় চেঁচামেচি করে ।

"রান্না ঘরে আমি কি করবো ? আমি কি রান্না জানি?"
আমি প্রথম দিন মুচকি হেসে জানিয়ে দিয়েছিলাম,
"তোমার কাজ রান্না করা নয় । আমাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা । আর মাঝে মাঝে চুম্বন চিকিৎসা দেওয়া।"
ওর অবশ্য আপত্তি দেখা যায় নাই । কুকের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে এইটা নাকি খুবই হট অফার । কিন্তু সব সময় করা যায় না । শাশুড়ি আর দেবর আছে বাসায় । দেখতে পেলে কেলেংকারি !

সবজির উপর ডিম ছড়িয়ে মাইক্রো ওয়েভে ঢুকিয়ে ঘরে আসি । অন্যদিন এতক্ষণে উঠে যায় । আজ শুক্রবার । আজকে ওর গড়াগড়ি দিন । মানে সারাদিন যা করবে , সব গড়িয়ে গড়িয়ে । বারোটার আগে ওঠানো যাবে না । সারাসপ্তাহ দুনিয়াদারির সাথে যুদ্ধ করি ও , আমি দুজনেই । শুক্রবারটা আমাদের "অলস দিন"। চুল মুছে , শাড়িটা পরে ওর পাশে গিয়ে বসি । ঝুঁকে কানের পেছনটাতে একটা আলতো চুমু । ওর এই জায়গাটা ভীষন সেন্সিটিভ । সাথে সাথেই কাজ হয় । গুটিশুটি ছেলেটা আড়মোড়া ভেঙে গুট্টুস থেকে পুরুষ হয়ে উঠতে থাকে । এই একটা মজার জিনিস । ঘুমালে সব পুরুষকেই কি এত সুন্দর লাগে? চিন্তার বিষয় । ওর ভয়ংকর রাগী স্বভাবটা একমাত্র ঘুমুলেই কোথায় যেন লুকিয়ে পড়ে । তখন মুখটা শান্ত , কোমল আর প্রচন্ড মায়া । আহা রে !

এই সময় ওকে আমার খালি চুমু খেতে ইচ্ছে করে । মাঝে মাঝে তো অস্থির হয়ে যায় । চুল টেনে মনে করিয়ে দেয় ।

"এত চুমু খেলে তো মোটা হয়ে যাবে । ওহো , দম তো নিতে দাও । নিঃশ্বাস আটকে মেরে ফেলবে নাকি?"
শুনতে আমার বয়েই গেছে । আমার জিনিস । আমি যত ইচ্ছা , যখন ইচ্ছা , নেব - দেব। আমি হাসি । চুমু দিয়ে ওকে ঘুম থেকে জাগানোতে যে কি সুখ লুকানো , এই ছাগলটা বুঝলে তো! ঘুমিয়ে উঠে সারা শরীরে কেমন একটা ঘুম ঘুম গন্ধ হয় । মজা আছে । আমি জাগাই ওকে । আসলে ব্যাপারটা খুবই বৈজ্ঞানিক । মুখ গম্ভীর করে বোঝাই ।
"দেখো , চুমু দিলে ঘুম থেকে ঐ জায়গাটা জেগে উঠে , তাই না? তা ধরো যে , ঠোঁটে চুমু দিলে ঠোঁটটা জেগে উঠবে । সেই সূত্র ধরে এখন কান , নাক, চোখে চুমু না খেলে বাকি জায়গা গুলো জাগবে কি করে ?"
"তার মানে তুমি এখন সারা শরীর জাগাবে?"
আমার দুষ্টুমি মাত্রা ছাড়ায় ।
"এভরি ইঞ্চ , বেবি। এভরি ইঞ্চ।"

মাইক্রো ওয়েভে ডিম সবজি জমে যেতে থাকে । সসেজ ঠান্ডা হয় । সালাদ গুলো বোধ হয় গেলো প্যাতা প্যাতা হয়ে । যাক গে ! আজকে আমাদের দিন ।
" সুখ বৃক্ষের একটি পাতা আজকে না হয় করবো চুরি
সময়ের হাত থমকে দিয়ে আজকে তোমার হাতটা ধরি ?"
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৫
৮৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×