১৬ই ডিসেম্বর একাত্তর এর পরে খুব গর্ব করে বলার মত বিজয় আর আছে কিনা জানি না । কিছু অগ্নিঝরা কবিতা , প্রবন্ধ , গল্প পাবো আজকে - আশা করছি । ব্লগে এখন বেশ কিছু ভালো লেখক লেখিকার ভিড় হয়েছে আবার । তাই , আমি তুমি না লিখলেও কেউ লিখবে , এই আশ্বাসে থাকি । সুতরাং , ভালো কবিদের হাতে ময়দান ছেড়ে দিয়ে বরং অন্য একটা বিজয়ের কথা বলি।
বহুদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে রয়ে যাওয়া পাকি কুকুরদের দোসর , রাজাকার, আল বদর, আল শামস , শান্তি কমিটি তথা পরিচিত ও লুকানো জামাত এর কর্মীরা সুযোগ পেলেই পাকিস্তান পাকিস্তান করে কেঁউ কেঁউ কান্না জুড়ে দিত । কারনে অকারনে পাকিস্তান আমলের গুন গান গাওয়ার চেষ্টা করতো । বাংলা ভাষাকে হিন্দুয়ানী ভাষা , বাংলা সংস্কৃতিকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি ইত্যাদি বলে অপমান করতো । ১৯৭১ এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামকে "গন্ডগোল" , " সিভিল ওয়ার" , দুই ভাই এর ভিতর মনমালিন্য বলে নানান প্রপোগান্ডা চালাত । মুক্তিযুদ্ধ , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা , বাংলার ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি বাঙালী জাতীয়তাবাদের অপরিহার্য অঙ্গ গুলো এই বরাহ নন্দন্দের আক্রমন ও ঘৃণার বস্তু হয়েই ছিলো । বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিলে , মিটিং এ তাদের এই পাকিস্তান প্রীতি ও বাংলাদেশ বিদ্বেষ তারা খুব একটা লুকিয়ে রাখেনি বলতে হবে ।
তবে কয়েক বছর আগে থেকে এই আস্ফালনের পরিবর্তন ঘটেছে । পাকিস্তানের পতাকা বুক ও মাথার চাদরের বদলে এখন গোলাম আজম, নিজামী -মুজাহিদীর জাঙ্গিয়াতে পরিণত হয়েছে । আমি বলছি না তাদের মন মানসিকতার কোন পরিবর্তন হয়েছে , ভেতরে ভেতরে তারা এখনো ধর্ম ব্যবসায়ী , বিশ্ব ভন্ড , হত্যাকারী পাকিপ্রেমী দেশদ্রোহী । কিন্তু , একটা পরিবর্তন তাদের হয়েছে , অবশ্য , করতে বাধ্য হয়েছে বলা ভালো । বাঙ্গালী জাতি তাদের লাথি মেরে পরিবর্তনটা করতে বাধ্যই করেছে ।
জামাত ক্ষমতালোভী । বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পা চাটা থেকে শুরু করে , হত্যা , ধর্ম ব্যবসা , দালালি , বাতাস বুঝে ভাও পরিবর্তন ইত্যাদির পরিক্রমায় এবার যুক্ত হয়েছে চেতনার ব্যবসা ।
শুরুটা হয়েছে আমৃত্যু উর্দু প্রেমী , বাংলাকে হিন্দুয়ানী ভাষা বলে গালি দেওয়া গোলাম আজমকে "অধ্যাপক" এবং " ভাষাসৈনিক" এর ভূমিকায় অভিনয়ে নামিয়ে । এর পর আস্তে আস্তে নাটকের বিভিন্ন পর্বে এসেছে স্মৃতিসৌধে গমন , বিজয় দিবস পালন, মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম বানানো ......... নাটকে ভাঁড়ের ভূমিকায় সর্বশেষ সংযোজন নিজামীর কন্ঠে "বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের জামাতের সহযোগী ভূমিকার অপূর্ব বয়ান"।
এই ভন্ডামী আর গোয়েবলসীয় ভাঁড়ামিতে আমাদের নৈতিক বিজয়টা কোথায় ?
যেই বাংলা ভাষা , বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশকে ঘৃণা করে জামাত এতদিন আস্ফালন করে এসেছে , সেই দেশটার রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে তাদেরকে এই দেশের ১৪ কোটি মানুষের কাছে মাথা নুয়েই ভোট ভিক্ষা করতে হচ্ছে । তাদের ঘৃণার বস্তু গুলোকে ভালোবাসার অভিনয় করেই ভোট যুদ্ধে নামতে হচ্ছে । পাকি প্রেমী শুয়োর গুলোকে ঠিকই বাঙালীত্বের কাছে মা নত করেই থাকতে হবে ।
১৯৭১ এ যেমন ছিলি , এই ২০০৮ এও ।
বাঙালীত্বের বিজয়ের নিশান উড়তেই থাকবে শহীদের রক্তে লাল সবুজ বাংলার বুকে ।
জয় বাংলা , বাংলার জয় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

