কথায় বলে , যার কোন কিছু হারাবার ভয় নাই , সেই নাকি সব থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাসী । এই যেমন ধরেন সুইসাইড বম্বার । এখন দেখছি যেই পলিটিশিয়ানের বাঁচার কোন রাস্তা নাই , সেই হইলো পৃথিবীর সব চেয়ে বড় আহাম্মক বিবৃতিদানকারী ।
কপাল চাপড়াইয়া কানতে ইচ্ছা করতেসে আমাদের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের কথা বার্তার বহর দেখে । সংসদে এক দিন অধিবেশনের খরচ নাকি ঘন্টায় ১২ হাজার টাকা । আপনেরা এই আবালামি বন্ধ কইরা টাকাটা নিহত নিরীহ সিভিলিয়ান এর পরিবারে দিয়া দেন । এই রকম একটা সংকটের সময় যেই সব মলাটহীন কথা বার্তা এক একজন বলছেন , তাকে রাজনৈতিক কমেডি বলবো না ট্রাজেডি ?
কি কি প্রমান আছে , সেইগুলা হাজির না করে "ব্লগের মতন মুখোশ খুলে দেওয়ার " হুমকি ধামকি চলছে । তাও যদি একটাও স্ক্রীন শট দিতে পারতো । খালি বিশ্বস্ত সূত্রে জানলেই চলবে? খোলাখুলি বলে দিলেই তো হয় কে কার সাথে কই গিয়া কি ষড়যন্ত্র করেছে । আর প্রমান না থাকলে আপাতত চুপ করেন । খামোখা শত্রুতা বাড়ায়েন না । দেশটারে আর অস্থির করেন না। বিরক্তির শেষ সীমায় চলে গেছি আমরা ।
মাননীয় সরকার , বিরোধী দল , আপনারা দয়া করে ব্লগে আসেন । ব্লগের লোক জন অনেক বেশি ভালো ভাবে বুঝায় দিবে আপনার দেশটারে কই নিয়ে যাচ্ছেন , কত ধানে কত চাল । খালি খালি সঙ সেজে সদে যাবার দরকার নাই ।
সেনা বাহিনীর ভিতরে শত শত হত্যা হয়েছে । হয়েছে ক্যু । পালটা ক্যু। এক দল সেনা অফিসার যখন আরেক দল সেনা অফিসার মেরে ফেলেছে , একটা টু শব্দ করতে পেরেছি আমরা ? তখন কি শত শত অফিসার এর বউ বাচ্চার কান্না টিভিতে দেখতে পেরেছি ?
এই আর্মি দেরকে ব্যবহার করে , বিচার আচারের বিন্দু মাত্র তোয়াক্কা না করে , জাস্টিসের পাছায় লাথি মেরে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ , পলিটিকাল অপনেন্ট আর ছিচকে চোর মেরে " দিল সাফ" করে দিয়েছেন আপনারা । হ্যাঁ, আপনারা।
৭৫ এ খুন দিয়ে শুরু ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খালি খুন আর খুনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদ , সরকার , এমন কি সেনাবাহিনীর ভিতরের শাসন যন্ত্রটাও বার বার বেদখল হয়ে গেছে । মরেছে বাংলার সাধারন মানুষ ।আপনারা একমত হয়ে বিচার করেছেন একটাও হত্যাকান্ডের ?
এখন নাকি একমত হইতে হবে ।কিন্তু কতটুকু হবেন ? বিশ্বাস হচ্ছে না আমদের। আগের গুলোর ব্যাপারেও কি একমত হয়ে বিচার করবেন এইবার ? নাকি ডিউটি ফ্রি গাড়ির মত শুধু এই একটা হত্যার ব্যাপারেই শুধু একমত হবেন খালেদা ? বাকি সব ইনডেমনিটি ?
প্রতিটা হত্যাই এক একটা সাপ । কাল কেউটে সাপ ।
আমরা আগের গুলোর বিচার করিনি । সেনা অফিসার এবং তাদের বউ বাচ্চারাও বসে বসে রেশনের চাল , ডাল, তেল খেয়েছেন আর ভেবেছেন , নিজেরা ভালো থাকলেই তো হলো । কি দরকার বিচার আচারের ঝামেলা পাকিয়ে !
এখন নিজেদের পোষা সাপ নিজের গায়ে ছোবল বসিয়েছে , তাই সব ভুলে সেনা দেবতাদের পায়ে পূজো দিতে হবে ।
যারা খুন হন, তাদের পরিবার গুলোই শুধু ভুক্তভোগী । আরে বাবা , উর্দি খুলে নিলেই তো সব এক ! তাদের কষ্টে দুই দিন আহা উহু করে বিচারের আদালতে তালা ঝুলিয়ে ভুলে যাই , আবার নতুন করে কবে আহা উহু করার সুযোগ পাব , সেই আশায় । আমরা এমনি আবাল !
বি ডি আর দের লাশ , বউ বাচ্চা , সিভিলিয়ান যারা মারা গেলো তাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা , পরিবারের অর্থ সাহায্য এর কোন কথা বার্তা নাই । পুরা ব্ল্যাক আউট ।
সূর্য সন্তানেরা মরেছে , রোদের ঝলকানিতে আমাদের সকলের বিবেক জেগে উঠেছে , আমাদের সুউচ্চ মোরাল এন্ড জাস্টফায়েড অবস্থানের ঠিক পিছনে , ছায়া অন্ধকারে সুবিচার কেঁদে মরছে ।
আমরা দেখবো কি করে ? আমাদের চোখ তো সূর্যে ! আপনারা টাড়কা হয়া আকাশে ঝুলেন আর বিবাদ করেন , আমরা মরতে থাকি ,
আর ভাবতে থাকি ,
চারশ গরীব লঞ্চ ডুবিতে মরে গেলে জাতীয় শোক হয় না কেন ?
পিপড়া আর হাতির মরাতে কিছু পার্থক্য তো থাকেই , নাকি ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

