somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুজাতাই আজকে সবচেয়ে সুখে আছে

০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মান্না দে'র কফি হাউজে সুজাতা অমর হয়ে আছে । সোনা আর জহরতে মোড়া সুজাতা । তাই অবশ্যই সে সুখে আছে , প্রমানিত । খুব সহজ এই সমীকরন । রক্তক্ষরণ লুকাতে এর জুড়ি নেই। বিশ্ব নারী দিবসে তাই খেলো চটুল পোস্টের ছড়াছড়ি । সমাজে যাদের পরণে কাপড় নেই, তাদের উদোম লাঞ্ছনা চোখে পড়ে আসছে আমাদের অনেক আগে থেকেই । এই সব উলঙ্গ নির্যাতন ছয়টি ঋতু জুড়েই আমাদের চোখের চামড়া হরণ করে নিয়ে যায় । আমরাও চোখে গন্ডার পরি । ঋতু বদলায় , শ্রেনী বদলায় , জন মানুষের অধিকার মহাজনদের হাত বদলায় । শুধু বদলায় না ত্যানা প্যাঁচানো উলঙ্গ কষ্টরা । ইউনিসেফের শিশু মৃত্যুর বই পড়ে জানতে পারি, ডায়রিয়া জনিত মৃত্যুর হার এতদিন এতটাই বেশি ছিলো যে চোখেই পড়েনি পানিতে ডুবে , দুর্ঘটনার কারনে কত শিশু মারা পড়ে প্রতিদিন , এই বাংলাদেশে । উলঙ্গ কষ্টের চাদরে , ভুখা অসহায় নারীদের আহাজারির তলায় ঠিক এমন করেই সুজাতারাও চাপা পড়ে আছে ।

নারী নির্যাতন তাই আর সব ইস্যুর মতই গরীবের রোগ , মাতালের রোগ, ভূমিহীনের রোগ । আমার পাশেই হাসিমুখে যে সুজাতা বসে থাকে, দামী শাড়ির পর্দায় লুকানো দগ দগে ঘা নিয়ে , ওকে আমি চিনতে পারি না আমার পুরুষ চোখে । সুজাতারা সুখেই থাকে । উচ্চ , মধ্য ও নিম্ন বিত্ত ঘরে , বোরখা থেকে আল্ট্রা মডার্ন স্যুটের আড়ালে , স্কুল মিস্ট্রেস এর রুম থেকে মাছের বাজারে ।

সুজাতা ১

পিতৃহারা মেয়েটা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো ।বিয়ের রাতেই পালটে গেলো প্রেমিকের চেহারা।সুখের স্বপ্ন দেখানো মানুষটাই তার গলা চেপে ধরে হুমকি দিলো " তোমার শাশুড়ি যা বলবে তাই ঠিক।" এরপর বিশেষ সময়ে শ্বাশুড়ির মত করে চুল বাঁধতে হবে , শাড়ি পরতে হবে , তার কথা মত উঠতে বসতে হবে -- মনে মনে খটকা লাগলেও বাচ্চা মেয়েটা বুঝে উঠতে পারে না --স্বামী কেন তার প্রতি অনাগ্রহী , কেন মায়ের সাথে তার এত নিবিড় আনুগত্য। ধাক্কা লাগে যখন স্বামী স্ত্রীর একান্ত সময়ের মাঝখানে হুট করে উঠে যায় কেউ " মা মনে হয় ডাকছে " বলে । মেয়েটা বোঝে না , হয়ত এখনো বোঝেনি ইনসেস্ট কি জিনিস । সে শুধু জানে , শত অত্যাচার সহ্য করার পরেও স্বামী তাকে ফেলে রেখে চলে গেছে । হাজারটা অপবাদ , অপমান , লাঞ্ছনা ... অবশেষে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেলে আসা এবং ডিভোর্স ।

সুজাতা ২

এমন হাসি খুশি , অসম্ভব রুপসী , ঢাকার নাম ডাক আলা স্কুলের চাকুরি করা মেয়েটা যেদিন বিয়ে করলো , সেদিন আমিও মহাখুশি হয়েছিলাম । কিন্তু কদিন পরেই মেয়েটা কঙ্কাল হয়ে গেলো । তারও পরে ডিভোর্স । জানা গেলো , এক বিবাহিত মহিলার সাথে স্বামীর সম্পর্ক ছিলো । প্রতাপশালী শাশুড়ি , যার হাতে সম্পত্তির প্রায় সবটাই , রাজি না হওয়াতে মেয়েটিকে বিয়ে করে লোকটা । দুইদিন শরীরের নতুনত্বের স্বাদ নিয়ে তারপর শুরু হয় চরম অবহেলা । তারপর সরাসরি স্বীকার , "তোমাকে ভালো লাগে না । কাছে ঘেষবে না । মা মারা গেলেন ক'দিন পর ।" মারা যাওয়ার সাথে সাথে মেয়েটাকে ডিভোর্স ।

সুজাতা ৩

ও ছিলো ক্লাসের সেরা সুন্দরী । তার পিছে আঠার মত লেগে গেলো কলেজের সবচেয়ে বখাটে যুবক। ফুটন্ত তেল থেকে বাঁচাতে তাকে বাপ মা ফেললেন জ্বলন্ত উনুনে । সারা বাংলাদেশ সহ পৃথিবী বিখ্যাত টয়লেট্রিজ কোম্পানির মালিকের ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেলো স্কুলের গন্ডি না পেরোতেই। বিয়ের রাতে বর বাসাতেই ফিরলো না। একা একা বাসর রাত কাটিয়ে সকালে মায়ের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়লো মেয়েটা । আস্তে আস্তে জানা গেলো , শশুর বাড়ির চলটাই এ রকম। সবাই সারাদিন ঘুমায়। সারা রাত পার্টি করে । সেখানে মদ ও মাদকের ছড়াছড়ি । মেয়েটা কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করলো ছেলেটার মাদকাসক্তি ছাড়াতে , বিসর্জন দিলো অনেক কিছুই। অবশেষে না পেরে তালাক নিলো , পরের সপ্তাহেই ছেলেটা আবার বিয়ে করলো । টাকার জোরে ওরা সব কটা ভাই অল্প বয়স্ক গরীব ঘরের মেয়েদের বিয়ে করে আনে । আর তারপর ... ... ...

সুজাতা ৪

এই গল্প অনেকেরই । এরা হাসিমুখে বাজার করে, ঘর সামলায়, চাকরী করে , শশুর শাশুড়ির যত্ন নেয় , ছেলেমেয়ের স্কুলে যায়, আমাকে আপনাকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায় । এদের এই টিপ্টপ , সাজানো সংসারে দাঁড়িয়ে আপনার হিংসে হয় । এরা সবাই সফল স্বামীদের সফল বউ। কেবল আমার মত কিছু আহাম্মকের কেন যেন চোখে পড়েই যায়ঃ পিঠে , গলায় নীল নীল দাগ। অথবা কোন শপিং মলে , রেস্টুরেন্টে " ভাই" কে তার বান্ধবীর সাথে । এদের নাম নিতে নেই । এরা সুখেই আছে ।

[উৎসর্গ ঃ শিরোনামহীন, আইরিন, জয়িতা, আউলা, জেরী , নুশেরা, নাজনীন খলিল, চিটি, সারিয়া, সাতিয়া মুনতাহা, মেঘ সহ সকল নারী ব্লগারদের । আসুন সুজাতাদের কথা জানিয়ে দেই।]

বুক কেটে দেখো মুঠোয় ধরা স্বপ্ন গুলো
বিন্দু বিন্দু রক্তে মেশে স্বপ্নধুলো
মিথ্যে কপট বাসর মনের স্বপ্ন আশায়
বারংবারে ধোকায় মেশে ভালোবাসায়
একটু করে খুন হয়ে যাই জীবন পাতা
স্বচ্ছ থাকে, কেউ চেনে না , কে সুজাতা ?

হঠাৎ খুনের লাশ মিলে যায়, হায় বিধাতা !
তিলে তিলে খুন হয়ে যায় কয় সুজাতা ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৫৯
৩৪টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×