বড়ই দুঃখের বিষয় আমি আপনাদেরকে বই, ডকুমেন্টারী , মুভি , জার্নাল কিছুই রেফারেন্স দিতে পারবো না । আমাকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞগতা থেকেই বলতে হবে। এই সব ঘটনাটা নথিভুক্ত করা যায় নাই , কেন যায় নাই , নিজেই বুঝতে পারবেন।
-------------------------------------
এরশাদ আমল ঃ
আমার আব্বাজান এর জ্বালায় অতিষ্ট হইয়া ( প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিতরে যেই সব হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি হয় , এই ধরেন এক্সপায়ারি ডেট পার হয়ে যাওয়া ফাইটার প্লেন, গুলি , বোমা এইগুলির কেনাকাটার ফাইলে সই না করে উলটা এঙ্কোয়ারি বসানো ইত্যাদি বেয়াদপি) তারে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পোস্টিং দেওয়া হয় ।
কিন্তুক ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। উনি ঐখানে গিয়াও শুরু কইরা দিলেন।
গিয়েই দেখলেন, বিমান বন্দরের সি সি টি ভি ক্যামেরা গুলার সামনে ঢাউস সাইজের দুইটা আলমারি বসানো। এমন ভাবে, যেন , গোয়েন্দা ক্যামেরার যেইটা কাজ, সন্দেহ জনক জিনিস পত্র মনিটর করা , সেইটা দেখাই না যায়!
ধমক মেরে সরালেন সে সব। এই ভাবে নানা জঞ্জাল সরিয়ে শুরু করলেন কাজ।
দ্বিতীয় দিন থেকেই দেখা গেলো, প্রতিদিন টিভিতে দেখা যায় ( ভালো কথা, টিভির ফুটেজে দেখতে পারেন প্রমান) আব্বাজানের দল চোরাচালান ধরে । একদিন সোনা তো আরেকদিন অন্যকিছু। আর আমরা প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে থাকি, কোনদিন শুনবো আব্বাকে কে বা কাহারা শুন শান রাস্তায় গুলি করিয়া দিয়াছে ।
এইরুপ এক দিবসে একখান জবরদস্ত মাল প্লেন হইতে নাযেল হইলেন। তাহার অবৈধ চালান ধরা পড়িয়াছে । কিন্তুক চান্তেকের নাই মনে ডর । সে বীর দর্পে কয়, আমি বেগম এরশাদের লোক , তোমাদিগকে চিবাইয়া খাইয়া ফেলিব। উল্লেখ্য , উনি কাস্টমস এড়াইয়া , যেই পথে সামরিক ট্রাক নিজস্ব মালামাল নিয়া ক্যান্টনমেন্টে যায় , সেই পথে বিমান হইতে সামান নামাইয়া সরাসরি ট্রাক লইয়া গেট দিয়া বাহির হতে যাচ্ছিলেন, আব্বাজান যথা সময়ে থামাইয়া দেন। তাহার হম্বি তম্বি শুনিয়া তাহাকে আব্বার সামনে আনা হয়।
পাস্পোর্ট অনুযায়ী তিনি একটি বিশেষ দূতাবাসের হোমরা চোমরা ব্যক্তি ।
তিনি হুঙ্কার দিয়া উঠেন, খোজ লইয়া দেখো , স্টুপিড ম্যান , এই ট্রাক সামরিক বাহিনীর । প্রাপক বেগম এরশাদ । আমি এক্ষুনি ফার্স্ট লেডিকে ফুন লাগাইবো , তোমরা বুঝিবে কত গমে কত আটা ।
আব্বাজান তাহার অধঃস্তন দুই সৈনিককে নির্দেশ দিলেন, এই বস্তুটিকে হাটাইয়া এয়ারপোর্টের বাইরে রাখিয়া আসো। একবারও যদি পিছন ফিরে তাকানোর চেষ্টা করে, শুট হিম ! চান্তেক কাপিতে কাপিতে প্রস্থান করে । এর পর বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয় , কেউ আর ঐ ট্রাক ভর্তি মাল ক্লেইম করে না । দুই ট্রাকেই প্রচুর " জিনিস" পাওয়া যায়। কাগজে পত্রে বেগম এরশাদের ঘনিষ্ট সহযোগীদের কোম্পানি , লোক জন, কিছু নাম পাওয়া যায় ।
তবে , সেই মামলা পরের দিন সকাল হওয়ার আগেই আব্বা রাতারাতি পোস্টিং , ফ্রম বিমান বন্দর টু প্যাভেলিয়ন। এবং ঢাকাতেও নয়, পত্র পাঠ ঢাকার বাইরে রিপোর্ট করিবার জোরতম আদেশ। অজ্ঞাত কারণে সেই দুইট্রাকের খবর প্রচারিত হয় না। প্রাইভেট কোম্পানির মাল , আর্মির ট্রাক কেমনে গেলো মাল নামাইতে সেই সব হদিস হয় না ।
আমার আব্বাজানের টিভি ক্যারিয়ার পোস্টিং এর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একেবারেই শেষ হইয়া যায়।
--------------------
পুনশ্চ ঃ যারা প্রায়ই ভাবেন , সামরিক কর্মকর্তাদের অল্প বেতনে তাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে পড়ে কি করে , তাদের কারো কারো ব্যাখ্যা এইখানে পাবেন।
আর যাদের মনে আছে , একটা সময় প্রায়ই আমাদের দুরন্ত বৈমানিকরা আকাশ থেকে টুপ্টাপ খসে পড়তেন , সেসনা নিয়ে আর বাপ মাকে অকুল পাথারে ভাসিয়ে চলে যেতেন, সেই সবের একটা ব্যাখ্যা পাইতে পারেন। এয়ারফোর্সের একটা ব্যাচ আছে , যেই ব্যাচের একজন মাত্র বেঁচে আছেন এখন , তাও বাবা মা জোর করে চাকুরী থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন বলে হয়ত।
যারা জানেন না , বাংলাদেশে আরো অনেক জিনিস যেমন খাবার, ওষূধ , মেডিকেল যন্ত্রপাতির মতন সামরিক অস্ত্র সস্ত্রও ( গুলি, বোমা, ইত্যাদি) " অনুদান " হিসেবে আসে । যথারীতি মেয়াদ উত্তীর্ণের কয়েক মাস আগে ।
এই জন্যই কিছু কিছু বোমা কোটি টাকা দিয়ে কেনার পরে লাল রঙ মেখে সামরিক অফিসের বাগানে শোভা বর্ধন করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



