somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুট হিম! ( এডিটেড) ( রম্য কিন্তু সত্য ঘটনা)

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড়ই দুঃখের বিষয় আমি আপনাদেরকে বই, ডকুমেন্টারী , মুভি , জার্নাল কিছুই রেফারেন্স দিতে পারবো না । আমাকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞগতা থেকেই বলতে হবে। এই সব ঘটনাটা নথিভুক্ত করা যায় নাই , কেন যায় নাই , নিজেই বুঝতে পারবেন।
-------------------------------------
এরশাদ আমল ঃ

আমার আব্বাজান এর জ্বালায় অতিষ্ট হইয়া ( প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিতরে যেই সব হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি হয় , এই ধরেন এক্সপায়ারি ডেট পার হয়ে যাওয়া ফাইটার প্লেন, গুলি , বোমা এইগুলির কেনাকাটার ফাইলে সই না করে উলটা এঙ্কোয়ারি বসানো ইত্যাদি বেয়াদপি) তারে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পোস্টিং দেওয়া হয় ।

কিন্তুক ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। উনি ঐখানে গিয়াও শুরু কইরা দিলেন।

গিয়েই দেখলেন, বিমান বন্দরের সি সি টি ভি ক্যামেরা গুলার সামনে ঢাউস সাইজের দুইটা আলমারি বসানো। এমন ভাবে, যেন , গোয়েন্দা ক্যামেরার যেইটা কাজ, সন্দেহ জনক জিনিস পত্র মনিটর করা , সেইটা দেখাই না যায়!

ধমক মেরে সরালেন সে সব। এই ভাবে নানা জঞ্জাল সরিয়ে শুরু করলেন কাজ।

দ্বিতীয় দিন থেকেই দেখা গেলো, প্রতিদিন টিভিতে দেখা যায় ( ভালো কথা, টিভির ফুটেজে দেখতে পারেন প্রমান) আব্বাজানের দল চোরাচালান ধরে । একদিন সোনা তো আরেকদিন অন্যকিছু। আর আমরা প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে থাকি, কোনদিন শুনবো আব্বাকে কে বা কাহারা শুন শান রাস্তায় গুলি করিয়া দিয়াছে ।

এইরুপ এক দিবসে একখান জবরদস্ত মাল প্লেন হইতে নাযেল হইলেন। তাহার অবৈধ চালান ধরা পড়িয়াছে । কিন্তুক চান্তেকের নাই মনে ডর । সে বীর দর্পে কয়, আমি বেগম এরশাদের লোক , তোমাদিগকে চিবাইয়া খাইয়া ফেলিব। উল্লেখ্য , উনি কাস্টমস এড়াইয়া , যেই পথে সামরিক ট্রাক নিজস্ব মালামাল নিয়া ক্যান্টনমেন্টে যায় , সেই পথে বিমান হইতে সামান নামাইয়া সরাসরি ট্রাক লইয়া গেট দিয়া বাহির হতে যাচ্ছিলেন, আব্বাজান যথা সময়ে থামাইয়া দেন। তাহার হম্বি তম্বি শুনিয়া তাহাকে আব্বার সামনে আনা হয়।

পাস্পোর্ট অনুযায়ী তিনি একটি বিশেষ দূতাবাসের হোমরা চোমরা ব্যক্তি ।

তিনি হুঙ্কার দিয়া উঠেন, খোজ লইয়া দেখো , স্টুপিড ম্যান , এই ট্রাক সামরিক বাহিনীর । প্রাপক বেগম এরশাদ । আমি এক্ষুনি ফার্স্ট লেডিকে ফুন লাগাইবো , তোমরা বুঝিবে কত গমে কত আটা ।

আব্বাজান তাহার অধঃস্তন দুই সৈনিককে নির্দেশ দিলেন, এই বস্তুটিকে হাটাইয়া এয়ারপোর্টের বাইরে রাখিয়া আসো। একবারও যদি পিছন ফিরে তাকানোর চেষ্টা করে, শুট হিম ! চান্তেক কাপিতে কাপিতে প্রস্থান করে । এর পর বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয় , কেউ আর ঐ ট্রাক ভর্তি মাল ক্লেইম করে না । দুই ট্রাকেই প্রচুর " জিনিস" পাওয়া যায়। কাগজে পত্রে বেগম এরশাদের ঘনিষ্ট সহযোগীদের কোম্পানি , লোক জন, কিছু নাম পাওয়া যায় ।

তবে , সেই মামলা পরের দিন সকাল হওয়ার আগেই আব্বা রাতারাতি পোস্টিং , ফ্রম বিমান বন্দর টু প্যাভেলিয়ন। এবং ঢাকাতেও নয়, পত্র পাঠ ঢাকার বাইরে রিপোর্ট করিবার জোরতম আদেশ। অজ্ঞাত কারণে সেই দুইট্রাকের খবর প্রচারিত হয় না। প্রাইভেট কোম্পানির মাল , আর্মির ট্রাক কেমনে গেলো মাল নামাইতে সেই সব হদিস হয় না ।

আমার আব্বাজানের টিভি ক্যারিয়ার পোস্টিং এর মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একেবারেই শেষ হইয়া যায়।

--------------------

পুনশ্চ ঃ যারা প্রায়ই ভাবেন , সামরিক কর্মকর্তাদের অল্প বেতনে তাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে পড়ে কি করে , তাদের কারো কারো ব্যাখ্যা এইখানে পাবেন।

আর যাদের মনে আছে , একটা সময় প্রায়ই আমাদের দুরন্ত বৈমানিকরা আকাশ থেকে টুপ্টাপ খসে পড়তেন , সেসনা নিয়ে আর বাপ মাকে অকুল পাথারে ভাসিয়ে চলে যেতেন, সেই সবের একটা ব্যাখ্যা পাইতে পারেন। এয়ারফোর্সের একটা ব্যাচ আছে , যেই ব্যাচের একজন মাত্র বেঁচে আছেন এখন , তাও বাবা মা জোর করে চাকুরী থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন বলে হয়ত।

যারা জানেন না , বাংলাদেশে আরো অনেক জিনিস যেমন খাবার, ওষূধ , মেডিকেল যন্ত্রপাতির মতন সামরিক অস্ত্র সস্ত্রও ( গুলি, বোমা, ইত্যাদি) " অনুদান " হিসেবে আসে । যথারীতি মেয়াদ উত্তীর্ণের কয়েক মাস আগে ।

এই জন্যই কিছু কিছু বোমা কোটি টাকা দিয়ে কেনার পরে লাল রঙ মেখে সামরিক অফিসের বাগানে শোভা বর্ধন করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৬
২৭টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×