বর্তমানের বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে , নিউজ মিডিয়াতেও কেউ আর নিরপেক্ষ নেই। সুতরাং, প্রতিদিন বিপরীতমনা পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি দেখে, কার কি স্বার্থ থাকতে পারে - সেই অনুযায়ী যোগ বিয়োগ করে - বুঝে নিতে হয় আসল ঘটনা কি ঘটতে পারে। ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত না থাকলে, এমন কি, উপস্থিত থেকেও , নিজের চোখে দেখে, নিজের কানে শুনেও অনেক সময় ঠাহর করা যায় না আসলে কোথায় , কি, কেন ঘটছে ।
আজকাল মিডিয়ার নিজস্ব স্বার্থ চিন্তা, মালিকের লাভ ক্ষতি, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস, আক্রান্তের ঘুষের টাকা, বিদেশী প্রভুদের বদান্যতা - ইত্যাদি নানা কারণে কিছু মিডিয়া হাইপ তৈরী হয়। হুট করে সে হাইপ পড়ে যেতে কিংবা মোড় ঘুরে যেতেও সময় নেয় না। তার উপরে আমাদের সাংবাদিকেরা স্রেফ খবর দেখিয়ে আর ছবি দেখিয়েই খালাস! খবর বিশ্লেষণের ক্ষমতা বেশির ভাগেরই এখনো শিশুতোষ। ফলে, একই সূত্রে, ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ সালে ঠিক কি ঘটেছিলো- তা ক্রমানুসারে পাওয়া বিরাট ঝামেলার ব্যাপার।
ভয়াবহ খোঁজাখুঁজি করেও একটা নিরপেক্ষ এবং পরিপূর্ণ নিউজ ক্লিপ পাইনি। একদিকে জামাতের তৈরী কান্নাকাটি ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ ভিডিও, অন্যদিকে আওয়ামী প্রোপাগান্ডা! ফলে, সব পক্ষের ভিডিও দেখে নিজের বিদ্যা , বুদ্ধি দিয়ে প্লাস মাইনাস করাটাই শ্রেয় মনে হলো। ইউ টিউবে জামাত আর ছাত্রদলের লোকজনের ছড়ানো ভিডিওই বেশি চোখে পড়লো। বিপরীতে লীগের কর্মকান্ড কম। তবে , নিরপেক্ষ একটাও নাই। যেমন নাই- একটা দুর্লভ ক্লিপ যেইটাতে গণপিটুনি শুরুর ঠিক আগে আগে একটা ছেলের হাতে পিস্তল ও তার শুটিং একশন। মূলত, গুলি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পরেই ছেলেটাকে মারতে শুরু করে লোকজন। এই ক্লিপ্টা নিজের চোখে দেখেছি টিভিতে, এখন ইউ টিউবে আর খুঁজে পাইলাম না।
যা হোক, নিচে দুই পক্ষের প্রপাগান্ডাই দেখুন। একটাকেও পুরা বিশ্বাস কইরেন না , কারণ এরা কেউই নিরস্ত্র ছিলো না সেইদিন এবং কেউই ধোয়া তুলশী পাতা না। ক্যাডার আর অস্ত্র- দুই পক্ষেই ছিলো। তবে, জামাত ইংরেজিতে ভিডিও বানাইলো কেন, এইটা একটা প্রশ্ন!
লীগের ভিডিও
জামাতের ভিডিও
জামাতের ভিডিও (ইংরেজি, মনে হয় বিদেশে প্রচারের জন্য)
২০০৬ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে স্পষ্টই দুইটা পক্ষ - একটা লীগ , অন্যটা বি এন পি -জামাত । এখন দুই পক্ষের ভিডিও দেখার সময় শত্রু পক্ষ নিয়ে যা বলছে তা বিশ্বাস করবেন, নিজেদের পক্ষে যা বলছে তা বাদ দিবেন।
এইবার নিজের কিছু বিদ্যা, বুদ্ধি, গবেষণা, ইতিহাস পাঠ খাটাইবেন। শেষে গিয়ে আশা করি মোটামুটি সারাংশ বের করতে পারবেন।
বোনাস হিসেবে , নিলয় সোবহানের চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দুর্লভ ভিডিও, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে -পরে জামাত বি এন পি ক্যাডারদের দ্বারা সংখ্যালঘু ধর্ষণ-নিধন ভিডিও দেখতে পারেন। ঐ সময়ে লালন শিল্পী ফরিদা পারভীন ফরিদপুর থেকে ঢাকা ফিরে আমার নিজের একটা পারিবারিক অনূষ্ঠানে দাঁড়িয়ে চোখ ছল ছল করে বলেছিলেন, "গান করতে বলবেন না। যা দেখে এসেছি, আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না।" হিন্দু নির্যাতনের প্রমাণ সচক্ষে দেখে এসে ফরিদা আপা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এইটুকুই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





