somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাবমেরিন-পানির নিচে দৈত্য!( পর্ব-২)

৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বর্তমানের সাবমেরিন গুলো সাধারণত চুরুট আকৃতির হয়! প্রথম দিকে সাব-মেরিনে যে ডিসাইন দেখা যেতো-তা হলো "teardrop hull"(হাল হলো জাহাজের সাধারন কন্সট্রাকসন ডিসাইন)! এই ধরনের হালের জন্য পানির নিচে পানির টান টা অনেক কম অনুভূতো হয়! চালোনাশক্তির সীমাবদ্ধতার কারোণে প্রথম দিকের সাবমেরিন গুলো পানির নিচের চেয়ে উপরেই বেশি চলতো এবং এর স্পিড অনেক কম ছিলো!
বর্তমানে হাল ডিসাইন অনেক উন্নতমানের এবং সাবমেরিনের চারপাশে এক ধরণের লেয়ার থাকে যা শব্দ শোষণ করে নেয় ফলে এর অবস্থান অত সহজে নির্ণয় করা যায়না! কেনোনা পানির নিচে শব্দ তৈরী করেই কিন্তু পানির নিচের যেকোনো বস্তুর অবস্থা নির্ণয় করা যায়! শব্দটা যখন পানির নিচে কোনো বস্তু পেয়ে তাতে বাধা পেয়ে ফিরে আসে তখনি বোঝা যায় কোনো বস্তুর উপস্থিতি! কাজেই এই শব্দ যদি ফিরে না যায় তাহোলে তো আর কেঊ বুঝবেইনা যে সামনে কিছুর উপস্থিতি বিদ্যমান!



সাবমেরিনের প্রপেলার যতটা সম্ভব পাতলা করা হয় যাতে করে তা অনেক কম শব্দ উতপন্ন করে এবং অনেক বেশি বেগ পেতে পারে! এ কারোনে প্রপেলার তৈরীতে সাধারনত বেরিলিয়াম ব্রোঞ্জ ব্যবহার করা হয়! এর বৈশিস্ট হলো-এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি,অনেক বেশি তাপ আর ধাক্কা সহ্য করতে পারে!



সাবমেরিনের উপরে যে টাওয়ার থাকে ওটাই কিন্তু কন্ট্রোল রুম! আপনার নিশ্চয় লঞ্চে দেখেছেন-লঞ্চের উপরে একটা দন্ড অনেক উচু পর্যন্ত বিস্তৃতো থাকে-একে বলে মাস্ট! সাবমেরিনে কন্ট্রোল টাওয়ারের উপরে এরকম মাস্ট আছে যাতে রেডিও,রাডার ও ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থা আছে! এরি মাধ্যমে সাবমেরিন বন্দর বা অন্য কোনো জাহাজের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে! রাডার এর মাধ্যমে সাবমেরিন বিমান বা জাহাজের অবস্থান সনাক্ত করতে পারে!



প্রথম দিকে সাবমেরিন গুলো স্টীম ইঞ্জিন চালিতো ছিলো! পরে এতে ডিসেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়! বর্তমানে সাবমেরিন গুলো নিউক্লিয়ার শক্তিতে চলে! কিন্তু এটা অনেক বেশি ব্য্যবহুল! তাই ছোটো সাবমেরিন গুলো এখোনো ডিসেল-ইলেক্ট্রিক পাওয়ারে চলে!

সাবমেরিনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন অংশ হলো –আধুনিক সমরাস্ত্র টর্পেডো যা সয়ংক্রীয়ো ভাবে শত্রু সেনার জাহাজে আঘাত হানে! একটি সাবমেরিনে ২০-২৫টি টর্পেডো থাকে! এছাড়া বর্তমানের সাবমেরিন গুলোতে থাকে ক্রুস-মিসাইল! আর মিসাইলের ক্ষমতা তো আপনারা জানেন ই! আগে এই মিসাইল উতক্ষেপনের জিন্য সাবমেরিনের পানির উপরে থাকতে হতো! কিন্তু বর্তমানের সাবমেরিন পানিতে নিমজ্জিতো অবস্থায় ই মিসাইল উতক্ষেপন করতে পারে! এছাড়া ব্যালাস্টিক মিসাইল ও সাবমেরিনে থাকে! বর্তমানে জার্মানী এক ধরনের সাবমেরিন তৈরী করছে যা মিসাইল দিয়ে ASW helicopters কে আঘাত হানতে সক্ষম!



একটি বড় ধরনের সাবমেরিনে ৮০ জন এর মত ক্রু থাকতে পারে! যদিও অধিকাংশ নেভী সাবমেরিনে মেয়ে ক্রু নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে! তবে ১৯৮৫ সালে রয়াল নরোয়েন নেভী সাবমেরিনে নারী ক্রু নিয়োগ দেয়! এর পরে অনেক ক্রু ই নারী ছিলেন! তার মানে,নারীদের বিচরণ এখানেও!

সাবমেরিন নিয়ে তো অনেক কথা হলো-এবার একটা বিস্ময়কর তথ্য দিইঃ বাংলাদেশে বাসের মত সাবমেরিনে কিন্তু মুখোমুখি সংঘর্ষ ও হয়! ২০০৯ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে দুটি সাবমেরিন-HMS Vanguard এবং Le Triomphant এর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিলো পানিতে নিমোজ্জিতো অবস্থায়! দুটো সাবমেরিন ই ছিলো-nuclear-powered ballistic missile submarines! এ দুটো ছিলো স্কটল্যান্ড ও ফ্রাঞ্চের! অবশ্য তেমন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি!




প্রথম পর্বঃ
সাবমেরিন-পানির নিচের দৈত্য!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:২৫
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×