সরকার চলছে সন্দেহ আর অভিযোগের ওপর ভর করে। সরকারের সন্দেহ আর অভিযোগের মাশুল দিচ্ছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে খোদ রাষ্ট্র। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গত এক বছরে সরকার ও সরকারি দল দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হয়রানি করেছে। সরকার সমর্থক সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল তাদের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করেছে। বহু লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অতীতে সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। বর্তমান সরকার তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে। মন্ত্রী কিংবা সরকারি দলের লোকরা সংসদে কিংবা প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযোগ এনে অথবা ‘রিমান্ডে নাম এসেছে’—এ অজুহাতে যখন তখন যাকে তাকে অহরহ দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করছে। কখনও মিডিয়া ট্রায়াল চলছে আবার কখনও মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে এসব জায়েজ হলেও সরকার কিংবা সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে যখন একই ধরনের অভিযোগ আসছে, তখন এ নিয়ে শোরগোল বাধিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোনো ঘটনা ঘটলে বা ঘটার আগেই সরকারের তরফ থেকে কোনো মন্ত্রী, এমপি বা নেতা সন্দেহের তীর ছুড়ে দিচ্ছেন তাদের ইচ্ছেমত কারও দিকে। হুলস্থুল বাধিয়ে গ্রেফতার-নির্যাতন চালিয়ে কোনো এক পর্যায়ে এসে বলছেন, এটা ঠিক নয়, আমাদের ভুল হয়ে গেছে।
বগুড়ার উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নাম আসার পরই সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি দল সংসদে নিয়মবহির্ভূত চিকিত্সা ব্যয়সহ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আসে। এরপরই তদন্তের নামে আরও দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবেক চিফ হুইপ ও বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দোলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মাসের পর মাস ধরে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সংসদ ও সংসদের বাইরে প্রচারণা চালান। চলে তাদের মিডিয়া ট্রায়াল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে জঙ্গিতত্ত্ব প্রচার, পরে বিএনপি ও বিরোধী দলকে জড়িয়ে নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুসহ অনেককে গ্রেফতার করা হয়। ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর বোমা হামলার চেষ্টার পর সরকার সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ৪ মাসের শিশুকন্যাসহ মেহনাজ রশীদ এবং আরও অনেককে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে এক পর্যায়ে বলা হয়, সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। মাঝখানে তাপসের ওপর হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে সংসদে ধিক্কার প্রস্তাবও গ্রহণ করেছে সরকারি দল। এ ঘটনায় বিএনপিকেও দায়ী করে প্রচারণা চলে। এখন আবার পুরো বিষয়টি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। তদন্তের আর কোনো অগ্রগতির খবর জানানো হচ্ছে না। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সরকার এনএসআইয়ের মহাপরিচালক ও ডিজিএফআইয়ের পরিচালককে দিনের পর দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু এতদিনেও এসব ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে মুফতি হারুনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে বলা হয়, এরা পকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। রিমান্ডেও নেয়া হয় তাদের। কিছুদিন পর পুলিশ কমিশনার বললেন, তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে কারাগার থেকে তারা মুক্তিও পান। আবার তাদের আটক করা হয়। তবে কোনো কারণ বলা হয়নি। এখন বিষয়টি চাপা পড়ে আছে। এর আগে ভোলায় গ্রিন ক্রিসেন্ট নামে লন্ডন প্রবাসীর মালিকানাধীন এক এনজিও অফিস থেকে জঙ্গি ধরা ও অস্ত্র উদ্ধারের কাহিনী সরকারের পক্ষ থেকে ফলাও করে প্রচার করা হয়। এনজিওর মালিক ড. ফয়সালকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর অনুসন্ধানে ভিন্ন খবর বেরিয়ে এলে এ ঘটনাটিও চাপা পড়ে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু নজির রয়েছে গত এক বছরে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর এবং তারেক রহমানকে জড়ানোর চেষ্টা, আগে থেকেই বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে ওই মামলায় জড়িয়ে দিনের পর দিন রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জরুরি সরকারের দু’বছর ও বর্তমান সরকারের এক বছরে বহু তদন্ত পরিচালনা করে এখনও দুর্নীতির কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। অথচ সর্বশেষ সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে তাকে দুর্নীতির প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন। হাইকোর্টের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দৈনিক আমার দেশ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছে। এর আগে জ্বালানি উপদেষ্টাও বলেছেন, কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এভাবে আমার দেশ-এর রিপোর্ট করা ঠিক হয়নি।
আমার দেশ পত্রিকায় ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত তৌফিক-ই-এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ শিরোনামে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তা তো কেবল কারও মৌখিক অভিযোগ কিংবা মুখের কথার ওপর ভিত্তি করে করা হয়নি। ওই রিপোর্টে বিনা টেন্ডারে শেভরনকে ৩৭০ কোটি টাকায় কম্প্রেসার স্থাপনের কাজ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। যা জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। মুচাইতে কম্প্রেসার স্থাপনের যে প্রয়োজন ছিল না, কাগজপত্রে সেটাও আজ প্রতিষ্ঠিত। ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেছেন পেট্রোবাংলারই একজন কর্মচারী। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় চিঠি চালাচালি করেছে। এসব চিঠির সূত্র ধরেই রিপোর্ট করা হয়েছে আমার দেশ-এ। জ্বালানি সচিবের বক্তব্যও ছিল প্রতিবেদনে। একাধিক সম্পাদক ও আইনজীবী সুস্পষ্টভাবে রিপোর্টটি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, এ জাতীয় একটি খবর ও কাগজপত্র কোনো রিপোর্টারের হাতে পৌঁছার পর যেসব নিয়ম মেনে রিপোর্ট করতে হয়, আমার দেশ প্রকাশিত রিপোর্টের ক্ষেত্রে তার পুরোটাই মানা হয়েছে। এসব মানা হয়েছে কি হয়নি, তা দেখার জন্য প্রেস কাউন্সিল রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সেখানে যেতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে হামলা-মামলার পথ বেছে নিয়েছেন।
ক্ষমতার এক বছরে সরকার নিজেই যেখানে অভিযোগ আর সন্দেহের ওপর ভর করে অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হয়রানি ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে রেখে রিপোর্ট করার পর সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি দলের নেতাদের মুখে কেবল অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আমার দেশ-এর এরকম রিপোর্ট করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য মানায় না।
জঙ্গি নিয়ে যেভাবে সন্দেহ আর অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছিল সরকারপক্ষ থেকে : সারা দেশ জঙ্গিতে ছেয়ে গেছে বলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বছরের শুরু থেকেই হুলস্থুল বাধিয়ে ফেলেন। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে নির্মম হত্যাযজ্ঞের পর তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, জঙ্গিরা এ কাজ করেছে। এরপর থেকেই পিলখানা ট্র্যাজেডিতে জঙ্গি জড়িত বলে প্রচার চলতেই থাকে। একপর্যায়ে মন্ত্রী স্বীকার করলেন, তিনি কোনো তদন্ত সূত্রে বিষয়টি জানেননি, সেটা ছিল তার নিজস্ব সূত্রে পাওয়া খবর। সেটা ঠিক ছিল না বলে স্বীকার করেন তিনি। এরপরই বিএনপির দিকে তীর ছুড়ে দেয়া হয়। জেলে পুরে দেয়া হয় বিএনপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুকে। মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি নাকি বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। অথচ সরকারি তদন্ত ও সেনাতদন্তে স্পষ্ট করেই বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীর বাড়িতেই বিদ্রোহের আগে একাধিক বৈঠক হয়। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী, এমপিদের সঙ্গে বিদ্রোহের আগে বিডিআর জওয়ানরা একাধিক বৈঠক করেন। এমনকি কিলিংয়ে জড়িত বিডিআর জওয়ানদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনের আগে বৈঠকের বিষয়টিও তদন্তে বেরিয়ে আসে। সরকারি তদন্ত রিপোর্ট আংশিক প্রকাশ করা হলেও সেনা তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। পত্রিকায় এ সংক্রান্ত খবর ছাপা হলেও সংশ্লিষ্টরা এর কোনো জবাব দিতে পারেননি। এ নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখির এক পর্যায়ে পিলখানার হত্যাযজ্ঞ তদন্তে নিয়োজিত সংস্থা সিআইডি সরকারি দলের নেতাদেরও ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ব্যারিস্টার তাপসের ওপর হামলা নিয়ে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়েছিল সরকার : আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ওপর গত নভেম্বরে বোমা হামলার চেষ্টার পর তাত্ক্ষণিকভাবেই সরকারি দল এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িতদের আত্মীয়স্বজন সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তোলে। গ্রেফতার করা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর শরীফুল হক ডালিমের ভাই বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হুদা স্বপন বীর প্রতীককে। পরদিনই ৪ মাসের শিশুকন্যাসহ আটক করা হয় খন্দকার আবদুর রশীদের মেয়ে মেহনাজ রশীদকে। ৪ মাসের শিশুসহ তিন দফায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এভাবে মেজর বজলুল হুদার চাচাতো ভাই হওয়ার অভিযোগে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে আসা হয় দু’জনকে। ক’দিন পরই সরকারের নেতারা বলেন, তাপসের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত জড়িত। ব্যারিস্টার তাপস বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলতে থাকেন, বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। যদিও শুনানি কিংবা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানিতে ব্যারিস্টার তাপস কোনো বক্তব্য রাখেননি আদালতে।
সাবেক স্পিকারকে হেনস্তা : বগুড়ার উপনির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন জেনে সাবেক স্পিকার প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে শুরু করে সরকার। পরে এ অভিযোগের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী এবং সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। স্রেফ সরকারি দলের কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতারা প্রায় ৬ মাস ধরে নানা কটু মন্তব্য করেছেন। তাদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এক পর্যায়ে অনেকটা জোর করে তাদের সংসদ সদস্যপদ কেড়ে নেয়ারও চেষ্টা চলে। যদিও তাদের নামে কোনো দুর্নীতির মামলা কোনো আদালত কিংবা দুদক চালু করেনি।
সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানদের হয়রানি : ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজাকুল হায়দার ও এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমএ রহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতেই। তারা এখনও কারাগারেই আছেন।
আমার দেশ পত্রিকায় ১৭ ডিসেম্বর তৌফিক-ই-এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ শিরোনামে খবর ছাপা হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা সরকারের একটি মন্ত্রণালয় ও তার অধীন প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালি হয়েছে। এ অবস্থায় একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আমার দেশে এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে জ্বালানি উপদেষ্টা অভিযোগের সুরে বলেছেন, এক ব্যক্তির অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এতবড় খবর ছাপা ঠিক হয়নি। এরই মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবাদপত্রেই স্বীকার করে নিয়েছে, কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কম্প্রেসার স্থাপন করা হয়েছে। খোদ পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট পরিচালকই চিঠি দিয়ে ও মিটিংয়ে মুচাইতে কম্প্রেসার স্থাপনের প্রয়োজন ছিল না বলে জানিয়েছেন। বিনা টেন্ডারে কাজ কিংবা প্রয়োজন ছাড়াই ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পৃক্ততা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া ঘুষের অভিযোগ এসেছে লিখিতভাবে পেট্রোবাংলার কর্মচারীদের পক্ষ থেকে। এটাকে আমলে নিয়ে খোদ সরকারই তদন্ত করছে। বিষয়টি সেনসেটিভ ও উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা জড়িত বলে পেট্রোবাংলা নিজে তদন্ত না করে মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছে।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


