সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অথবা কোনো শিক্ষক নন, বরং তাদের পরিবর্তে তা নিরীক্ষণ করেন বোর্ডের সাধারণ কর্মচারী ও পিয়নরা। গতকাল রোববার শিক্ষা
বোর্ডের উপশহর অফিসে গিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খাতা কর্মচারী ও পিয়নদের নিরীক্ষণ করতে দেখা গেছে। গত দুই বছর ধরে বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক খাতা এভাবেই নিরীক্ষণ করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক কর্মচারী জানিয়েছেন।
তিনি জানান, নিরীক্ষণ বিলের টাকা উত্তোলন করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। গত দুই বছরে
অনুষ্ঠিত ৪টি পরীক্ষায় নিরীক্ষণ বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে ওই কর্মচারী জানান। ওই টাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। বাটোয়ারার একটি ছোট অংশ দেওয়া হয় নিরীক্ষণকারী কর্মচারী ও পিয়নদের। অথচ নিয়ম অনুযায়ী খাতা নিরীক্ষণ করতে কলেজ অধ্যাপক ও স্কুল শিক্ষক নিয়োগ করার বিধান রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের খাতা নিরীক্ষণ করতেন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকরা। এ জন্য তারা এইচএসসির ব্যবহারিক প্রতি খাতার জন্য দেড় টাকা ও এসএসসির খাতা নিরীক্ষণের জন্য ১ টাকা করে পেতেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মনির উদ্দিন কর্মচারী-পিয়নদের মাধ্যমে খাতা নিরীক্ষণ করে আসছেন।
সূত্র মতে, ২০০৮ সালে এসএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় অংশ নেয় ৭৮০৩ জন পরীক্ষার্থী। ওই বছর ৪টি ব্যবহারিক খাতার নিরীক্ষণ বাবদ বিল উত্তোলন করা হয় প্রায় ৩১ হাজার টাকা। একই বছর এইচএসসিতে বিজ্ঞান শাখায় অংশ নেয় ৩ হাজার ৯৩৪ জন পরীক্ষার্থী। তাদের ৬টি ব্যবহারিক খাতার নিরীক্ষণ বাবদ বিল তোলা হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ২০০৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষণ বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা বিল তোলা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষণ কাজ গতকাল রোববার সম্পন্ন করা হয়েছে। ৪/৫ দিনের মধ্যে খাতা অনুপাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে দেখা গেছে, এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষণ করছেন কর্মচারী আজগর আলী কাজী, নুরুল ইসলাম ও এমএলএসএস রাজেন্দ্র দেবনাথ।
জানা গেছে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চাইলে শিক্ষক নিয়োগ না করে তিনি নিজে খাতা নিরীক্ষণ করতে পারেন। তবে শিক্ষকরা মনে করছেন, তার পক্ষে এত খাতা দেখা সম্ভব নয়। তাই ভুল এড়াতে শিক্ষক নিয়োগ করে খাতা নিরীক্ষণ করানো উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, কাজটি সাধারণ মনে হলেও তা অনেক গুরুত্ব বহন করে। কারণ নিরীক্ষণে ভুল হলে একজন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মনির উদ্দিন সমকালকে জানান, 'কর্মচারী নয় আমার সহকর্মীদের নিয়ে আমি নিজে নিরীক্ষণ করছি।' শিক্ষক নিয়োগ করে নিরীক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'শিক্ষক নিয়োগের বিধান থাকলেও নির্ভুলভাবে করতে নিরীক্ষণের কাজ আমরা নিজেরাই করে থাকি।'
সংগ্রহঃ দৈনিক সমকাল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



