![]()
১৭৫৭ সাল পর্যন্ত যদি মুঘল আমল ধরি তাহলে বাংলার তিনটি রাজধানীর মধ্যে ঢাকা প্রাচীনতম। ১৬১০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ইসলাম খাঁ বাংলার পরাক্রমশালী রাজাদের দমনের জন্য পদার্পণ করেন ঢাকায় এবং এখানেই স্থাপন করেন রজাধানী। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে শহরের নামকরণ করেন তিনি 'জাহাঙ্গীর নগর'। তবে সাধারণ মানুষ ঢাকা নামটিই ব্যবহার করত সবচেয়ে বেশি। ঢাকা একটি প্রাচীন জনপদ। তবে রাজধানী হিসেবে মুঘল আমলেই জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং নগর হিসেবে ঢাকার বিকাশ শুরু হয় তখন থেকেই। ঢাকার পুরনো ইতিহাস গৌরবময়। ঢাকার মধ্যেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অনেক অট্টালিকা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল-কলেজসহ অনেক কিছু।
বর্তমান শহীদুল্লাহ হল এলাকা পরিচিত ছিল বাগ-ই-মুসা খাঁ নামে। হাকিম হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বাগানটিকে মুসলমানদের বাগান বলা হতো। মুসা খাঁ ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈসা খাঁর পুত্র। শুধু তাই নয়, ধারণা করা হয় ঈসা খাঁর পুত্র নবাবপুরের কাছে মুনওয়ার খাঁর বাজার বসিয়ে ছিলেন। সুবেদার ইসলাম খাঁর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বন্দি হয়েছিলেন মুসা খাঁ কিন্তু ইসলাম খাঁ সদয় ব্যবহার করেছিলেন তার সঙ্গে। বর্তমান শহীদুল্লাহ হলের পাশেই মুসা খাঁর মসজিদ। হাকিম হাবিবুর মনে করেন, এটি মুসা খাঁর তৈরি। কিন্তু মসজিদটির স্থাপত্যরীতি দেখে অনেকেই মনে করেন, শায়েস্তা খানী রীতিতে নির্মিত মসজিদটি আসলে নির্মাণ করেছিলেন মুসা খাঁর পুত্র দিওয়ান মুনওয়ার খান। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর মসজিদটি নির্মিত করা হয়েছে। মসজিদটির পাশেই সমাহিত আছে মুসা খাঁ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


