somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পূর্নিমার রাতে আশি জনের জন্য বার-বি-কিউ !!!

২০ শে মে, ২০১১ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশি জনের জন্য বার-বি-কিউ !!! এত বড় রিস্ক নেয়াটা কি ঠিক ? আগে তো এত বড় আয়োজন করেনি ভ্রমণ বাংলাদেশ । তাই একটা ভয় কাজ করছিল । সাথে কয়েকজনের ভয় জাগানিয়া কথা বার্তা ।
যাক হোক " ইতিবাচক চিন্তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনে " --এই ধারনা কে সঙ্গী করে নিলাম একটা রিক্স ।
থাকার জায়গার সমস্যা ছিল সবচাইতে বেশি । সাভারে করার কথা ছিল বার বি কিউ এর আয়োজন । ইভেন্ট দেয়ার পর থেকে এক এক করে যখন বন্ধুদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো । তখন জায়গাটা ছোট হ্ওয়াতে বাতিল করতে হলো সাভারের প্লান ।
জায়গা সংকট, বিপদে পড়লাম ! আল্লাহর রহমতে আফতাব ভাই আর এনায়েত ভাই এগিয়ে এল । জায়গাটা দেখবো, বলতেই রাজি হলেন এনায়েত ভাই । একদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় কল দিয়ে বললেন চল । লালবাগ মোড়-এ- শহীদ মাজারে জড় হলাম আমি , শহীদ ভাই এনায়েত ভাই আর আফতাব ভাই । তাদের মেঘনার তৈরি সাইকেল দেখে আমি তো মুগ্ধ । তাদের চমৎকার সাইকেলের সাথে আমার ভালবাসার সাইকেলটা কেমন যেন লাগছিল । সাইকেলে প্যাডেল ঘুরালাম । রওনা হলাম জিপিও জিরো পয়েন্ট থেকে ঠিক পনের কিমি দূরে রাজাবাড়ির বাঘাশুর গ্রামের উদ্দেশ্যে ।
চকবাজার দিয়ে সোয়ারীঘাট এরপর নদী পার হয়ে বাঘাসুরের পথে । প্রথমেই আমরা গেলাম মাঠা, মাখন আর ছানার দোকানে । খেলাম সব রকম আইটেম । খাওয়া শেষ করে আবার পথ চলা শুরু । এবার দেখা পেলাম চিতই পিঠার । খাওয়ার লোভ সামলাতে পারল না কেউ । নিলাম অনেক পিঠা আর ডাল খাব এনায়েত ভাইয়ের বাসায় বসে ।
মাঠ আর গ্রামের আকাঁবাঁকা পথে কিছু গাছ আছে । চমৎকার জায়গা । চলার পথটি ছিল সবুজ আর সবুজে ঘেরা । একটা সমস্যা ছিল কোথা্ও নদী বা পানির দেখা পাই নি । নদী মাতৃক বাংলাদেশ কথাটি কে যে বলেছিল তাকে বকা দিতে ইচ্ছা করছিল ।
কাঁচা পাকা পথ পেরিয়ে এলাম এনায়েত ভাইয়ের বাসায় । মনটা ভাল হয়ে গেল ঠিক কিন্তু যখন মনে পড়ল ৫০ জনের জন্য মাত্র একটি টয়লেট তখন আতঁকে উঠা ছাড়া করার কিছু ছিল না ।
ডাব খেলাম । পিঠা আর ডাল খেয়ে রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে ।
দুইদিন কেটে গেল । আরো অনুরোধ আসতে লাগলো । মনটাকে মানাতে পারছিলাম না । না বলতে কষ্ট হলেও বলতে বাধ্য হলাম না বললাম প্রায় ৫০ জনকে । যাদের না বলতে পারিনি তাদের সংখ্যা দেখলাম ৮০ জন ।
এবার কি করা যায় ? জানতে চাইলাম আমাদের দলনেতা টুটু ভাইয়ের কাছে । তিনি বললেন চল দেখে আসি জায়গাটা । আবার গেলাম কেরানীগঞ্জে । যাবার পথে দুইবার বাঁচলাম একসিডেন্টের হাত থেকে । দুইবারই রিকসার জন্য দূর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল ।
জায়গাটা টুটু ভাইয়ের পছন্দ হলেও টয়লেটের সমস্যার কথা বললেন । কি করা যায় ভাবতে ভাবতে চলে এলাম ঢাকাতে ।


ছবি দেখুন ---- Click This Link
বা --- http://www.facebook.com/VromonBangladeshpage
আর --- https://www.facebook.com/vromonbangladesh

এবার পালা বার-বি-কিউ রাতে সফল আয়োজনের । আমাদের প্রতিটি ট্যুরে থাকে আমাদের বাবুচি টুলু । যদি মূল কাজটি হলো আমাদের দলনেতা টুটু ভাইয়ের । তার নির্দেশেই সব কাজ করে টুলু । টুলু আমাদের পেলে তার রাতদিন ভুলে যায় ।
১৭ তারিখপূর্নিমা হলেও আমরা রওনা দিলাম ১৬ তারিখ সকালে । কারন ছুটির দিনে সারারাত আর সারাদিন মজা করবো শান্ত সবুজ গ্রামে ।
আমি, মুজাক্কির আর টুলু মিলে রওনা দিলাম সকালে । মুজাক্কির ছিল সবাইকে গাইড করার জন্য । তাই তাকে ঢাকায় পাঠালাম যেন সবাইকে নিয়ে আসতে পারে ।
টুলু আর আমি মিলে গেলাম মুরগীর দোকানে । আগে অর্ডার দেয়া মুরগী মাপলাম আর কাটার নিয়ম দেখিয়ে দিলাম । মুরগী কাটার ফাঁকে গেলাম ডেকরেটরে আর পরটার দোকানে । আমাদের কিচেন সেট দিয়ে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব না । মালামাল অর্ডার দিয়ে দুপুরের খাবার সারলাম রাজাবাড়ির একটি টং হোটেলে । স্বাদহীন গরুর গোশত ।
মুরগী কাটা শেষ হলে গেলাম আমাদের আস্তানায় । আয়োজন করলাম ৮৫ জনের বার-বি-কিউ । মুরগী কেচলো নিজাম উদ্দিন মিজান ভাই, সাইফুল সুমন, আনোয়ার পারভেজ মিলে ।
কিচেন সেট নিয়ে আসলো আবুবকর । এসেই গেল বাজারে লাকড়ি ( কাঠ রান্নার জন্য ) আনতে । আসার সময় নিয়ে এল আম, গুড় আর মরিচ । কাঁচা আমের ভর্তা বানাবে বলে আনা হলো ।
একে একে আসতে লাগলো সবাই । মিসেস (হবু ত্রিভুজ, রাবু, ত্রিভুজের বোনমিলে কাটলো সালাদের উপকরন । )
মসল্লা মিলাতে যেয়ে হাত জ্বলে যেতে লাগলো । উহ কি জ্বালারে । চিনির পানি দিয়ে হাত ভিজিয়ে রাখলাম ।

চুলা ঠিক করলাম । বাসা থাকা এনায়েত ভাইয়ের আত্নীয়দের সহযোগীতায় সবকিছু সহজেই হয়ে গেল ।
বার-বি-কিউ তৈরির সময় দেখা গেল গ্রামের মানুষরা হাজির গান শোনার অপেক্ষায় । তাদের ভুল ভাঙ্গতে কিছুটা সময় লাগলো ।
সবাই এসে গেল । এবার পরিচয় পর্ব বিভিন্ন পেশার মানুষজনের সমাবেশ ।
মজাই লাগলো । মাঝেমাঝে মনে আশংকা দেখা দিচ্ছিল টয়লেটের । কিন্তু কিভাবে যেন সব কিছু ঠিক মত চলছিল । আমাদের বিভিন্ন ট্যুরে যাওয়া কয়েকজন বন্ধু যাদের সবার সাথে দেখা হয় না । তাদের পেয়েতো কয়েকজন মহা খুশি ।
সুমন আর জান্নাত মিলে টুটু ভাই আর টুলুকে সহযোগীতা করতে লাগলো বার-বি-কিউতে ।
খাবার প্রস্তুত । সবার ডাক এল । একে একে লাইন ধরে সবাই খাবার খেল ।
আমি , মুজাক্কির , ফেরদৌস ভাই মিলে তাবু সেট করলাম । নাহিদ , রাবু সহ আরো কয়েকজন দেখলো তা ।
এরপর আড্ডার পালা । নাহিদ গিটার নিয়ে গিয়েছিল সে ধরলো গান । সবাই তার সঙ্গে সুর মেলালো মনে হয় । সারা রাত আড্ডা চললো । চাঁদ মামা আমাদের ভালবাসার আলো দিতে দিতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লো ।
প্রচন্ড গরম ছিল সারারাত । বাতাস নিয়েছিল ছুটি । খেতের মাঝে ছবি তুলছিল তারেক , মুন্না, ফেরদৌস, পাশা সহ আরো কেকে যেন ।

আমার ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিতে বাধ্য হলাম । সারাদিনের ক্লান্তি কিন্তু ঘুমাতে পারলাম না বেশি সময় । মাথায় চিন্তা সকালের নাস্তার । ডালের সাথে মুরগীর গিলা-কলিজি- শশা আর চা ।
নাস্তা শেষে সবাইকে ছুটি দিলাম নদীতে বেড়ানোর জন্য । কেউ কেউ বিদায়ও নিল অফিস আছে বলে ।
নদী দেখে আসার আগেই সব তাবু গুছিয়ে নিলাম সুমন , মুজাক্কির আর আমি মিলে ।
রান্নায় ব্যস্ত টুলু আর তাকে বকা দিয়ে কাজ করাতে করাতে ক্লান্ত টুটু ভাইকে দেখলাম ঘুমাতে গেল । প্লেট ধোয়াতে ব্যস্ত কুয়াশা আর মুজাক্কির । প্রিন্স, অসীম আর তাদের আরেক সঙ্গী বিদায় নিল । খুব খারাপ লাগলো তাদের বিদায়ে ।
আমের ভর্তা বানালো খুকু আপা । যদিও তিনি চলে যেতে চেয়েছিল । সেভেনআপ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে তাকে রেখে দিলাম ।
সবাই আসার আগের কয়েকজনের জন্য গুড়ের শরবতও বানিয়েছিল খুকু আপা ।
খাবার তৈরি হতে হতেই দেখি সবাই চলে এসেছে । সেই সাথে ঘন কালো মেঘ সবুজ গ্রামটিকে করেছে আরো সবুজ ।
খাবারের প্লেট যখন সবার হাতে তখনই নামলো বৃষ্টি । রানা আর খুকু আপা ছাড়া সবাই খাচ্ছে । পোলাউয়ের চালের ভাত, ডাল, গরুর গোস্ত, সালাদ, সব্জী । অসাধারন রান্না ছিল ।
খাবার শেষে এবার ফেরার পালা । আবেগঘন বিদায় দিলাম সবাইকে ।
ডেকোরেটরের বিল দিতে আর ট্যাক্সি আনতে গেলাম বাজারে । সবকিছু মিটমাট করে আমি আর আবুবকর ফিরে এলাম বাসায় । টুলু, মুজাক্কির আর আবুবকর মিলে হেলিকপ্টারে (হুড ছাড়া টু ষ্টোক বেবি ট্যাক্সি ) উঠলো । আর জায়গা না পেয়ে আমি আসলাম আবদুল্লাহপুরে আরেকটি গাড়িতে । এরপর বাবুবাজার নেমে রিক্সায় বাসা ।

মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানালাম আমাদেরকে একটি আনন্দময়, নিরাপদ দিন দেবার জন্য ।

এই ট্যুরের জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা টুটু ভাই, আবুবকর সিদ্দিক,মুজাক্কির , মিজান ভাই, এনায়েত ভাই, আফতাব ভাই, হাবিব ভাই, টুলু (আমাদের বাবুর্চি- যে শুধু টাকার বিনিময়ে না ভালবাসার বিনিময়ে আমাদের জন্য কাজ করে ।), রুমন ভাই (বাঘাসুর), শাহরিয়ার ভাই ও তার বন্ধুরা , ফেরদৌস ভাই ও তার কলিগ, সহ সবাইকে ।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৩৩
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×