somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী দিবসে ব্লগের নারীদের শুভেচ্ছা। সাথে পুরুষদের সম্পর্কে নারীদের সাধারণ কিছু অভিযোগের সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা।

০৮ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা বিবাহিত এবং যারা প্রেম করেছেন/করছেন তারা জানেন পুরুষদের সম্পর্কে নারীরা কিছু সাধারণ অভিযোগ করে থাকে। আসুন অভিযোগগুলো একটু খতিয়ে দেখি:

অভিযোগ ১:
পৃথিবীর সব পুরুষই এক

প্রসঙ্গ: পরিচিত কোন পুরুষ (আপনার সঙ্গীনির মোরাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী) অনৈতিক কোন কাজ করলে এই অভিযোগের অবতারণা করবে।


ব্যাখ্যা: আসলে এই অভিযোগের মাধ্যমে তিনি আপনাকে জানিয়ে দিবেন যে, আপনিও সন্দেহের বাইরে কেউ নন; আপনার স্ট্যাটাস নিরাপদ নয়, বরং অনন্তকাল ধরে আপনাকে ওয়াচে রাখা হবে।অভিযোগটি যে নিতান্তই অযৌক্তিক, সেটা পুরুষরা এমনকি নারীরাও অবগত। পুরুষদের চরিত্রে যেরকম বৈচিত্র্য পাওয়া যায়, নারীদের চরিত্রগত বৈচিত্র্য তার চেয়ে অনেক কম বলেই মনে করি। এই বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে সকল পুরুষেরই অধপতিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।



অভিযোগ ২: পুরুষরা নারীদের মন বুঝতে পারে না

প্রসঙ্গ: এই অভিযোগের জন্য কোন প্রসঙ্গের প্রয়োজন নেই, যেকোন দিন, যেকোন সময়, আপনি কিছু করুন বা না করুন এই অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন।

ব্যাখ্যা:
নারীরা অনেকসময় পুরুষদের কাছ থেকে এমন কিছু আশা করে, যা সে মুখ ফুটে বলতে পারে না। তারা আশা করে আপনি নিজে থেকেই ব্যাপারটা বুঝে নিবেন। এহেন পরিস্থিতিতে আপনি যদি তার মনের ইচ্ছা বুঝতে ব্যর্থ হন, তবে নিশ্চিতভাবেই এই অভিযোগের কবলে পড়বেন। অভিযোগের আসল কারণটা কোনকালেই জানা হবে না।
নারীরা তাদের ইনট্যুশন নামক অতীন্দ্রীয় ক্ষমতা বলে অনেক না বলা কথা বুঝে ফেলে। কিন্তু "পুরুষদের তাদের মত ইনট্যুশন নেই" এই সাধারণ কথাটি বুঝতে নারীরা পুরোপুরি অক্ষম। আমরা অবশ্যই মাইন্ড রিডার নই, আমরা পুরুষ। মুখ ফুটে কিছু চাইলে আমরা ৯৯% ক্ষেত্রেই জীবন দিয়ে সেটা দেয়ার চেষ্টা করি।


অভিযোগ ৩:
পুরুষদের মন সদা পরিবর্তনশীল (আমার গার্লফ্রেন্ড একবার বললো, "পুরুষের মন, আকাশের রঙ!!!" অথচ তার মনের রঙ গভীর-সমূদ্রের স্কুইডদের মত সদা পরিবর্তনশীল।

প্রসঙ্গ: এই অভিযোগটি পূর্বের অভিযোগের সাথে সম্পৃক্ত।স্থান-কাল-অবস্থা নির্বিশেষে এই অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন।

ব্যাখ্যা: ইনট্যুশন যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ভুল হতেই পারে। ধরুন আপনার সঙ্গীনি তার ইনট্যুশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভাবলো, আজকে আপনি আপনার লাল শার্টটি পরে ডেটিং এ যাবেন। কিন্তু আপনি গেলেন নীল শার্টটি পরে। তার অবচেতনে ঢুকে যাবে, আপনিই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। আবার সে জানে আপনি চকোলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম পছন্দ করেন এবং ধারণা করলেন আপনি চকোলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম অর্ডার করবেন। কিন্তু আপনি আজ কি মনে করে ভ্যানিলা অর্ডার করলেন। তার কাছে ব্যাপারটা একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মত। ইনট্যুশনের ওপর অতিরিক্ত আস্থা থেকেই এই ভ্রান্তি। সত্য হলো, সর্বশেষ কবে একজন পুরুষ কোন চিন্তাভাবনা ছাড়া হঠাৎ করে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন, তা প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণার বিষয় হতে পারে।

অভিযোগ ৪: পুরুষরা নারীদের ভোগ্যপন্য হিসেবে দেখে

প্রসঙ্গ: সাধারণত অন্য কোন নারীর সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করলে আপনাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য, কিংবা তার সৌন্দর্য্যের যৌন-ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশংসার সময় আপনার ভালোবাসার খাটিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এই অভিযোগ করা হয়।

ব্যাখ্যা: কৈশোর হতে আশেপাশের পুরুষদের মন্তব্য/আচরণে এধরণের ধারণা হওয়াটা স্বাভাবিক। আপনার অতি ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ সেই ধারণার আগুনে ঘি ঢালবে, এটাও স্বাভাবিক। সঙ্গিনীকে যতবার "তোমাকে খুব হট/সেক্সি লাগছে" বলবেন, তারচেয়ে অন্তত দ্বিগুনবার "তুমি সুন্দর"/ "তোমাকে সুন্দর লাগছে" বলুন, অথবা তার অন্যান্য গুনের প্রশংসা করুন। শুধুমাত্র রূপের কারণে তাকে পছন্দ করেন, এটা কোন আত্মমর্যাদাশীল মেয়ের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। প্রশংসায় ভারসাম্য বজায় রাখুন। আর ভালোবাসার খাটিত্ব নিয়ে নারীদের মনে সদা-সর্বদা সন্দেহ বজায় থাকাটা খুবই প্রাকৃতিক ব্যাপার। আর তার আস্থা বজায় রাখাটা পুরুষদের কর্তব্য।


অভিযোগ ৫
: ছেলেরা আবেগহীন

প্রসঙ্গ: সাধারণত এমন কোন ঘটনা, যেখানে সে অতি-আবেগপ্রবণ হয়েছিল, কিন্তু আপনি কোন আবেগ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেক্ষেত্রে এই বাক্য অবতীর্ণ হতে পারে।

ব্যাখ্যা: পুরুষদের আবেগ নারীদের চেয়ে কম এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। পুরুষরা জিনগত কারণে বা সামাজিকীকরণের কারণে আবেগ প্রকাশে কম পটু হয়। একটি বিয়োগাত্মক সিনেমা দেখে একজন নারীর কান্নাকাটি করা যতটা স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়, একজন পুরুষের কান্নাকাটি করা ততটাই অস্বাভাবিক। ওমেন এন্ড চিল্ড্রেন ক্যান গেট ক্যারিড এওয়ে, বাট মেন ডোন্ট এফোর্ড টু গেট ক্যারিড অ্যাওয়ে।

[আপনারা আর কী কী অভিযোগের সম্মুখীন হন, শেয়ার করতে পারেন]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১:২৪
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×