পৃথিবীতে কিছু লোক জন্মায় নেতৃত্ব দেয়ার জন্য, আর কিছু লোক জন্মায় অন্ধভাবে অনুসরণের জন্য। তবে অধিকাংশ লোকই এই দুই গ্রুপের মাঝামাঝি। আপনি যদি প্রথম গ্রুপের অংশ হয়ে থাকেন, তবে আমার এই সিরিজ পোস্ট আপনার জন্যই। এই সিরিজ পড়ে আপনি কী করে নিজের উদ্দেশ্য/স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অন্য কোন মানুষ বা জনসমষ্টিকে ব্যাবহার করা যায় তা সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
মানুষকে ব্যবহার করতে হলে আপনাকে আপনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে। অতপর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এটি করতে আর কি কি সহায়ক উদ্দেশ্য পূরণ হতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নিন সহায়ক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে কোনগুলো নিজে নিজে অর্জন করবেন আর কোনগুলো অন্যের মাথায় কাঠাল ভেঙে করে নিবেন।
মানুষের কিছু সহজাত প্রবৃত্তি রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে পারি। আমি এগুলোকে ডাকবো 'হাতিয়ার' হিসেবে। আসুন তবে আমাদের হাতে থাকা কিছু 'হাতিয়ার' এর তালিকা দেখে নিই:
১. ভয়: ভয় মানুষের জীবনের অনেক অনেক কাজের পেছনে দায়ী। ভয় তৈরী হয় প্রিয় কিছু হারানোর সম্ভাবনা থেকে। মানুষের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানুন। তারপর সেগুলো যে হারানো সম্ভব এই ধারণা তার মনে ঢুকিয়ে দিন। অতপর আপনার আসল ট্রাম্প-কার্ডটি খেলুন। আপনার মূল উদ্দেশ্যটিকে গোপন রেখে সহায়ক উদ্দেশ্যটিকে আপনার শিকারের ভয় দুরীকরণের উপায় হিসেবে উপস্থাপন করুন।
২. আকাঙ্খা: সকলের জীবনেরই কিছু অপূর্ণ আকাঙ্খা রয়েছে। আপনার সহায়ক উদ্দেশ্যটিকে তার আকাঙ্খা পূরণের পথ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারলেও সে আপনার ফাঁদে পা দেবে।
৩. উগ্র দেশপ্রেম: পরিবার, বন্ধুবান্ধব, নিজের এলাকা, নিজের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্র, স্বীয় ভাষা-সংস্কৃতি বা দেশের প্রতি প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা টান রয়েছে। আর এই সহজাত প্রবৃত্তিটিকেই আমরা অতি সহজে ব্যবহার করতে পারি। এজন্য আমাদের মূল উদ্দেশ্যটিকে আড়ালে রেখে, আমাদের টার্গেট কে দিয়ে যেটুকু কাজ করিয়ে নিতে চাই সেই উদ্দেশ্যটিকে দেশপ্রেমের সাথে মিলিয়ে উপস্থাপন করতে হবে। আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে খুব সহজেই নিজের দল ভারী করা সম্ভব। ধরুন, আপনি উত্তরপাড়ার রাসেলকে একটা শিক্ষা দিতে চান। দক্ষিণপাড়ার বোকাটে কিন্তু বাচাল টাইপের কারো কাছে তার সম্পর্কে কানপড়া দিন। তাকে ব্যবহার করে প্রচার করুন যে রাসেল বলেছে দক্ষিণের লোকেরা একেকটা বদ (বা এরচেয়ে খারাপ কিছু)। ও দক্ষিনপাড়ায় বসবাসকারী মহান জনগোষ্ঠীকে অপমান করছে। এরপর একদিন সুযোগ বুঝে দক্ষিণে রাসেলের সাথে ঝগড়া লাগিয়ে দিন কষে মাইর। দেখবেন লোকেরা অন্যায়ভাবে আপনার পক্ষাবলম্বন করছে।
৪. ধর্মানুভুতি: এটা মানুষের একটি বড় দূর্বলতা। যা কিছু আপনার অপছন্দ বা আপনি যেসকল বিষয়ের প্রসার চান না সেগুলোকে কোন ভাবে ধর্মবিরোধী হিসেবে প্রচার পাইয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। এই সুযোগে কাউকে দুনিয়া থেকে সরিয়েও দিতে পারেন।
৫. ঘৃণা: মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই ঘৃণা করতে ভালোবাসে। কোন না কোন বিষয়কে ঘৃণা করা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর একটি। আগে জানুন আপনার শিকার কী কী বিষয় ঘৃণা করে। তারপর আপনি তাকে আর যেসকল বিষয় ঘৃণা করাতে চান তাকে একই প্যাকেজের অন্তর্ভূক্ত বলে প্রচার করুন। ধরুন আপনি একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা পছন্দ করেন না। আপনি জানেনে যে এই দেশের বেশিরভাগ লোক ধার্মিক। প্রচার করুন যে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে ধর্মহীনতা। একপাল মূর্খ অনুসারী নিমিষেই জুটে যাবে আপনার।
এই সকল কৌশল প্রয়োগ করার জন্য আমাদের আরো কিছু অসচেতন মানুষের সাহায্য লাগবে, যাকে আমি 'মাধ্যম' হিসেবে অভিহিত করবো। আগামি পর্বে সঠিক 'মাধ্যম'দের চেনা এবং ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

