আরব বিশ্বের ধনী দেশগুলো কর্মক্ষেত্র হিসেবে আমাদের শ্রমশক্তির জন্য লোভনীয়। এমনকি দেশের উচ্চশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়াররাও সৌদী আরবে যায় কাজ করার জন্য। আর দরিদ্র জনগোষ্ঠী তো রয়েছেই।
সৌদী আরব বিশ্বের একটি অনন্য দেশ। এই দেশটি অর্থনীতি পুরোপুরি দাঁড়িয়ে আছে তেল বেচার টাকার ওপর। আর নৈতিকতা, মানবিকতা, মানবাধিকারের দিক থেকে দেশটি পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ, এমনকি যুদ্ধবিদ্ধ্বস্ত ফিলিস্তিনের চেয়েও হাজার বছর পিছিয়ে। আমার সহপাঠী ইঞ্জিনিয়াররা যারা সৌদী আরবের স্বেতহস্তী প্রকল্পগুলোতে কাজ করতে গিয়েছিল, তারা প্রায় সকলেই সৌদীদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার। একই পদে কর্মরত ইউরোপীয় বা আরবদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয় মিসকিনদের বেতন-ভাতা-সম্মান সবই কম।
সৌদী আরবে কর্মরত বাংলাদেশী, ইন্দোনেশীয় বা ফিলিপিনো নারীদের জন্য বৈষম্যের চেয়েও বড় সমস্যা যৌন নির্যাতন। সৌদী সমাজ ঘোরতরভাবে পুরুষতান্ত্রিক। তাদের পরিবারে এমনকি প্রতিদিন কি রান্না হবে সেই সিদ্ধান্তও দেয় পুরুষেরা। নারীদের জন্য চিন্তা করাই নিষিদ্ধ। আর গৃহকর্মী ধর্ষণ সৌদি সমাজে গ্রহনযোগ্য বিষয়। তারা মনে করে গৃহকর্মীরা চুক্তিবদ্ধ সময়ের জন্য তাদের দাসী এবং তাদের সাথে যা খুশি করার অধিকার গৃহকর্তার রয়েছে। আইন ব্যাপারটি সমর্থন না করলেও আইনের আশ্রয় পাওয়া আরো দুরুহ ব্যাপার। নারীরা ধর্ষিত হয়ে আইনের আশ্রয় চাইলে তাকে চারজন পুরুষ সাক্ষী যোগাড় করতে হবে যে সে বাঁধা দিয়েছিল, যেটা কার্যত অসম্ভব একটা ব্যাপার। আর তা করতে না পারলে ব্যাভিচারের অভিযোগে বেত্রাঘাত, আর পুরুষ গৃহকর্তা জরিমানা দিয়েই খালাস। তাদের এই মানসিকতার পেছনে রয়েছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা।
সৌদী আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানাচ্ছি। জেনেশুনে তাদের বর্বর অত্যাচারের দিকে ঠেলে দেয়ার কোন মানে হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




