somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজ চোখে দেখা একজনের কষ্ঠ ....।

১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ নিজের চোখে একটা অপরাধ দেখলাম । এটা অপরাধ কিনা আমি ভালো ভাবে বলতে পারতেসি নাহ । জানি যে বাংলাদেশে নিয়মিত এরকম আরো কত ঘটনা যে ঘটছে । কিন্তু নিজ চোখে এরকম একটা ঘটনা । খুব খারাপ লাগল ঐ ঘটনা টা দেখে । আজ সকাল সকাল উঠে কোচিং এ গেলাম । প্রতিদিনের মত সব কিছুই এক রকম যাচ্ছিলো । কোচিং এর সামনে দেখি যে দুই জন মহিলা আর তিন টা বাচ্চা দারায়া আসে । আমি দেইখা মনে করলাম যে কিছু একটা হবে আমার কি । পরে কোচিং এর ভিতরে রুমে গিয়া বসলাম । কিছু ক্ষন পর শুনলাম যে বাহিরে কে যেনো চিল্লা চিল্লি করছে আমি বললাম যে চল দেখে আসি হইসে । বাহিরে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা কাদদেসে । আমি আগে চিন্তা করলাম যে আগে বুঝে নেই যে কাহিনি কি হইসে । পরে দেখি যে একজন মহিলা জোড় করে তার বাচ্চাকে বলতেসে যে যা মা ওনি তোর নতুন মা । তখন কাহিনি টা অল্প অল্প বুঝতে পারলাম । পরে দেখি যে বাচ্চা বলতেসে যে “নাহ মা এইটা কিভাবে হয় তুমিই তো আমার মা উনি আবার কে” । মা বলে চুপ আর একটা কথা বলবি নাহ বললে একবারে কাইট্টা ফালামু চুপচাপ উনার সাথে চইলা যা । বাচ্চা টা দেখতে ফুটফুটে একবারে কচি খুব সুন্দর । তারপর আরেকটা মহিলা বলে যে চল মা চল । আমার সাথে চল আমিতোমার নতুন । বাচ্চা টা বলে যে নাহ তুমি আমার হইতে পারো নাহ । পরে কাহিনি টা বুঝলাম আসলে কি হইসিলো , আমার মনে হয় যে তুমিও কাহিনি টা বুঝতে পারতেসো । কাহিনি টা হচ্ছে যে বাচ্চা টা কে তার মা আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছিলো । আচ্ছা কাহিনি টাকে আগানো যাক । এর পরে দেখি যে বাচ্চা টা কাদতেছিল অনেক । পরে মা পায়ের থেকে যুতা বের করে মেয়েটাকে মারতেছিল । আমি কিছুক্ষন দারায়া ছিলাম চিন্তা করলাম কিছু একটা করব । পরে দেখি যে বাচ্চা টাকে জোর করে রিক্সা দিয়ে উঠায়া নিয়ে যাইতেসিলো আর বাচ্চাটা তখন বলতেসিলো যে মা আমি তোমাকে ছাইরা থাকতে পারুম নাহ .. এই কথাটা শুনার পরে আমার অনেক খারাপ লাগতেসিলো । মহিলা ঐ মারে টাকা দিয়া গেলো । পরে একটু সামনে যাবার পরেই বাচ্চাটা লাফ দিয়া রাস্তার মদ্ধ্যে পরল । ওর মা সাথে সাথে দৌড় দিছিলো গিয়া মেয়েটারে ধইরা বলল যে যা উনার সাথে চুল ধইরা অনেক্ষন টান টানি করল । মেয়েটা তারপরো কাদতেসিলো আর বলতেসিলো যে মা আমি তোমার সাথে থাকুম । পরে দেখি যে আরো অনেক জোরে জোরে মারতেসে । পরে আমি দ্রুত আমার কোচিং এর এক টা বড় ভাইকে গিয়া বললাম যে ভাইয়ে চলেন গিয়া থামাই পরে উনি আর আমি আর আমার কোচিং এর সব ছেলেরা একসাথে গেলাম । যাবার পরে মহিলা কে থামাইলাম । কিন্তু মহিলা তো আর আমাদে বাধ্য নয় উনি আমাদের কে বলল যে “তোমাদের কথায় কি আমার জীবন চলব আমার মেয়েরে আমি যা ইচ্ছা তাই করুম” আমরা আর তখন কিছু বলতে পারলাম নাহ । আমরা পরে চলে আসলাম .. পরে কোচিং এ বসে বসে আমি শুধু একটা জিনিস চিন্তা করলাম যে একজন মায়ের প্রতি তার বাচ্চার কতটা টান । আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে যখন মা টা চলে আসতেসিলো তার চোখ থেকেও পানি পরতেসিলো । কোন দিনই কোন মা তার বাচ্চাকে ছেরে থাকতে পারে নাহ । আর বাচ্চা টার কথা কি বলব , যখন বাচ্চা টা দেখছিলো যে তার মা তাকে অন্য এক জনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছিলো কিন্তু তার পরো সে বলুছে যে আমি তোমারে ছারা থাকতে পারুম নাহ । এই কথা টা শুনে খুব খারাপ লাগল আমার । এক বার চিন্তা করে দেখো । এমন যদি কোন দিন হয় যে তোমার মা তোমাকে সামনা সামনি বলে গেলো যে আমি একবারে চলে যাচ্ছি আর কোন্দিন দেখা হবে নাহ বাবা/মা আমার ... এই কথা টা বললে তোমার কি রকম লাগবে ঐ সময় । পৃথীবিতে মা এর চেয়ে আপন কেও নেই । তবে যখন অর্থের প্রয়োজন হয় তখন কিসের ভালোবাসা কিসের বন্ধুত্ত । এরকম অনেকেই মনে করে কিন্তু জীবনে যদি বন্ধুত্ত আর ভালোবাসাই নাহ থাকে তাহলে এই অর্থ দিয়ে কি লাভ ।
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×