আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধু লিটন। সেইরকম বিখাউজ দেখতে। সুকুমার রায় পাগলাদাশুর যেই বর্ণনা দিছেন, তার কাছাকাছি কিংবা একটু বেশি।
সেই লিটন প্রেমে পড়ল। আমাগো পাশের বাসায় ফাহিমের ভাগ্নি আইছে বেড়াইতে। টেনে পড়ে। থাকে কক্সবাজার। বাপে সেখানকার পুলিশ কর্তা। লিটন দিন নাই, রাত নাই ফাহিমগো বাসার আশপাশ ঘুরে।
একদিন দেখি আমারে পোমায়। ভাই ভালো? আসেন চা খাই। চায়ের পর সিগারেট খাইতে দ্যায়। আমি কিছু বুঝি না। ভাবছি ছোটভাইরা যেমন ছিলায়, ত্যামন ছিলাইবো। হ্যায় দ্যাহি উল্টা ছিল খায়। ক্যামনে কি!
এরপর কয় ভাই আপনে বিকালে ছাদে উঠেন কখন? কইলাম ইচ্ছে হইলেই উঠি, সকাল বিকাল নাই কোনো। কয়, আমি একটু আইলে সমস্যা আছে কোনো? কই, কি করবি আমগো ছাদে? মাথা চুলকায় আর কয় না এমনিই। আমি হাইসা লঘু করার চেষ্টা করি, কি ফিল্ডিং মারবি কারো লগে? ট্যাক্স দিতে হইব। লিটনের মুখে মুরালি ভেটকি। হ ভাই, হ ভাই দিমুনে।
লিটন ছাদে উঠে, কি করে জানি না। একদিন জানলাম। সেইদিন আমি ঘরে ফিরা শুনি মধুর বাশির সুর। উথাল পাথাল। মন খারাপ কইরা দ্যায়। সিড়ি দিয়া উঠি, সুর আরো তীব্র হয়। রাধার মতো কী এক আকর্ষনে আমি সিড়ি বাই। ছাদে ঢুইকা দেখি ঝোলা পাশে রাইখ্যা চক্ষু মুইদা বাশি বাজায় বাশিয়ালা। জটিল মানে জটিল। কিন্তু হালায় টাঙ্কির চিপায় ক্যান।
লিটন কই? দেখি হাতে এক বাশি নিয়া লিটন ো হ্যাভি মাথা দুলাইয়া বাশি বাজাইতাছে। মাগার তার বাশিতে কোনো সুর নাই। হুদাই। (ক্লোজআপহাসি)
আমারে দেইখ্যা বাশিয়ালা পারলে পালায়। বাশি বন্ধ। কিন্তু লিটনের ধ্যান ভাঙে না। সে মাথা দুলায়। আমি পিছে খাড়াইয়া নিচে দেখি ফাহিমের ভাগ্নি, হাসে। আমি ইশারায় কই, ভুয়া। সে পারলে মাটিতে লুটায় হাসতে হাসতে।
এরপর লিটন মহল্লায় আছিল না বহুদিন। যখনই পাড়োশান কিংবা পাশের বাড়ি দেখি। আমার কিশোর কুমার আর সুনীল দত্তর কথা মনে পড়ে। সায়রা বানুরে পটাইতে লিপসিঙ করে সুনীল, পাশে বইসা গান গায় উস্তাদে।
এইটার লগে ছাগুরামের পুস্টের কোনো সম্পর্ক নাই। এইটাভি হুদাই লিখছি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

