somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রস ফায়ার নিয়ে যত বিতর্ক ... আপনি ক্রস ফায়ার এর পক্ষে না বিপক্ষে ?

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে , টিভি চ্যানেল এ দেখা যায় যে কোথাও না কোথাও RAB অথবা পুলিশ এর সাথে ক্রস ফায়ার ফায়ার এ কেউ মারা যাচ্ছে. তারপর সেই একই সাজানো গল্প . কোথাও কোনো সন্ত্রাসী অপরাধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল , তারপর RAB অথবা পুলিশ এর উপস্থিথি টের পেয়ে তারা পুলিশ কে গুলি বর্ষণ করে. পুলিশ পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে ক্রস ফায়ার এ পড়ে সন্ত্রাসী মারা যায় .তারপর সেখানে কিছু অস্র পাওয়া যায়. বাকি সন্ত্রাসী রা পালিয়ে যায়. এই গল্পের লেখক যে কে তা মনে হয় কেউ জানে না. তবে গল্পের লেখক কে অবশ্যই পুরুস্কৃত করা উচিত. কারণ এই গল্পটা বহুল পঠিত এবং প্রচারিত গল্প. যেহেতু লেখক এর নাম অজানা, তাই আপাতত পুরুস্কার দেয়ার কোনো সুযোগ নাই.

যখন কোনো একটা ক্রস ফায়ার ঘটে, তখন মিডিয়া সরব হয়ে উঠে. বিভিন্ন টক শো তে এর বিপক্ষে আলোচনা হয়.মানবাধিকার সংস্থা গুলো সরব হয়ে উঠে. আমাদের দাদা রা ( কারো মনে হয় বুজতে অসুবিধা হবে না এরা করা) সরকার এর উপর চাপ প্রয়োগ করে. কখনো পুলিশ কে , কখনো সরকার কে দোষারোপ করা হয়. সরকার ও তার পক্ষে সাফাই গাইবার চেষ্টা করে. আমরা সাধারণ জনগণ শুধু বোকার মত তাদের কথা শুনি.

মিডিয়া তে যখন ক্রস ফায়ার কে চরম মানবাধিকার লঙ্গন বলে বিভিন্ন মহল চিৎকার শুরু করে, তখন হয়ত অন্য হাজারো লোকের মত আমিও বোকার মত জানতে চেষ্টা করি মানবাধিকার কাকে বলে ? সাধারণ লোক যখন বিভিন্ন সন্ত্রাসীর হাতে মারা যায় তখন কাউকে (মিডিয়া বলেন, মানবাধিকার সংস্থা বলেন, আমাদের দাদা বলেন ) মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে চিত্কার করতে শোনা যায় না. কিংবা মানবাধিকার সংস্থা গুলো আক্রান্ত পরিবার গুলোকে সহানুভুতি ও জানাতে যায় না. যখন ওই একই সন্ত্রাসী ক্রস ফায়ার এ মারা যায় , তখন মানবাধিকার সংস্থা গুলো মানবাধিকার নিয়ে গলা ফাটায়. হায়রে আজব দেশ.

এখন প্রশ্ন হলো ক্রস ফায়ার কে কেন সাধারণ জনগণ সমর্থন করে (অবশ্যই সেটা অপরাধীদের ক্ষেত্রে, যখন সাধারণ জনগণ কে হয়রানি করা হবে বা নিরপরাধ লোকদের কে ক্রস ফায়ার করা হবে তখন তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে ) ? ক্রস ফায়ার কে যে জনগণ সমর্থন করে তার অনেক প্রমান আমরা দেখতে পাই. যার প্রমান হিসেবে দেখা যায় যে যখন কোনো সন্ত্রাসী মারা গেছে মানুষ আনন্দ করেছে, মিষ্টি বিতরণ করেছে. মানুষ কেন আনন্দ করে? যখন সবাই দেখে যে ১৫/২০ টা খুনের আসামী জামিনে বের হয়ে আরো খুন করতেছে. ১০/১৫ টা ডাকাতির আসামী জামিনের বের হয়ে আসতেছে. তখন সাধারণ মানুষ হতাশ হচ্ছে, মানুষ রাগান্নিত হচ্ছে .আর আমাদের দেশ এ সাধারণ জনগনের কথা শোনে কে ? ৫ বছর পরে শুধু একবার শুনে.

বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে হয়ত সাধারণ জনগনের মনে একটা বিরূপ ধারণা আছে. তারা হয়ত পুলিশ কে জনগনের বন্ধু ভাবতে পারছে না. কিন্তু একথা সত্যি যে সব পুলিশ সদস্য কিন্তু দুর্নীতিপরায়ন নয় ( পুলিশের যে বেতন, যে সুযোগ সুবিধা তাতে বর্তমান সমাজে সাধু থাকাটা প্রায় অসম্ভব) . সাধারণ জনগনের মত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরা ও মনে হয় হতাশ. তাই তারা ও ক্রস ফায়ার উদ্বুদ্ধ হচ্ছে. তারা তাদের জীবন বাজি রেখে সন্ত্রাসীদের দরতেছে. আর সন্ত্রাসীরা টাকার জোরে, ক্ষমতার জোরে ( আরো কি কি জোর আসে জানি না ) বের হয়ে আসতেছে. তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ঘুরে (সবাই যে ছাড়া পাচ্ছে তা নয়, তবে বেশিরবাগ ). তখন হয়ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভাবে " সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবেনা ".

আমরা বলতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই - আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করি. আর সভ্য সমাজে ক্রস ফায়ার এর কোনো স্থান নেই. ক্রস ফায়ার নিয়ে বিতর্ক না করে সরকার কে ভাবতে হবে কেন ক্রস ফায়ার হচ্ছে. কোন জায়গায় শুদরানো উচিত. সরকার যদি জেনো ও না জানার ভান করে তা হলে ভিন্ন কথা. তাহলে ক্রস ফায়ার তো বন্ধ হবেই না , বরং দেখা যাবে সাধারণ জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে. কারণ মানুষের যখন আর করার কিছু থাকেনা তখন মানুষ ভালো মন্দ নিয়ে ভাবেনা . আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, অযথা বিতর্কে জড়িয়ে থমকে থাকতে চাই না .
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×