somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেয়ার বাজারে হঠাত এক দিন, এক জুয়াড়ির সাথে দেখা।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেয়ার বাজারে তেমন একটা যাওয়া হয়না, চাকরিতে থাকার কারনে। শেয়ার বাজার যেই টাইমে অফিসও সেই টাইমে, তাই অগ্যতা ফোনে বা বন্ধুর মাধ্যমে হাল্কা পাতলা ক্রয়-বিক্রয় হয়।আমার পুজি অতি ক্ষুদ্র চাকরিই ভরসা আর শেয়ার সাইড ইনকাম। শেয়ার বাজারে জুয়া এবং জুয়ারী বা বাজার খেলোয়াড় দের নিয়ে না না মুখরোচক কথা ও কিংবদন্তির কাহিনী প্রায়ি শোনা যায়। কারো কাছে জুয়ারীরা ভিলেন-শত্রু, কারো কাছে মহানায়ক এবং উন্নতির মহিসোপান, পথ প্রদর্শক। সেইদিন নিজ চোখে একজন জুয়াড়ির সাথে দেখা হলো এবং ঊনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম।আমি বিশেষ প্রয়োজনে ডি,এস,ই তে গিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে, আমার বন্ধু বল্ল আবি(ছদ্দ নাম) এসেছে xxx-নং (ছদ্দ নাম্বার) হাউজে।আমি বললাম সেই নাকি যাকে শেষবার ২০০৭ সালে দেখা গিয়েছিলো? বন্ধু বলল -হ্যা।
ব্লগার গন বলে রাখা ভালো যে, শেয়ার বাজারে একক জুয়াড়িরা সাধারনত দেখা দেয় না। তারা আড়ালে থেকে ব্যাবসা করে যেমন ফোন বা তৃতীয় কোন ব্যাক্তি মাধ্যমে। তাই তাকে দেখার সুজুগ মিস করতে চাইলাম না। বন্ধুকে নিয়ে চলে গেলাম সেই হাউজে। দেখলাম সেখানে একজটলা মানুষ।অনেকে ধাক্কা ধাক্কি করে এসে জানতে চাইছে -“ভাই কোনটা কিনুম?”, “ভাই নেক্সট কোনটা চল্বো?”, “ভাই তার আগে কোনটা কিনুম?”
আমি অনেক কস্ট করে সামনে গিয়ে তার পাশে বসলাম। হাউজটা বড়ই কিন্তু ভীড় বেশী থাকায় অনেকে চলে গেলো আবার নতুন লোক এসে ভরে গেল। কেনা বেচা চালু থাকায় অনেকে চলে যাওয়ার পর উনি আমার দিকে নজর দিলেন। আমি একটু ঘাবড়ে গেলেও সাম্লে নিলাম, সালাম দিয়ে জানতে চাইলাম কেমন আছেন? উনি জিজ্ঞেস করলেম আমি সাংবাদিক কিনা? আমি বললাম না, আমিও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী। উনি মুচকি হাসলেন তার পর আমাকে বললেন -“ বলো কি বলবা?”
স্যার কিছু উপদেশ দেন। উনি একটু অবাক হলেন এবং মুচকি হাসলেন-“আমার কাছেত কেঊ উপদেশ চায় না।”
আমি-“ এই যে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন শেয়ার কিনতে বললেন?”
আবি-“এইটা উপদেশ নয়, ওরা বাজার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। আমি না বল্লেও ওরা শেয়ার কিনবে, আর সব শেয়ারই অতিমুল্যায়িত। তার পরো কিনছে এবং কিনবে।“
আমি-“তাহলে আমি কি করবো?”
আবি-“ দেখো, এই বাজারের অনেক উথান পতন আমি দেখেছি, তুমি তখন শিশু ছিলে। আজকে এত বছর ব্যবসা করছি তারপরো আমি সবকিছু জানতে পারিনি। ওই যে নিউটন বলেছিলোনা-বিশাল সাগরের পাড়ে বালি নিয়ে খেলা করেছি, বিশাল সাগরের কিছুই দেখা হইনাই। ৮৭,৯১,৯৬ সালে বাজারের যেই ভয়ংকর অবস্তা ছিল সেখান থেকে বাজার কিছুটা উন্নত হয়েছে কিন্তু মৌলিকত্ত আগের টাই রয়েগেছে।
আমি- কি ভাবে?
আবি- দেখো, গ্রাম থেকে মফিজ-কুদ্দুচ-রহিম এসে ঢাকা শহর ভরে গেছে।কাজ নেই টাকা নিয়ে শেয়ার বাজারে ঢুকছে, আমাকে আজ শত শত লোক শেয়ার কোনটা কিনবে জিজ্ঞাসা করছে। আমি কোনটা কিনবো বলেছি। ওরা ঝাকে ঝাকে শেয়ার কিনছে। আমি শেয়ার না কিনলেও ওরা নিযেরাই শেয়ারের দাম বাড়িয়ে আকাশে তুল্বে। ওরা ভেবে দেখবে না এই শেয়ারের ভিত্তি ও গুন-মান। এখন এটার দাম ফল(কমে গেলে) করলে ওরাই হায় হায় করবে, এখানে আমার কি দোষ? আমি আমার মতন আমি শেয়ার কিনতে আসছি বেচতে আসছি, অথচ এর জন্য এস ই সি বলবে জুয়ারীরা দায়ী। আমি জুয়া খেল্লাম কই? আমার ক্রয় ক্ষমতা বেশী আমি একটি শেয়ার কিনতে থাকলে দাম বাড়নেই আর আমার কিনার অধিকার আছে। দাম বাড়ার পর আমার বিক্রয় করার অধিকার আছে, যারা বেশী লোভে আরো বেশী শেয়ার কিনে দোষ কার?
আমি- আপনার কথায় যুক্তি আছে।
আবি- দেখো, তুমি বিলিভ করবা না বললে, আমি ফোনে কি শেয়ার কিনেছি সেটাও বাজারে গুজব ছড়িয়ে পরে। আরে ভাই আমিতো সিধান্ত চেঞ্জ ও করতে পারি এটাও তো ভেবে দেখা দরকার। হাউজে কোনটা কিনলাম সেটাও অজানা থাকে না। পাগল দের কিভাবে বোঝাবো? তাই যে যা জানতে চায় বলে দেই।

আমি- এই বাজারে নতুন দের ভবিষ্যত কি?

আবি-ভবিষ্যত খারাপ তা বল্বো না। তবে তোমার মতন শিক্ষিত ছেলেরা আসুক এটাই চাই। তোমাদের ইয়ং জেনারেশনরা বাজার পরিনত হতে সহায়ক হবে। আমি যখন ব্যবসায় নামি তখন বাজার তারল্য ৩০ লক্ষ টাকা ও ছিলো না। হাতে গোনা গুটি কয়েক ব্যবসায়ী শেয়ার ব্যাবসা করতো। আমি মফসল থেকে এসেছিলাম। আমার কাছে মাত্র কয়েক হাজার টাকা ছিলো। ওটাই ছিলো আমার পুজি। কয়েক বার আমি নিঃস হয়ে গেছি, শেষ হয়ে গেছি, কেঊ আমার কোন খবর নেয় নি।আজকে এস ই সির, হম্বি তম্বি দেখে হাসি পায়, তারা নাকি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সার্থ দেখে। বাজারে অসাভাবিক কিছু দেখলেই আমাকে সন্দেহ করে। আমাকে ইশারায় পর্যবেক্ষন করে। আমি বলি আমিও তোমার মতন বিনিয়োগ কারী, তুমি ক্ষুদ্র আর আমি অনেক বৃহত এটাই তফাত।আমার বিশেষ উদ্দশ্য নিয়ে শেয়ার বাড়ানোর কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অথচ এই স্টক এক্সচেঞ্জ এ, এস ই সি র নাকের ডগার অনেক সঙ্ঘবদ্ধ গ্রুপ আছে যারা জুয়া ও বাজার অস্থিতিশীল করে। তাদের খুটির জোর অনেক এবং মুলধন ও অনেক। তদন্ত করলেই সব বেড়িয়ে যাবে। অথচ এস ই সি দেখেও দেখে না। নাকি তারা অই সব জুয়ারীদের থেকে টাকা খায়? প্রশ্ন উঠাই সাভাবিক। এস ই সি লোকজনে সতর্ক করতে পারে, শেয়ার ট্রেনিং একাডেমি করতে পারে কিন্তু তারা কিছুই করতে পারে না।
আমি- আপনি অনেক গুরুত্তপুর্ন কথা বলেছেন।

আবি- দেখো ইফতি, আমি ৯৬ সালে কতো কোটি টাকা লস করেছি তা বিলিভ করবা না, বাংলাদেশের কয়েক ডজন শিল্পপতিও অই টাকা সারা জীবনে কামাতে পারবে না।

আমি-“ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম”

আবি- ৯৬ সালে, অনেকে সব হারিয়ে আত্তহত্যা ও করেছিলো। আমি তার পরো বেচে আছি। আমার পরিবার আমার সন্তানেরা সাপোর্ট করেছে।আমার সব আছে। কনো কিছুই অভাব নেই। আমি ঘুরে দাড়িয়েছি। আমি যদি চাই নতুন ইন্ড্রাস্টী খুলতে পারি কয়েক ডজন, শত শত কোটি টাকা আই পি ও থেকে কামিয়ে নিতে পারি , চাইলেই কম্পানি লোকসানী দেখাতে পারি কাগজে-কলমে। ডিভিদেন্ট ও রাইটশেয়ার না দিয়েও কম্পানি বন্ধ করে দিয়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু আমি কি তা করেছি? প্রয়োজন নাই। কিন্তু এই ঘটনা গুলো বর্তমানে বাংলাদেশেই ঘটছে। এস ই সি র এই বেপারে কোনো মাথা বেথা নাই।
আমি-‘হুমমম’
আবি- আমি এই বাজারে দেখেছি ২কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন, তার পরো দেখেছি বাজার ফল করার কারনে অনেককে ভিক্ষুক হয়ে যেতে, জাস্ট স্ট্রিট বেগার। আবার এও দেখেছি শত কোটি টাকার মালিক বনে যেতে, গাড়ী-বাড়ি, অসীম ধন দৌলত এবং (মুচকি হেসে) সুন্দরী বৌ।
এবার আবি আমাকে প্রশ্ন করলো তুমি বিয়ে করেছো?
আমি- “না”
আবি -হেসে হেসে বলল, টাকা না থাকলে বৌ থাকবে না। আমি আগুনে পুড়ে খাটি সোনা হয়ে ব্যবসা শিখেছি। তোমাকেও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ধৈর্য ধরো এবং বোঝ আস্তে আস্তে । তুমিও তোমার জীবনের গন্তব্যে যেতে পারবে।
আমি- আমি আমার চেস্টা করবো।
আবি- বর্তমানে বাজারে অনেক ছাত্র, বেকার যারা মফসল থেকে এসেছে তারা না বুঝে শেয়ারে ঢুকছে তাদের অনেক বিপদ হতে পারে। তোমার এমন কেঊ থাকলে সাবধান করে দিও তোমার মতন।
আমি- জি, স্যার।
আবি- অনেক কথা হলো, শরীর ভালো নাই তাই ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারি না। আমি আসি, আবার দেখা হবে ইনশাল্লাহ। ,


এই বলে উঠে দাড়ালেন ।সাথে থাকা আরো ৫ জন উঠে দাড়ালো হয়তো তারা তার বডি গার্ড বা এসিস্টান্ট বা ড্রাইভার। তারা তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলো। আমি পিছনে তাকিয়ে থাকলাম জীবন্ত এই কিংবদন্তির দিকে, দেখতে দেখতে মিলিয়ে গেলেন আমার চোখের সামনে থেকে। মনে ভাসতে থাকলো তার মুল্যবান কথা গুলো।














৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×