১-
প্রেতলোকে বসেছে জরুরী বৈঠক।সভাপতি মামদো ভূত সবাইকে বলল, "আমরা এতদিন মানুষকে নানা ঝামেলা করেছি তাই মানুষ আমাদের উপর খুব ক্ষ্যাপা।আমি চিন্তা করছি এখন থেকে আমরা মানুষের সাথে আর বাদড়ামি না করে তাদের কিছু উপকার করব।"
কন্দা ভূত বলল, "কি উপকার করব বা কোন মানুষেরই উপকার করব আমরা?"
মামদো উত্তর দিল, "আমরা প্রথমেই বাংলাদেশের মানুষের উপকার করব।"
তার কথা শেষ না হতেই গেছো ভূত বলল, "কেন, কেন তাদের প্রথম?"
সভাপতি বলল ,"এমনিতেই এদেশের মানুষ নানা সমস্যায় আছে তাছাড়া ঐদেশে কিছু লোক আছে যারা ঐ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল নানা মানুষকে নির্যাতন করেছিল মেরেছিল।কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এখন তারাই ক্ষমতার শীর্ষে উঠে তাদের অতীতের কার্যকলাপ অস্বীকার করে বসে আছে।কোনো কোনো সময় বরং নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করে বসে।ওদের ঐদেশের লোক ঘূণ্যা করে রাজাকার বলে।তাই আমরা প্রথম ঐ দুষ্ট মানুষগুলোকে শিক্ষা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে শান্তি এনে দিতে চাই।"
কথা শেষ করে মামদো ভূতদের কানে কানে কিছু পরামর্শ দিয়ে দ্রুত কাজে লেগে পরার নির্দেশ দিল।
২-
সকালে বাথরুম করতে গেল বাকা চৌধুরী। কুত্তার লেজ আগে নাকি লেজের পরে কুত্তা জাতীয় চিন্তা করতে করতে পানি নেয়ার জন্য সে কলের ট্যাপ ঘুরাল।কি ব্যাপার! পানি আসছে না কেন? সমানে গালিগালাজ চালাতে লাগল সে বাথরুমে বসেই বাসার কেয়ারটেকার সরকার এমনকি তার নেত্রীকে পর্যন্ত।যাইহোক পানি যখন নাই কি আর করা ভেবে টিস্যু নেয়ার জন্য হাত বাড়াল সে।অবাক করা ব্যাপার টিস্যুর রোলটা নিমেষেই শূণ্যে ভেসে গেল।ভয় পেয়ে বাকা ভাবতে লাগল কাল রাতে কি বেশি গিলেছিলাম নাকি!
এমন সময় ভৌতিক কণ্ট ভেসে এল, "বাকা আমি গন্ধ ভূত তুই যতদিন পর্যন্ত একাত্তুরে তোর ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাইবি সব স্বীকার না করবি ততদিন পর্যন্ত আমি তোকে জ্বালাব।তুই যেখানে যাবি আমি সেখানেই কাচা গু এর গন্ধ নিয়ে যাব।দুর্ঘন্দে মানুষ তোর মুখে থু:থু: ছিটাবে।"
বাকার অবস্থা আসলেই কাহিল হয়ে গেল।সে যেখানেই যায় সেখানেই গু এর গন্ধ! অন্যমানুষ দূরের কথা তার বউ ছেলে মেয়েই তাকে ত্যাগ করে চলে গেল।
৩-
বদিউর বহমান এসি রুমে বসে বসে দেশে কিভাবে বিশৃঙ্কলা সৃষ্টি করা যায় তার চিন্তা করছিল। হঠাৎ ঠের পেল খুব গরম লাগছে তার। এসিটা আরো কমিয়ে দিল সে।কিছুক্ষণ পর ঠের পেল খুব ঠান্ডা লাগছে তার।ঘটনা কি বলে রুমের বাইরে এল সে।বাইরে আসতেই গরম রে বাবা গরম আর কাকে বলে!তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে এসি ছাড়ল। গরমের চোটে জামাকাপড় খুলতে লাগল সে।এবার শুরু হল ঠান্ডা।কতক্ষন পর আবার গরম। এবার পুরাপুরি ল্যাংটা হয়ে লাফালাফি করতে লাগল বদি।
এমন সময় ভৌতিক কন্ঠ ভেসে এল, "বদি আমি শ্যাওড়া পেত্নী! একাত্তুরের কথা ভুলে যাওয়ার ভান করিস তুই! যতদিন পর্যন্ত সব স্বীকার না করবি ততদিন পর্যন্ত আমি তোকে এভাবে জ্বালাব।"
ভয়ে ল্যাংটা হয়েই ভূত! ভূত! বলে চেচাতে লাগল বদি।তার কান্ড দেখে বদির বউ কাদতে কাদতে তার ছেলেকে বলতে লাগল, "তোর বাপ ফাসির ভয়ে পাগল হয়ে গেছে রে!" বলে সে কি কান্না।
৪-
খোজাহিদ সাহেবের সকাল বেলা পার্কে হাটাহাটির অভ্যেস।আজকেও হাটছেন। এমন সময় পিছন থেকে কারও ধাক্কা খেয়ে সামনে থাকা এক মহিলাকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে পড়লেন তিনি।মহিলা উঠেই জুতাপেঠা করতে লাগল তাকে।
খোজা বলল, "আমি ইচ্ছে করে পড়িনি।পিছন থেকে কেউ আমায় ধাক্কা দিয়েছে।"
মহিলা পিছন ফিরে বলল, "বুড়া বয়সে মিথ্যা বলস! কৈ তোর পিছনে কেউ দেখি নেই!"
খোজা পিছন ফিরে অবাক।কেউ নেই!কে ধাক্কা দিল তাকে?
মহিলা চলে যেতেই ভৌতিক কন্ঠ ভেসে এল বলল, "খোজা একাত্তুরে অনেক মেয়ের উপর জাপিয়ে পড়েছিলি এখন ভয় পাস কেন?তুই যতদিন পর্যন্ত তোর অতীত পাপের কথা স্বীকার না করবি ততদিন তোকে আমি এভাবে জুতাপেঠা খাওয়াব!"
বাসায় ঢুকে কাজের মেয়ের কাছে পানি চাইল খোজা।মেযেটা পানি আনতেই তাকে নিয়ে জড়িয়ে ফ্লোরে পড়ে গেল খোজাহিদ।মেয়েটার চেচামেচিতে খোজার বউ একান্ড দেথে খোজাকে জুতাপেঠা শুরু করল।খোজা যতই বলে ভূত! ভূত! তার বউ ততই পিঠাতে থাকে।
৫- একসপ্তাহ পর।
বাকা কাদতে কাদতে ফোন দিল বদিকে। বলল, "চাচা আমি শেষ! কোথাও যেতে পারি না,কেউ আমার কাছেও আসে না,গু এর গন্ধর জন্য।"বলেই কান্না বেড়ে গেল তার।
ওদিক থেকে বদি বলল, "এটা কোনো সমস্যা হলরে বেটা আমি এক সপ্তাহ ধরেই ল্যাংটা হয়ে নাচানাচি করছি।কাল শুনলাম আমাকে নাকি পাবনা পাঠিয়ে দেয়া হবে রে।"বলেই শুরু করল কান্না। "এদিকে তোর খোজা চাচা জুতাপেঠা খেতে থেতে অ্যাপোলোতে মরমর অবস্থা।"
বাকা বলল, "চাচা ফাসি হোক জেল হোক এ যন্ত্রনার চেয়ে বেশী আর কি হবে?।চল আমরা সব স্বীকার করি।"
৬-
সব টিভি চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ দেখাচ্ছে দেশের সকল রাজাকার প্রেসক্লাবে এসে তাদের দোষ স্বীকার করছে।তাদের একেকেটার চেহারা-সুরত দেখার মত। যেন সদ্য গুয়েতনামা কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছে।
৭-
প্রেতলোকে আজ চলছে আনন্দমিছিল।ভূতদের আনন্দধ্বনিতে মেঘের ঢাকের মত শব্দ হতে লাগল।
এদিকে মূর্তলোকেও চলছে আনন্দমিছিল্।আসমান থেকে ভেসে আসছে মেঘের শব্দ।মানুষ জানতে পারল না এ হচ্ছে ভূতদের আনন্দধ্বনি।
(আমার লেখা প্রথম গল্প। আপনাদের ভাল নাও লাগতে পারে।তবে সবাই আমাকে উৎসাহ ও পরামর্শ দিবেন যাতে আমি আরও ভালো গল্প লেখতে পারি।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

