কেন কিভাবে ???
আজ ইংরেজী ১ ফেব্রুয়ারী।
এই ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখ রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা প্রাপ্তির কারনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে। প্রতিটি দৈনিকে বিশেষ কলাম নিবেদন হচ্ছে শহীদ স্মরণে, গৌরব বরণে। প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেট্রনিক মিডিয়াও ভাষা আন্দোলন তথা ভাষা সৈনিকদের নানা এক্সক্লুসিভ অপ্রকাশিত প্রকাশে আন্তরিক তৎপর।
১..২..৩..গুনতে গুনতে ২১ তারিখও এসে যাবে ঠিক সময়মত। আয়োজন প্রভাতফেরী'র। কালো ব্যাজ বুকে ধরে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী আর খালি পা'র মিছিলও শ্রদ্ধা নিবেদন করবে শহীদ মিনারে। পজিশনের লড়াইয়ে অবশ্য শ্রদ্ধা ফিকে হয়ে যায়- চলে আসে দাপট-দ্বন্দ। বিশ্রী টুকটাক বড়-ছোট নানান ঘটনা।
চারিদিকে কানে-মুখে দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে সেই অমর সুর-কথা:
....................আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
....................আমি কি ভুলিতে পারি
নাহ্..ভোলা'র মত নয়। রক্তের স্রোতে ছুটতে শুরু করে সেই সম্মোহনী সুর..আবহ রক্তস্নাত সেই দিনের কথায়।
হ্যাঁ, বাংলা ভাষাকে রাস্ট্রভাষা দাবী করে মিছিল হয়েছিল সেদিন। সমস্ত বাংলাদেশের মূল বিন্দু বাংলাকে কেন্দ্র করেই স্বকীয়তা ধারন করুক। এই ছিল বাংলাভাষী এ অঞ্চলের মানুষের সত্যিকার পিপাসা।
কিন্তু যে বাংলাকে সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল রফিক, শফিক, সালাম, বরকত'রা। সেই দিবস পালন হয় ইংরেজী দিয়েই। একুশ'র গান রচিত হল। ৫২ পায় মর্যাদা।
সত্যি বলতে কখনোই সংকোচ করিনি।
আজও করবো না।
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সেদিনের বাংলা বছরটা কি ছিল, সত্যি বলতে পারব না। লজ্জার কথা এই যে...এখন বাংলা সাল কি, সেটা জিজ্ঞেস করলেও পালাতে হবে।
এটাই সত্যি। সাথে সাথে এটাও সত্যি...জিজ্ঞেস করলে আমার মত এই লজ্জায় ক'জন আক্রান্ত হবেন, এটা গুনে বলতে না পারলেও নির্দ্বিধায় বলতে পারি- আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে আমাদের মধ্যে ক'জন সত্যি লজ্জা পায় এ নিয়ে, এটা নিয়ে সংশয় আছে।
কান খুলে শুনুন।
পোশাকী আনুষ্ঠানিকতা, দেখানো শোকের মাতম তুলতে আমরা মারাত্মক পারঙ্গম- এটা প্রমানীত। না হলে ৮ ফাগুন অন্তত. ( এটুকুই জানি) ২১ ফেব্রুয়ারী হত না। বলতে পারেন এটাই প্রতিষ্ঠিত।
আমি বলবো- তাইতো লজ্জাটাও প্রতিষ্ঠিত।
হাহ্...
দায়বদ্ধতা উদযাপনের পাহাড়সম প্রমান দিতে কসুর নেই...সর্বস্তরে বাংলাকে প্রচলন করতেই রাজ্যির আলস্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২১ থাকুক সার্বজনীন মহিমায়, কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের ৮ ফাগুন যে একান্তই আমার-বাংলার।
যে ফাগুনে কৃষ্ণচূড়া লালে লাল হয় ভাষা সৈনিকদের স্মরণে।
আর সেই আগুনরঙা লাল, সবুজ পাতার বেষ্টনীতে বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে ওঠে বিমূর্ত।
বাংলাভাষা'র বাংলাদেশ।
যা সত্যিকারে ভিত্তিমূলে দেখতে আমাদের কি আরো রক্ত দিতে হবে???
আরো ???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


