বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আওয়ামীলীগ এর কথাই সবচাইতে পুরনো। বিভিন্ন সময়ে এই দলটা বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করেছে। আবার বিভিন্ন সময় তারা নিজেদেরকে বাচাতে বিভিন্ন কর্মসূচী দিয়েছে। তাদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন ক্ষতি করেছে জনগণকে, এই রাষ্ট্রকে, এই গণতন্ত্রকে, তেমনিভাবে ক্ষতি করেছে দলটির। এমনকি খুনের মতো চরম পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে। তাই আজকে যখন নতুন করে দিনবদলের ঘোষণা দেয়া তখন সত্যিই শংকিত হতে হয়। সামনে কি হয় এই ভয়ে।
বাহাত্তর থেকে পচাত্তরে আমরা হারিয়েছি সীমান্তবর্তী এলাকা, রক্ষীবাহিনীর আস্ফালন, মিডিয়ার কন্ঠরোধ আর সবার কন্ঠরুদ্ধ করে দিয়ে একদলের শাসন। অবশেষে সব মিলিয়ে পনেরই আগস্টের দু:খজনক হত্যাকান্ডের অবতারণা। দীর্ঘ দুই যুগ পরে আমরা তাদের হাতেই হারিয়েছি পার্বত্য চট্টগ্রামের মত অঞ্চল। সম্পর্ক উন্নয়নের নামে আমাদেরকে হতে হয়েছে ভারতের প্রদেশ আর প্রধানমন্ত্রীকে আখ্যা পেতে হয়েছে মূখ্যমন্ত্রী নামে। তাদের সংশোধন আর দেশ গঠনের নামে আমরা অর্জন করেছি শামীম ওসমান , হাজারী, মখা আলমগীর সহ আরো কত নাম না জানা ব্যক্তিত্ব। একটা সময় গিয়ে জাতি মুক্তি চায়। এই মুক্তি সবসময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসে না।
আজকে দুইহাজার দশ সালে এসে আমরা ঠিক একই রকম সংকট অবস্থার শিকার হয়েছি। আবারো পত্র্রিকার কন্ঠরোধ, ভিন্নমতকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা না করে ভিন্নভাবে দমন, ছাত্রলীগের নির্যাতন সবকিছুই যেনো আবার ইতিহাসের পাতাকে ফিরিয়ে আনছে। সংবিধান সংশোধনের জিগির তোলা হয়েছে নতুন করে। আমরা জানিনা আওয়ামীগের এই রাজনীতি ভবিষ্যতে জাতির জন্য কতটুকু আশীর্বাদ হয়ে দাড়াবে। তারা কবে নিজেদেরকে সংশোধিত করবে?
বংগবন্ধুকে তাজউদ্দীন সতর্ক করেছিলেন আপনি আপনাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরানোর সকল উপায় ধ্বংস করে দিচ্ছেন। আজকে কি শেখ হাসিনা পাশে কেউ আছেন এই সংকেত প্রদানের জন্য? নাকি সবাই নিজের আখের গুছাতে ব্যস্ত।
সত্যি বড়ো ভয় হয় বড়ই আশংকা হয় যখন তাদের মুখে সংশোধনের কথা শুনি
পরিশিষ্ট:
১. শুধু ভাল কর্মী হলেই চলবে না , ভাল ছাত্র ও হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পর্যবেক্ষণ : আমি জানি না, ছাত্রলীগের ভিতরে কোন ভাল ছাত্র আছে কিনা? তবে ভাল ছাত্রের সংজ্ঞাটা তাদের কাছে কি রকম সেটাও জানার বিষয়। ভাল কর্মীর গুণ কি কি আমার জানা নেই। কটা ধর্ষন, শ্লীলতা হানি, টেন্ডারবাজি আর অন্তকোন্দলে মারামারি করলে ভাল কর্মী হওয়া যায় সেটা জেনে রাখা দরাকর।
২. ছাত্রলীগ থেকে সকল শিবির ও দল বের করে দিয়ে নতুনভাবে ছাত্রলীগকে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেদা চৌধুরী।
পর্যবেক্ষণ : ছাত্রলীগে আগে কিছু ছেলে ধর্ষন সহ খারাপ কাজ করতো না। এখন তাদের বের করে দিয়ে সাজেদা চৌধূরী ছাত্রলীগকে কিরূপে প্রকাশ করাতে চান সেটাই সামনে দেখা যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



