অধিকাংশ মানুষেরই তার মা / বাবা / ভাই / বোন / বন্ধু / অথবা তার মনের মানুষ যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে তার মুখটিই ভেসে উঠে । অথবা কারও এই ব্যাপারে কোন অনুভূতি নাই । আমার ক্ষেত্রেও তাই । পরিবারই হবে । কিন্তু এমন কিছু ব্যাপার থাকে যা পরিবারের কারও সাথে শেয়ার করলে তাদের অযথা দুশ্চিন্তায় ফেলার চিন্তা বাড়ে ।
আমি সহজে কিছু মা-বাবাকে জানাই না । ভাইয়াকে বলি কিন্তু আমার ভাইয়ার পেটে কথা খুব কম থাকে । তাই মাঝে মাঝে ওকেও এড়িয়ে যাই । আর বন্ধু-বান্ধব এর সাথে আমি নিজের কথা খুব কমই শেয়ার করি ।
তারপরেও এমন কিছু মুহুর্ত আসে যখন বন্ধুর সঙ্গতা বা বন্ধুত্ব জীবনে অনেক সহায়ক হয় যা সেই বন্ধুর অগোচরেই থেকে যায় ।
আমি কোন একসময় খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম । প্রতিটা মূহুর্ত খুব আতঙ্কে কাটছিল । জাগ্রত অবস্থায় তো ছিলই । তা আবার স্বপ্নে ও হানা দিত । দীর্ঘ ৪ মাস আমার নিজেকে নিরাপদ রাখার আপ্রান চেষ্টা চালাতাম ।
ঠিক সেই মূহুর্তেই আমার জীবনে এক বন্ধুর আগমন ঘটল । বন্ধুটি জানেও না সে আমাকে তার বন্ধুতা দিয়ে বিরাট উপকার করেছে । আমি ঠিকমত খাচ্ছি কিনা প্রতি খাবার বেলায় সে খোঁজ নিত । অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেত । ভাল ভাল বই সংগ্রহ করে দিত পড়ার জন্য । ঠিকমত ঘুমাচ্ছি কিনা, নামাজ পড়ছি কিনা সব খোজঁ খবর সে নিত । সবচেয়ে বড় ব্যাপার যা আমাকে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বাড়িয়ে দিয়েছিল তা হলো- আমার এমকম এর প্রতিটা পরীক্ষায় সে রোজা রাখত । আমার পড়াশোনার উৎসাহ বাড়িয়ে দিত । তার সাথে যে শুধু আমার সাথে সখ্যতা তা নয় আমার পরিবারের প্রতিটা মানুষের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে । বেশ ভালই কাটছিল আমার তখনকার দিনগুলি ।
কিন্তু আমার সেই সখ্যতা টিকল না । আমি শেষ পর্যন্ত জানতে পারলাম তার এই আচরণ সবটুকুই ছিল আমাকে, আমার অহংকার, আমার ব্যক্তিত্বকে পদদলিত করা । আমি বায়ু নির্গমনিত বেলুনের মতো চুপশে গেলাম । তাকে তার সঙ্গতাকে বর্জন করলাম ।
নিজেকে আমি এই বলে সান্ত্বনা দেই । সেই বন্ধুটাকে নিংড়ায়ে যেটুকু রইল সেটুকুই আমার গ্রহণযোগ্য । অর্তরালের কথা নাহয় বাদ দিলাম । প্রকাশ্যের য়েই ভালবাসা বন্ধুটার কাছে পেয়েছি তা তো অবশ্যই শ্রদ্ধার যোগ্য । তাই তার সেই আচরণটাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই । আজ তার কথা খুব করে মনে পড়ছে ।
তাকে শুভকামনা জানাই । এবং আমার সকল বন্ধুকে স্বাগতম জানাই । সকলের মনের আশা পূরণ হোক ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

