আমি আর আমার ফার্মমেট (লিমু) একসাথে ফার্মে যাওয়া আসা করি । আমি ওকে মালিবাগ নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে চলে আসি । আমরা দু’জনের কেউ বাসে চড়তে পারি না । রিক্সাই আমাদের সম্বল ।
কয়েকদিন যাবৎ কিছু ঘটনা ঘটছে । আরো কয়েকজনের কাছে এই ব্যাপারগুলো শেয়ার করেছি । তারাও এই ধরনের ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন । বুঝলাম না কাহিনী কি?
১. শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০০৮) :
রিক্সা ভাড়া করেছি ফার্মের সামনে থেকেই । ৫ মিনিট যাওয়ার পড়ে রিক্সাওয়ালা বলে "আপা নামেন যামুনা" ।
-কেন যাবেন না ?
-এমনি যামু না । নামেন ।
(মেজাজ বিগড়ে গেল, ইচ্ছে করল কষে এক চড় মারি
-তাহলে আপনি রিক্সা ডেকে দেন ।
- পারুম না আপনেগো রিক্সা আপনেরা ডাইক্যা লন ।
-আপনি রিক্সা ঠিক করে না দিলে আমরাও নামব না । এই আমরা শক্ত করে বসলাম । দেখি কি করে নামান ।
(এভাবে প্রায় ১০ মিনিট বসে থাকার পর রিক্সাওয়ালা রিক্সা ডেকে দিল আমরা রিক্সা চেঞ্জ করে চলে আসলাম )
২. রবিবার (১৯ অক্টোবর ২০০৮) : লিমু ওর মা কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছে । আমাকে একা যেতে হবে । একটা রিক্সা ঠিক করলাম । রিক্সাওয়ালাও বলল যাবে । আমি উঠতে যাব রিক্সায় এমন সময় রিকাসাওয়ালা বলল
- আপা অতদূর যামু না ।
মেজাজ বিগড়ে গেলো
অফিস শেষে বাসায় যাব । রিক্সা নিলাম । ভাড়া বলল ২৫ টাকা । রাজি হয়ে উঠলাম । গন্তব্যে পৌছে ভাড়া দিলাম । রিক্সাওয়ালা বলে
-আর দশ টাকা কই ।
- আর দশ টাকা মানে ? বনশ্রী থেকে মধুবাগের ভাড়া তো ২৫ টাকা ।
- আপা আমি ৩৫ টাকা কইছি । আর আপনেও এই ভাড়াতেই আইছেন ।
অনিচ্ছাস্বত্বেও আরও ১০ টাকা দিয়ে বাসায় উঠে এলাম ।
এসে আয়নার সামনে নিজেকে দেখলাম আর ভাবছি আগের মতই তো আছি ভয়ংকর তো লাগছে না । তবে কেন এমন হচ্ছে ?
৩. সোমবার (২০ অক্টোবর ২০০৮) :
একটু হেটে এসে মেইন রোডে এসে রিক্সা ঠিক করলাম । এবং উঠলাম । তো রিক্সা শান্তি মত শান্তিনগড় মোড়ে এসেই অশান্তি শুরু করল ।
- আপা নামেন আর যামু না ।
- কেন যাবেন না ?
- রিক্সা আগাইতাছে না । আর যামু না । (অথচ রাস্তায় কোন সমস্যা আমাদের চোখে পরে নি ।)
- আমরা তো কোন সমস্যা দেখলাম না । আপনি তো ঠিক মতোই চালাচ্ছিলেন ।
- আমার যাইতে ভাললাগতাছে না । আমি আর যামু না । আমার ভাড়া দিয়া দেন । আপনেরা অন্য রিক্সায় উঠেন ।
-তাহলে আপনি রিক্সা ডেকে দেন আমরা চলে যাই ।
-আপনেগডা আপনেরা ডাইক্কা লইতে পারেন না । আমি না আইলে তো আপনেগর ঘন্টার পড় ঘন্টা দাড়াইয়া থাকতে হইত ।
(আমার মেজাজ ২০০০ ওয়াটের বাল্ব এর মতো জ্বলে ওঠলো । )
- মিয়া ফাইজলামো পাইসো । তোমার রিক্সায় যাব তুমি আগে বাড়ো ।
(আমাদের কথা শুনে এক ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে আসল )
- কি হয়েছে ম্যাডাম ?
- আরে দেখেন এই লোককে আমরা ফকিরাপুল থেকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছি । সে বলেছে এখন সে যাবে না । আর আমাদের রিক্সাও ডেকে দিবে না । আর বাজে কথা বলছে ।
(ট্রাফিক পুলিশ রিকাসওয়ালাকে বলল
- কিরে যাবি না কেন? তুই তাদের সাথে চুক্তি করে এসেছিস । তাহলে যাবি না কেন ?
- আমার মন চায় না আমি যামু না ।
ট্রাফিক পুলিশ আমাদের বলল
- আপনারা ন্যায্য ভাড়া দিয়ে চলে যান আমি দেখছি ।
( আমি ১৫ টাকা দিয়ে চলে এলাম ।)
৪. মঙ্গল বার ( ২১ শে অক্টোবর ২০০৮) :
ফার্ম থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামলাম । লিমু কে বললাম “ আজ তুমি রিক্সা ঠিক করো । আমি হয়তো দেখতে ভয়ংকর হয়ে গেছি । তাই হয়তো এমন ঘটছে ।
লিমু রিক্সা ঠিক করল । উঠে পড়লাম । যথারীতি ওকে মালিবাগ নামিয়ে দিয়ে আমি বনশ্রী এলাম । ভাড়া ১০০ টাকার নোট দিলাম এবং খুচরো করে দিতে বললাম । সে আমাকে ফেরত দিল ৪০ টাকা ।
-কি ব্যাপার ভাড়া কত ?
- ৬০ টাকা ।
- ( আমার তো মাথায় হাত ) কি?
- হ ওই আপার সাথে এই ভাড়ার কথা হইছে ।
কি আর করার দিয়ে চলে এলাম ।
অফিসে এসে লিমু কে ফোন দিলাম ।
লিমু জানাল ভাড়া ও করেছিল ৫০ টাকা । আর হাসল আমাদের অবস্থা চিন্তা করে । আর বলল “আপু চিন্তা করো না । আমাদের রিক্সার ভাগ্য আল্লাহ ফিরিয়ে দিচ্ছে । ভাগ্য গিয়ে পড়বে প্রাইভেট কার নয়তো পায়ে হাটা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

