স্যার বললেন, দেখ তো কলম দুটো কার?
রহিম ও করিম প্রায় একসঙ্গে বলে ওঠে আমার!
রফিক স্যার ভ্রু কুচকে ওদের দিকে তাকালেন। তিনি জানেন রহিম ও করিম সব সময় একে অন্যের পেছনে লেগে থাকে। তাই ভাতৃদ্বয়ের উদ্দেশে কণ্ঠে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, ফাজলামি করবি না! সত্যি করে বল কার?
এবার একটি মজার কান্ড হলো। রহিম আঙুল দিয়ে দেখালো করিমের আর করিম আঙুল তাক করলো রহিমের দিকে।
স্যার অবাক হয়ে বললেন, আরে। একটু আগে দুজনেই কলম দুটো নিজের দাবি করলি আর এখন একজন আর একজনের কথা বলছিস।
রফিক স্যার মনে মনে ভাবলেন, ছেলে দুটো তার অতি প্রশ্রয় পেয়ে ত্যাদড় হয়েছে।
ওদিকে রহিম বলছে, স্যার কলম দুটো আসলে আমারই, কিন্তু আমি দয়া করে করিমকে দিয়ে দিচ্ছি।
সঙ্গে সঙ্গে করিম বলে ওঠে, না স্যার, ওগুলো আসলে আমার। কিন্তু রহিম কান্না করছে বলে ওকে দান করছি।
এ কথা শুনে রেগে গেল রহিম। ব্যস শুরু হয়ে গেল দুজনের কথা কাটাকাটি।
স্যার পড়েছেন মহাফ্যাসাদে। এদের একজন যে আরেকজনের পেছনে লেগেছে তা তিনি বুঝতে পারছেন। কিন্তু কে যে কার পেছনে লেগেছে মানে কে মিথ্যা বলছে সেটা ধরতে পারছেন না। একবার ভাবছেন ঝামেলা না বাড়িয়ে কলম দুটো দুজনের মধ্যে ভাগ করে দিই, কিন্তু পরেই ভাবলেন এটা ন্যায়বিচার হবে না।
এমন সময় দফতরি একটা খাতা নিয়ে রফিক স্যারের কাছে এলো। স্যার, হেড স্যার আপনাকে এখানে একটা সই দিতে বলেছেন। রফিক স্যার হাতের কলম দুটোর একটার ক্যাপ খুলে খাতায় সাইন দিতে গেলেন। সাইনের ছাপ পড়লো কিন্তু কালি বের হলো না। খস খস করে আরো দুবার চেষ্টা করেও কালি বের করতে পারলেন না। কটমট করে রহিম-করিমের দিকে তাকালেন। ওরা কেন যেন এক পা পিছিয়ে গেল। স্যারের কি যেন সন্দেহ হলো, তিনি তাড়াতাড়ি অন্য কলমটি নিয়ে লিখতে গিয়ে দেখলেনÑ নাহ এটাতেও কালি নেই। তবে কি না কালি ছাড়া কলম দিয়ে পাজি দুটো আমাকে বোকা বানিয়েছে! আজ তোদের একদিন কি আমার যদ্দিন লাগে বলে যেই না স্যার চেয়ার ছেড়ে রহিম-করিমকে খামচি মেরে ধরতে গেলেন অমনি তারা ভৌ দৌড়। কিন্তু স্যারের দুর্ভাগ্য তখনো শেষ হয়নি। ওদের পিছু নিয়ে রুম থেকে বেরুতে গিয়ে ধাক্কা খেলেন মিস লতিফা ম্যাডামের সঙ্গে। ফলাফল দুজনেই চিতপটাং! পেছন ফিরে স্যারের অবস্থা দেখে রহিম-করিম হাসতে হাসতে শেষ। ওদিকে লজ্জায় স্যারের চেহারা হয়েছে লাল টুকটুকে আপেলের মতো!
অলংকরন: রকি/যাযাদি
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


