somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

খুঁজে ফিরি তারে-২২

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফিরোজ ঘুমানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তার চোখে ঘুম আসছে না। তার চোখের সামনে কখনো রিমার বউ সাজার ছবি ভেসে উঠছে আবার কখনো আরশীর বউ সাজার ছবি ভেসে উঠছে। ফিরোজের চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে, সে একবার চোখের পানি মুছে একটা শুষ্ক হাসির ব্যর্থ চেষ্টা করে আপন মনে বলল, আরশী এতদিন পর বউ সাজবে কেন? হয়ত আরশীর নূর-এর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে, আরশী ছেলে-মেয়ের মা হয়েছে। আসলে আমি সারাজীবন অনেকের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলাম, আমার জন্য কেউ কিছু করল না। সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেল। আর আমি বসে বসে মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুণছি।
ফিরোজের কানের মধ্যে যেন মোবাইলের রিং বেজে উঠল, যেন খুব পরিচিত রিং-টোন, সে আরশীর মোবাইল নাম্বারটির রিং টোন এটা সেভ করে রেখেছিল। সে বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা বের করে দেখল, না কেউ রিং করেনি তো।
সে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করল কিন্তু ঘুম আসছে না, একবার ঘড়ির দিকে তাকাল রাত এগারোটা বাজে। সে বিছানা থেকে উঠে বারান্দায় পায়চারি করতে লাগল। রিমার বিয়ের আগে সে কোনদিন বারান্দায় পায়চারি করলে রিমার মোবাইলে কথা বলা শব্দ ভেসে আসতো। এই তো ক’দিন আগে একদিন ফিরোজ বারান্দায় পায়চারি করছিল এমন সময় তার কানে ভেসে এলো রিমার কণ্ঠস্বর।
সে আপন মনে হাসল, রিমা হয়ত ইমনের সঙ্গে কথা বলছে। সে কিছুটা সংকোচ বোধ করল, রিমা যদি দেখে ফেলে তবে হয়ত মনে করবে আমি বাবা হয়ে মেয়ের তার হবো স্বামীরসঙ্গে কথা বলা শুনছি।
ফিরোজ তার রুমে ঢুকল। দরজা বন্ধ করার সময় একটু শব্দ হলো।
সে রুমে ঢোকার কিছুক্ষণ পর রিমা তাঁর রুমে ঢুকল, বাবা তুমি ঘুমাওনি?
হ্যাঁ ঘুমিয়েছিলাম।
ঘুম ভেঙ্গে গেছে?
হ্যাঁ।
কেন এমন হলো? আজ তো ঘুমের ঔষধ খেয়েছ?
হ্যাঁ তুই তো ঔষধ খাইয়েছিস্?
রিমা তার বাবার মুখের দিকে তাকাল, বাবা তোমার চোখ লাল কেন? চোখে পানির ছাপ মনে হয় কেঁদেছো?
ফিরোজ ধমকের সুরে বলেছিল, হ্যাঁ আমি কেঁদেছি?
রিমা পাল্টা ধমক দিয়েছিল, বাবা তুমি কিন্তু আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছ?
ফিরোজ কিছু বলেনি।
রিমা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছিল, বাবা ক’দিন থেকে দেখছি তুমি কিছু খেতে পারছ না, খেতে বসলে মনে হয় তোমার মুখে খাবার যাচ্ছে না। মনে হয় তোমার মুখে রুচি নেই, ইচ্ছার বিরুদ্ধে খাচ্ছ? বাবা তোমার কি অসুখটা বেড়েছে?
না রে মা তুই অযথা চিন্তা করছিস?
বাবা তুমি ভেঙ্গে পড়লে আমি কী করব?
ফিরোজের চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়েছিল, রিমা সব কান্না কষ্টের না, তোকে বিয়ে দেওয়ার জন্য যদি আমি কাঁদি তবে সে কান্না আনন্দের আর যদি হাসি তবে সে হাসি বেদনার।
রিমা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল, বাবা তুমি এমন হয়ে যাচ্ছ কেন? আমি কি আমার চিরচেনা বাবাকে চিনতে ভুল করছি?
ফিরোজ রিমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলেছিল, তুই যা মা ঘুমা।
তুমি ঘুমাবে?
হ্যাঁ।
রিমা একটা ঘুমের ঔষধ বের করে তার বাবার হাতে দিয়ে বলেছিল, নাও এটা খাও।
একটা ঘুমের ঔষধ তো খেয়েছি।
আরো একটা খাও।
না আর খেতে হবে না।
রিমা শাসনের সুরে বলেছিল, খাও, আমি বলছি খাও।
খাবো?
হ্যাঁ।
ফিরোজ ঔষধ খেয়েছিল।
রিমা বলেছিল, এখন লাইট অফ করে বিছানায় শুয়ে থাকো, ঘুমানোর চেষ্টা করো।
আচ্ছা।

আজ ফিরোজ বিছানায় শুয়ে আলো নিভিয়ে আবার ঘুমাবার চেষ্টা করেছিল কিছুক্ষণের মধ্যে তার সমস্ত শরীর ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে এলো। তার চোখের সামনে প্রমীর প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠল।
ফিরোজ জিজ্ঞেস করল, তুমি?
হ্যাঁ আমি, কয়েকদিন থেকে তোমার সঙ্গে কথা হচ্ছে না তাই আজ কথা বলতে এলাম।
বলো।
খুব চিন্তা করছ না?
না কিসের চিন্তা করব?
আমার কাছে কিন্তু তুমি কোনদিন কিছু লুকাওনি।
আজও লুকাচ্ছি না।
তুমি কিন্তু আমাকে কোনদিন মিথ্যা কথা বলোনি?
আজও বলছি না।
বলছ, তুমি আরশীকে খুব মিস্ করছ?
তুমি কীভাবে জানলে?
আমি কীভাবে জানলাম মানে? আমি তো বেঁচে থাকতেও তোমার মনের সব কথা বলতে পারতাম, তুমিও আমার মুখ দেখে সবকিছু বুঝতে পারতে। আসলে পরষ্পরের মধ্যে প্রকৃত ভালোবাসা থাকলে শুধু দু’জনের দেহ দু’টোই আলাদা থাকে আত্মা যেন এক হয়ে যায়। তাই একজনের মনের খবর জানা আরেকজনের জন্য কঠিন হয় না।
হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ।
তোমার নিজেকে খুব নিঃসঙ্গ মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ।
কখনো নিঃসঙ্গ মনে করবে না, আমি তোমার পাশে আছি না?
প্রমী?
হ্যাঁ তুমি তো আমার কাছে চলে আসছ।
তোমার কাছে চলে আসছি মানে?
তুমি আমার কাছে এসো আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
কিন্তু তুমি তো মরে গেছ?
হ্যাঁ তাই তো তোমাকে ডাকছি, বলে প্রমী হারিয়ে গেল।
ফিরোজ চমকে উঠল, প্রমী, প্রমী।
ফিরোজের শরীর ভয়ে ছম্ ছম্ করে উঠল। সে কোনদিন ভুত-প্রেত এসব বিশ্বাস করেনি কিন্তু আজ যেন তার মনে হলো এই মাত্র প্রমী তার কাছ থেকে চলে গেল। সেই সাদা ধব্ধবে শাড়ি, পিঠে ছড়ানো চুলগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। ফিরোজ একবার ওপরের দিকে তাকাল, ফ্যান চলার শব্দ নেই কিন্তু ঘরের মধ্যে যেন প্রচণ্ড গতিতে বাতাস বইছে, এখনো তার চোখের সামনে প্রমী দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে ফিরোজের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, সে খাটের স্ট্যাণ্ডের সঙ্গে ঝুলানো সুইচটা চালু করার চেষ্টা করতেই আর হাত বাড়াতে পারল না। সমস্ত শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে। সে মনে মনে কয়েকবার দোয়া পাঠ করল, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ যোয়ালেমিন।
ধীরে ধীরে যেন তার হাত দু’টো একটু সচল হলো। সে হাত বাড়িয়ে সুইচটা চালু করে বিছানায় অনেকক্ষণ শুয়ে রইল। তারপর আবার ঘড়ির দিকে তাকাল, এত রাতে কি ডাঃ হায়দারকে মোবাইল করা ঠিক হবে?
সে বিছানায় শুয়ে রইল, অসুস্থতা আরো বেড়ে গেল। সে ডাক্তারকে মোবাইল করল, হ্যালো হায়দার।
হ্যাঁ ফিরোজ বল এখন কেমন আছিস?
ফিরোজ হাঁপাতে হাঁপাতে তার অসুস্থতার বিবরণ দিয়ে বলল, হায়দার আমার খুব খারাপ লাগছে, আমার মনে হয় আমার সময় শেষ হয়ে আসছে।
ফিরোজ তোর বাসায় আর কে কে আছে?
কেউ নেই।
বাসায় তুই একা?
হ্যাঁ।
তোর মেয়েকে খবর দে, কাছের আত্মীয়-স্বজনদেরখবর দে, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আয়।
রিমাকে মোবাইল করব? সদ্য বিবাহিত মেয়েকে এত রাতে বিরক্ত করব?
ফিরোজ আমি এজ এ ডক্টর বলছি, তুই তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আয় নাহলে সিচ্যূয়েশন কন্ট্রলের বাইরে চলে যেতে পারে, প্লিজ ফিরোজ এখন এসব ভাববার সময় না।
আচ্ছা ঠিক আছে, বলে ফিরোজ মোবাইলের লাইন কেটে দিয়ে ডাক্তারের কথা মতো সবাইকে মোবাইল করতে শুরু করল।
চলবে....
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×