somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

গডফাদার-১১

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
জামালের চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত অনেকদূর গড়িয়েছে। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে দলীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত জামালের উপর অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। চাঁদা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিসে মিটিং বসেছে। জামাল মিটিংয়ে খুব অশ্বস্থি বোধ করছে সবাই কেমন যেন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাচ্ছে। মোস্তফা সাহেব প্রথমে কথা বলতে শুরু করলেন, জামাল তোমার চাঁদা চাওয়ার ঘটনাটা শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে, তুমি কি জানো?
জামালের মুখ শুকিয়ে গেল, না তো বড় ভাই।
ঠিকাদার সাহেব থানায় গিয়েছিলেন কেইস করতে আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ওসি সাহেব কেইস নেয়নি তবে তোমার নামে জি.ডি করেছে।
বেলায়েত সাহেব বললেন, তারপরও বেটা ক্ষান্ত হয়নি, আমাদের দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা তার কেমন যেন আত্মীয় হয়, তাকে কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেছে, তিনি ঢাকা থেকে টেলিফোন করেছিলেন আমরা যেন তার দিকে খেয়াল রাখি। বুঝলাম বেটার হাত অনেক লম্বা, তুমি আর সাইটে যাবে না কখনো।
বড়ভাই আমি মনে করেছিলাম কলেজে নবীন বরণ করবো টাকার প্রয়োজন। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো তাই চলে গেলাম, আসলে এটা যে শেষ পর্যন্ত এতদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি।
মোস্তফা সাহেব বললেন, যা হবার হয়ে গেছে এখন আর ভেবে লাভ নাই।
বড়ভাই ছোট বড় সব দলই একের পর এক কলেজে নবীন বরণ করছে, আমি ক্ষমতাসীন দলের লিডার কলেজে নবীন বরণ না করলে তো আমাদের সম্মান থাকে না। তাছাড়া দলের ভাবমূর্তি বলে একটা কথা আছে না?
বেলায়েত সাহেব বললেন, হ্যাঁ তুমি অবশ্যই নবীন বরণ করবে।
কীভাবে? টাকা পাবো কোথায়? জামাল জিজ্ঞেস করল।
মোস্তফা সাহেব জামালের কানে ফিস্ ফিস্ করে কী যেন বললেন, তখনই জামাল হেসে উঠল।
পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে জামাল সোজা পাম্পে এসে বসল। এমনসময় তার মোবাইলে রিং বেজে উঠল।
জামাল মোবাইল রিসিভ করে বলল, হ্যালো।
অপর পাশ থেকে শরীফের কন্ঠস্বর ভেসে এলো, জামাল একটা খবর শুনেছিস্?
শরীফ কথাটা এমনভাবে বলেছে যে শুনেই জামালের বুক কেঁপে উঠেছে, কী খবর?
আরিফ আর ঐশী পালিয়েছে।
পালিয়েছে মানে?
পালিয়েছে মানে পালিয়ে বিয়ে করেছে।
ঐশী আর আরিফের পালিয়ে বিয়ে করার কথা শুনে জামালের মাথায় রক্ত উঠে গেল। ক্ষোভে আর অপমানে তার চোখ মুখ লাল হয়ে গেল। মোটর সাইকেল নিয়ে বাসায় চলে গেল। সারাদিন আর বাসা থেকে বের হয়নি। বাসার বাইরে বের হতেই তার যেন মনে হচ্ছে আকাশ-বাতাশ সবকিছু তাকে ব্যঙ্গ করছে। কিন্তু বাসায় থেকেও সে যেন শান্তি পাচ্ছে না। সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হলো।

রাস্তায় ছোট্ট একটা পানের দোকান এবং দোকানকে ঘিরে কয়েকজন বখাটে ছেলে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন জামালকে চিনে ফেলল, জামাল না?
জামাল মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইল, আপনাকে তো চিনলাম না।
আমি খোকন প্রাইমারী স্কুলে একসঙ্গে পড়তাম।
জামাল একবার খোকনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, হ্যাঁ এবার চিনতে পেরেছি।
এখানে কেন বন্ধু?
সে অনেক কথা, তুই এখানে কেন?
আমি অনেকদিন থেকে এখানকার রেগুলার কাস্টমার, তুই বুঝি আজ প্রথম?
জামাল একটা ঢোক গিলে বলল, জি।
জামাল তুই ভুল করলি বন্ধু এটা খারাপ লাইন এখানে কেউ একবার এলে আর ফেরত যেতে পারে না। এখানকার মরন নেশার ছোঁবলে সবাই নষ্ট হয়ে যায়। তুই ফিরে যা বন্ধু, প্লিজ।
না বন্ধু তা হয় না, আমার অনেক কষ্ট আমি কষ্ট ভুলতে এসেছি, আমার মনের সব বোঝা হালকা করতে এসেছি।
তোর কিসের কষ্ট? ছেক পেয়েছিস্?
জামাল কিছু বলল না, নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
খোকন বলল, বন্ধু আমিও ছেক পেয়ে তোর মতো এখানে কষ্ট ভুলতে এসেছিলাম কিন্তু কষ্ট ভুলতে এসে ফেন্সিডিলের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছি। এখন প্রতিদিন এক বোতল ফেন্সিডিল না খেলে হয় না। আমি চাই না তুই আমার মতো আসক্ত হয়ে পড়।
কিন্তু আমি যে আর সইতে পারছি না বন্ধু আমি আজ যখন এখানে এসেছি তখন মাল না খেয়ে যাব না, তোকে আমি কথা দিচ্ছি আর কোনদিন আমি এখানে আসব না, বলে জামাল দোকানের দিকে এগিয়ে গিয়ে এক বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে শুরু করল।
কিছুক্ষণের মধ্যে জামালের দুঞ্চচোখে ঘুম নেমে এলো। সে দ্রুত মোটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে বাসায় চলে গেল।
জামাল সাধারণত এত তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে না। আজ তাকে বাসায় ফিরতে দেখে ফাহমিদা কিছুটা বিস্মিত হলেন। তিনি মনে মনে কিছুটা খুশিও হলেন। কিন্তু জামালকে মোটর সাইকেল রেখেই বিছানায় শুয়ে পড়তে দেখে ফাহমিদা জামালের কপালে হাত দিয়ে বললেন, কী হয়েছে বাবা?
জামাল বলল, মা তুমি যাও তো আমাকে একটু একা থাকতে দাও।
কেন বাবা? তোকে তো কোনদিন একা থাকতে দেখিনি, বল্ কী হয়েছে তোর?
জামাল বিরক্তির স্বরে বলল, মা তুমি যাও তো।
ফাহমিদা আর কোন কথা না বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।
জামাল বিছানায় শুয়ে পড়ল। তার মনের মধ্যে তখন ঐশীর ছবি ভেসে উঠছে। জামাল ঐশীর এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ঘুমের মধ্যেও বার বার দাঁত কড়মড় করে উঠল।
চলবে...
http://www.somewhereinblog.net/blog/writerzillur/page/10
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×