somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লন্ডনে বাংলাদেশী ছাত্রের বিয়ের ফাঁদ

২৪ শে নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃটেনে বাংলাদেশী ছাত্র মোহাম্মদ তানিন (২৫) তার থেকে ২২ বছরের বড় মারিয়া মারকুইস (৪৭) নামের এক নারীকে বিয়ে করেছেন। এখানেই শেষ নয়। তিনি ও তার নববধূ মিলে আরও ৪ পর্তুগিজ যুবতীকে লন্ডনে নিয়ে গিয়েছেন তানিনের বাংলাদেশী বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার জন্য। এর বিনিময়ে প্রতিজন যুবতীর জন্য তানিন পেয়েছেন ২০০০ পাউন্ড। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় লন্ডনে তোলপাড় চলছে। লোকজনের মুখে মুখে ঘুরছে এ বিষয়টি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তাতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ তানিন ২০০৩ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। কিন্তু তার ভিসার মেয়াদ যখন শেষ হয়ে আসে তখন তিনি কৌশল অবলম্বন করেন। আদালতে শুনানিতে বলা হয়েছে, তানিন তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার তিন মাস আগে তার থেকে ২২ বছরের বড় ওই নারীকে বিয়ে করেন লন্ডনের বো চার্চে। এর মধ্যে কোন ভালবাসার লেশমাত্র নেই, বরং এটা ছিল কন্ট্রাক্ট ম্যারিজ বা চুক্তিবদ্ধ বিয়ে। শুনানিতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ তানিন যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের কৌশল হিসেবে মারিয়াকে বিয়ে করেছেন। এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধা পেলে তিনি শুধু যুক্তরাজ্যে নয় বিনা বাধায় ঘুরতে পারবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। তার এ মামলার শুনানি চলছে স্নারেসব্রক ক্রাউন কোর্টে। গতকাল এ নিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইলে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাতে আরও বলা হয়, তানিন ও মারিয়ার বিয়ের পর তারা পর্তুগিজ থেকে এই গ্রীষ্মে আরও চার নারীকে লন্ডনে নিয়ে যান। উদ্দেশ্য তাদেরকে তানিনের বাংলাদেশী বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ে দেয়া। কিন্তু ওই বিয়ে আজও হয়নি। আদালতে বলা হয়, পর্তুগিজ প্রতিজন নারীকে লন্ডনে নিয়ে দেয়ার জন্য তানিন পেয়েছেন ২০০০ পাউন্ড। পূর্ব লন্ডনে তানিনের রয়েছে একটি বাসা। সেখানে ওই চার পর্তুগিজ নারীর মধ্যে তিনজন ভাড়া থাকেন। অনলাইন মেইল জানায়, স্টুডেন্ট ভিসায় তানিনের ৪ বন্ধু লন্ডনে প্রবেশ করেন। এ ভিসার মেয়াদ সীমিত সময়ের। এক সময় তারা সবাই বিয়ে করার আবেদন করেন। এই বিয়ের অনুমোদন দেয়া হলে তারাও তাদের পর্তুগিজ বাগদত্তাদের মতো একই অভিবাসী মর্যাদা লাভ করবেন। তাদের জন্য পর্তুগিজ চার কনেকে লন্ডনে নেয়ার এক সপ্তাহ পরে বাংলাদেশী তিন বন্ধু ২০১০ সালের জুলাই মাসে একই দিনে ম্যারিজ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন। ওই চার পর্তুগিজ নারীর মধ্যে সবাইকে মারিয়া মারকুইস আগে থেকেই জানতেন। আদালতে ওই চার নারীই বিয়ের নামে কারসাজির কথা স্বীকার করেছেন। এর ফলে তানিন ও মারিয়ার বিরুদ্ধে মামলা জটিল হয়ে উঠবে। আদালতে প্রসিকিউটর পল রডনিটজ বলেছেন, ওই পর্তুগিজ চার নারীকে যুক্তরাজ্যে নিতে তানিন ৮০০ ইউরো দিয়েছেন। তাদেরকে যুক্তরাজ্যে নিতে তিনি স্ত্রী মারিয়াকে পাঠিয়েছিলেন লিসবনে। তিনি সেখানে গিয়ে তাদের সব অফিসিয়াল কর্মকাণ্ড সম্পাদনা করেছেন। পল আদালতে বলেন, এটা একটি লজ্জাজনক বিয়ে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে স্থায়ী আবাসিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিজন পাত্র বাংলাদেশী এবং প্রতিজন পাত্রী পর্তুগিজ। তানিনের যে চার বাংলাদেশী বন্ধুকে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে নেয়া হয়েছে তারা একই দিন একই ফ্লাইটে লন্ডনে গিয়েছেন। তারা বিয়ের জন্য একই দিন ফরম পূরণ করেছেন। তাতে তানিন ও মারিয়া সহায়তা করেছেন। এসব ঘটনায় তানিন ও মারিয়া মারকুইসের বিরুদ্ধে অভিবাসনের নিয়ম লঙ্ঘন করার চারটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এখন তাদেরকে এই অভিযোগ মোকাবিলা করতে হবে।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×