somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘এয়ারপোর্টের রাজা ’

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন্ত্রীর জামাই অভিনেতা মাহফুজ

‘এয়ারপোর্টের রাজা’



বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিজ্ঞাপনী ব্যবসা এখন সদ্য বিদায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদেরের জামাই অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের একক দখলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত শ্বশুর জিএম কাদের বিমান মন্ত্রী থাকাকালেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মাহমুদ হোসাইনের যোগসাজশে বেবিচকের সব বিজ্ঞাপনী ব্যবসা এককভাবে দখলে নেন ‘নকশীকাঁথা’র সত্ত্বাধিকারী মাহফুজ আহমেদ।


শাহজালাল বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ, বিলবোর্ড, প্রান্তিক ভবন, অভ্যন্তরীণ ভবন ও লাইট বক্সসহ অধিকাংশ জায়গা বিজ্ঞাপনের জন্য এককভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন মন্ত্রীর জামাই বলে খ্যাত মাহফুজ আহমেদ।


শুধু তাই নয়, বেবিচক যতটুকু জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে তার চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন মাহফুজ আহমেদ।

শ্বশুরের ক্ষমতাবলে অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দরের ব্যবসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসার স্বার্থে বেবিচক চেয়ারম্যান বিজ্ঞাপনের জায়গা ভাড়া দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির মূল উদ্দেশ্যে হলো যাতে অন্য কোনো কোম্পানি বিজ্ঞাপনের জায়গা ভাড়া না নিতে পারে। আর এই কমিটির নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে উল্টো মাহফুজ আহমেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নকশীকাঁথা’র হয়ে কাজ করেছে।

সূত্র জানায়, শ্বশুর জিএম কাদের বিমানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০০৯ সালে বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনের জন্য বেবিচকের কার্গো রোডের উত্তর পাশের বাউন্ডারি ওয়ালের জায়গা, সিকিউরিটি বক্সেও দক্ষিণ পাশের জায়গা এবং বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের জায়গা লিজ নেয়। একই বছর প্রান্তিক ভবনের বহির্গমন লাউঞ্জের এক নং গেট, দুই নং গেট, তিন নং ও চার নং গেট লিজ নেয়। এছাড়া তাকে লিজ দেওয়া হয় প্রান্তিক ভবনের নিচ তলার ইমিগ্রেশন এলাকার পশ্চিম পাশের জায়গা, আগমনী লাউঞ্জের কাস্টম হল, র‌্যাম্প কর্নার ও ক্র এন্ট্রি পাশের ওয়াল লিজ দেওয়া হয়।

২০১১ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরের দুই, চার, পাঁচ ও ছয় নং বোর্ডিং ব্রিজের ভেতর ও বাইরের জায়গা লিজ নেন মাহফুজ আহমেদ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রান্তিক ভবনের ১৪টি পিলার, আন্তর্জাতিক প্রান্তিক ভবনের দ্বিতীয় তলার বহির্গমন লাউঞ্জের ১৯টি পিলার এবং আন্তজাতিক আগমনী এক্সলেটরের উভয় পাশের দুটি স্থানও তাকে লিজ দেওয়া হয়।

২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের কার্যাদেশ অনুযায়ী ৩০ x ১৫ মোট ৮টি বিলবোর্ড। এর মধ্যে অবৈধভাবে মোট তিনটি (৪৫ x ১৫‘) এবং (৩০ x ১৫) দুটি বিলবোর্ডকে একত্র করে মোট (৪৫০ x ২)=৯০০ বর্গফুট হওয়ার কথা। অথচ ৯০০ বর্গফুট না করে বাড়িয়ে এইচএসবিসি ব্যাংকের জন্য বিলবোর্ড (৮০ x ২০)=১৬০০ বর্গফুট তৈরি করে ভাড়া দেয়।

একইভাবে ২০১১ সালের নকঁশীকাথার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৪৫৬ (৪টি) বোর্ডিং ব্রিজ দেয়। প্রতিটি বোর্ডিং ব্রিজের বিজ্ঞাপন ব্যববহার করা জায়গা ২৪ বর্গফুট। আর অনুমোদন নেয় (ভিতরে ৬৭১ x ৪)=২৬৮৪ বর্গফুট। বাইরে ৬৯৯ x ৪=২৭৯৬ বর্গফুট। মোট চারটি বোর্ডিং ব্রিজ (২,৪,৫ ও ৬)=৫৪৮০ বর্গফুট।

বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করে (২৪০০ x ৪)=৯৬০০ বর্গফুট (ভিতরে ও বাইরে)। কার্যাদেশ ছাড়া ক্ষমতাবলে ব্যবহার করে (৯৬০০-৫৪৮০)=৪১২০ বর্গফুট ভেতরে ও বাইরে। ৪১২০ বর্গফুটের বাইরে ভাড়া, ভ্যাট ও ট্যাক্স=(৮০০x ৪১২০)=৩২,৯৬,০০০ টাকা প্রায়।

আগের কার্যাদেশ এক ও তিন এর দুটিসহ মোট বোর্ডিং ব্রিজের শুধুমাত্র ঢাকায় এক থেকে ছয় নং পর্যন্ত ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজের বিজ্ঞাপনের জায়গা ব্যবহার করে ১৪,৪০০ বর্গফুট। অথচ ভাড়া দেয় ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজের ভেতরে-বাইরে=১৩৫০ x ৬)=৮১০০ বর্গফুট। মোট ছয়টি বোর্ডিং ব্রিজ থেকে সরকারকে ফাঁকি দেয় (১৪,৪০০-৮১০০)=৬৩০০ বর্গফুট।

ভাড়া, ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেয় (৬৩০০ বর্গফুট x ৮০০)=৫০,৪০,০০০ টাকা।

এভাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে অনেক জায়গা দখল করে সরকারকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মাহমুদ হোসাইনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউই ফোন ধরেননি।



Banglanews24.com
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×