(চার বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কিছু দিনের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে এক শুভাকাঙ্খীর কাছ থেকে এ প্রেমপত্রটি পেয়েছি। দাড়ি, কমা ঠিক রেখে ব্লগের বন্ধুদের সামনে চিঠিটি তুলে ধরলাম। আপনারা এ চিঠি পড়ে ন্যুনতম আনন্দ পেলে আমার সে শুভাকাঙ্খীর অপূর্ব লিখন ভঙ্গি অনেকটা সার্থকতা পাবে বলে আমার বিশ্বাস। কাউকে হেয় করার জন্য নয়। শুভাকাঙ্খীর অপূর্ব লিখন শৈলীর মহিমা কীর্ত্তনের উদ্দেশ্যেই এ চিঠি এখানে হাজির করা।)
একমাত্র তুমিই পারতে মায়াবী কষ্টের জার্নালে লিখে দিতে অপূর্ব ক্যালিওগ্রাফি। ফোটাতে পারতে ব্লাক আউট রাতে মায়াবী জ্যোৎ¯œা। খুব বেশি ভালবেসে বলতে পারতে ঐ দিকে অপয়া সময়। যেওনা ওখানে। কাছাকাছি থাকো। আমি তোমাকে দেব এক ফালি বিশ্বাসের আকাশ। না আমার এসব কিছুর দরকার নেই। আমি এতো কিছুর যোগ্য নই।
প্রতিদিন অসম্ভব কষ্টের তীব্র দহনে পুড়ে যা”েছ আমার পালক। একমাত্র তুমিই পারতে মেরুদন্ডে জল ঢেলে ফোঁটাতে অর্কিড। তোমার হাতের ছোঁয়ায় দিতে পারতে পবিত্র মঙ্গলসুত্র। মাথা উঁচু করে দাড়ানোর শান্তির তাবিজ। দূূর করে দিতে পারতে হতাশার লম্বা চুমুক। এতো বেশি স্বপ্ন দেখা আমার হয়তোবা ঠিক না। তাই বারণ করে দিয়েছো যোগ্যতার অভাবে।
নি:স্তব্ধ অন্ধকার রাতের মর্মস্বরে আমি একা; বড় একা। তারপর! তারপর! নিজের লাশটাকে কাঁধে নিয়ে আমি হাটি, প্রাত: শিশিরে ভিজে যায় আমার শরীর। নির্জনতাকে এতো ভয়াবহ লাগে। একটি বাড়ির জানালাতেও আলো নেই, শুধু তিমির হনন। পরতের পরত নিজেকে খুলতে খুলতে হীম শুণ্যতায় ঝুলতে ঝুলতে অতপর আমি রুমে ফিরি। রুমে ফিরে আমি নিজেকে বড় নগণ্য দেখি। আর ততোক্ষণে সুর্যের আলোয় পৃথিবী ধবধবে। সে আলোয় দেখি আমার কিছুই নেই। কিছু নেই। আমার সকল দিনরাত শুধুই অসহনীয় উৎপাত। বলতো তোমার সামনে আমি কিভাবে দাড়াই? দাঁড়ানোর যোগ্যতা কী আমার একদম নেই? আমার মনে হয় নেই। তাই এ অব¯’া।
ইতোমধ্যে আমি জানতে পারলাম, সুখ কল্পনার ফাঁকে মানুষ দু:খের কী অদ্ভূত ঝিলিকই না ধারণ করতে পারে। তার প্রথম প্রমাণ আমি নিজে। প্রতিনিয়ত সময়ের কাছে হার মেনেছি। এখন বিষাদে মলিন হওয়া ছাড়া, আত্মহননের দুয়ারে পা রাখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।
কিš‘ জিজ্ঞাসা কখনো কখনো তীব্র ঝংকারে বেজে উঠে। জীবনের অনেক তেপান্তর পেরিয়ে বর্তমানে কী সব উত্তর পেলাম। ভাবতে পারিনা। এখন ধারনা করি স্্েরাতের ফাঁকে যেমন চর জাগে, দু’ কূল ভাঙনে নদীও হয় তেমনি সর্বগ্রাসী হয়।
আমার জীবন যেখানে অনিশ্চিত, তারপরও সাজাতে চেয়েছিলাম ভালবাসার আল্পনায়। ভালবাসা নামক শব্দটি আমার জীবনকে সিগারেটের জলন্ত আগুনের মতো ছাঁই করে দিয়েছে। এতো প্রতারনা আর ফাঁকির যুগেও একটা আ¯’া জন্মেছে আমার। আবার তার সাথে জড়িত হয়েছে শ্রদ্ধাও। আমি জানিনা এ স্বপ্নের কতটুকু পূরণ হবে? এ ক্ষুদ্র জীবনে কিছু সময় তোমার সাথে কাটাতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তুমি অম্লান রবে আমার স্মৃতিতে। আর আমার ভুলতে হবে না কোনোদিন তোমাকে।
ভাল থেকো। অনেক ভালো থেকো। তোমার ভালোতে আমি যেন সুখ খুঁজে পাই।
Ñ................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

