somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“রাত ২টায় শোনা গল্প ও রহস্যময় মানবজীবন”

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ কাহিনী গতরাতে আমার বন্ধু সুমনের কাছ থেকে শোনা। বন্ধুর বাড়ি নাটোর। কাহিনীও নাটোরের। জগদিশ বাবুর ছয় ছেলে মেয়ে। পেশায় শিক্ষক জগদীশ বাবুর পরিবারটি নাটোরের আলোচিত একটি পরিবার। জগদীশ বাবুর ছয় সন্তানের মধ্যে চার ছেলে দুই মেয়ে। ছয়জনের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো দিক থেকে অনন্য। একটু ব্যাখ্যা দিলেই বুঝতে পারবেন সবাই। প্রথম ছেলের নাম অভিজিৎ, রাজশাহী বোর্ডে এসএসসি ও এইচএসসিতে দ্বিতীয় ও চর্তুথ স্ট্যান্ড করা ছাত্র। বুয়েটের ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে বিএসসি ও এমসি। প্রেম করতো নিজ গ্রামের এক মুসলিম মেয়ের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের প্রেম। পড়াশোনা শেষে নাটোর গিয়ে দেখে সেই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে না পেরে প্রায় দুইবছর প্রেমিকার জন্য অর্ধপাগল হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরেত আর প্রলাপ বকত। বিষয়টি মেয়েটির পরিবার তাদের সম্মানের উপর আঘাত বলে বিবেচনা করে অভিজিৎকে মার দেয়। এর কিছুদিন পর সে ঢাকা এসে বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। যোগদানের ৩ বছর স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানি চলে যায়। বর্তমানে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। জগদীশ বাবুর দ্বিতীয় ছেলেটির নাম প্রসন্ন। ম্যাট্রিক ও আইয়েতে সে ও বড় ভাইয়ের মতো রাজশাহী বোর্ডে দুটি স্ট্যান্ড করে বুয়েটে ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে দুটি প্রথম শ্রেনী নিয়ে বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সে মুসলমান এক মেয়েকে বিয়ে করে করে দুটি সন্তানের পিতা হয়। পরে স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চীন সরকারের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পিএইচডি করে বর্তমানে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করছে। জগদীশ বাবুর তৃতীয় সন্তানটির নাম অবনী। এসএসসিতে স্ট্যান্ড করা মেয়েটি নাটোরের বনপাড়ার সবচেয়ে সুন্দরী বলে খ্যাতি ছিল তার। পাশের বাড়ির কাকা সম্পর্কের এক মুসলমান প্রতিবেশীর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নাটোর শহরে বসবাস করছে। চতুর্থ সন্তানটির নাম ধীরেন। সেও এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই রাজশাহী বোর্ডে প্ল্যাস ছাত্র। ইন্টার পরীক্ষার পর থেকে গ্রামে অনেকগুলো টিউশনি করতো। এইচএসসি ও এসএসসির গণিত বইয়ের অধ্যায় ও অংকের নম্বর শুনে উত্তর বলে দিতে পারতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় মাথায় গন্ডগোল দেখা দেয়। এর কিছুদিন পর মাথা খারাপ হয়ে মারা যায় সে। পঞ্চম সন্তানটির নাম লাবনী। এ মেয়েটিও পড়াশোনায় ভাল ও বড় বোনের মতোই অপরুপ সুন্দরী। গ্রামের ছেলেরা ডিস্টার্ব দেয় বলে পাবনার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়। তাদের সংসার বেশ ভালই চলছিল। বিয়ের চার বছরের মাথায় হঠাৎ করে একদিন লাবনীর স্বামী ও লাবনীর মাকে আর পাওয়া যাচ্ছেনা। টানা পাঁচদিন খোঁজার পর জানা গেলো মেয়ের জামাই শাশুড়িকে নিয়ে ভেগেছে। এ ঘটনার পর পরিবারটি নাটোরের আলোচনার টেবিলে আরো ফোকাসে চলে আসে। এর কিছুদিন পর জগদীশ বাবু মারা যায় গ্রামের পুকুরে ডুবে। ষষ্ঠ সন্তানটির নাম অরুপ (ছন্দ নাম)। এসএসসি ও এইচএসসিতে এ ছেলেটিও দুটি গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। এ বছর সেও বুয়েটে ভর্তি হয়েছে। এ ছেলেটিও অমাবস্যা ও কালীপূজার রাতে গায়ে কাপড় রাখতে পারেনা। রোগটি এখনো কেউ ধরতে পারেনি। জার্মান ও চীন থেকে পাঠানো বড় দুই ছেলের টাকায় ও বনপাড়ায় তাদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবারটি সম্প্রতি শহরের কয়েক এককর জমি কিনে দর্শনীয় একটি বাড়ি নির্মাণ করেছে। বর্তমানে সে বাড়ি অবনী একাই অবস্থান করছে। মাস দুয়েক আগে মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া জগদীশ বাবুর স্ত্রী গ্রামে এসেছে। গ্রামের কোনো লোক তার সঙ্গে কথা বলেনি। তারপর সে আমার ফিরে গেছে।

( রাত ২ টায় সত্য কাহিনীটি শোনার পর আমি আসলে কোনো মন্তব্য করতে পারিনি। গভীর ভাবনায় তলিয়ে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট চুপ থেকেছি। ‘মানব জীবন সত্যিই বড় বৈচিত্র্যময়’ বলে সুমনই আমাকে ভাবনার রাজ্য থেকে উদ্ধার করেছে। বড় একটি নি:শ্বাস ফেলে আমিও মনে মনে বললাম, “মানব জীবন আসলেই রহস্যময়।”)

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কথিত আছে গণিতের মাস্টার জগদীশ বাবু ছিলেন সমকামী।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×