শুরুটা নাগরিক ব্লগ থেকেই। এক শ্রেনীর 'কি হনুরে' মাতালরা (মনে হয় মইন/ফকরুদ্দিনের বীর্যের অংশ) হঠাত রাজনীতিবিদদের ছেলে পেলেদের পিছনে লেগে পড়লো। প্রথম পোস্ট ব্যাপক হিটঃ সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকায় পুলিশ কেসের ডকুমেন্ট আরো অনেক কিসসা কাহিনী দিয়ে অনেক গল্প বানানো- উদ্দেশ্য একটাই নিজের হিট হওয়া। সে সবার ঊত্তেজনা ধরে রাখার জন্যে বললো শীঘ্রই তারেক রহমানের অজানা কাহিনী নিয়ে সে আসবে। সেই শীঘ্রই আসল ২ মাস পর অবশেষে এই পোষ্টের মাধ্যমে । সামুতেও কোন এক ফ্রেববাজ সেটা দিয়েছে নিজে হিট হবার কারনে। রোজা রমজানের দিন মানুষের মিথ্যাচার যে কোন পর্যায়ে গেছে চিন্তা করতেই মাথা আউলাউয়া যায়। রাজনীতিবিদদের ভুল ধরবি ভালো কথা কিন্তু লাগামছাড়া মিথ্যা কথা কিভাবে।
পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, আগে ওই লেখাটি পড়ে নিচের মন্তব্যগুলোর সাথে মিলায়ে দেখবেন। যারা ওই পোস্টে খুব বড় হাতে প্লাস দিয়েছেন তারাও একটু হাততালি দেবার আগে নিচের ব্যাপারগুলো চিন্তা করেছেন কিনা ভেবে দেখবেন। উল্লেখ্য এই লেখাটি জবাব হিসেবে নাগরিকব্লগের ওই পোস্টে দেওয়া হয়েছেঃ
আলমগীর হাসনাইনের জন্য মায়া লাগলো। আহারে.....এত খাটনি করছেন! অনেক মন্তব্য আসছে তাতে মনে হয় কিছু পাঠকের আগ্রহ আছে। তবে আমার দুইখান কথা আছে।
১. আলমগীর তার লেখাটি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য বিভিন্ন সাইট থেকে কিছু ছবি কাট-পেষ্ট করছেন। এটা আম পাবলিকরে খাওয়াইতে চাইলেও আমরা ধইরা ফালাইছি। ভুঁয়া জিনিষ মানুষকে গিলানোর ভাষা বেশ চমৎকার রপ্ত করেছেন-“বিশ্বাস না হলে এক্ষুনি ফিরোজ়কে ফোন করুন এই নাম্বারে- ০৭৯০৩২......।” কোথাকার ফিরোজ আর কমরুদ্দিনের নম্বর কেনো? ওই নম্বর বিলাতবাসী চোখ-কানওয়ালা সবাই জানে। পারলে নিজের টেলিফোন নম্বর ব্লগে দিয়া সাহস দেখান যে ঠিক লোক আপনি এবং হাচা কথা কথা কইতাছেন।।
২. ক্যামেরা নিয়া বইসা মশার কামড় খাইছেন (থুক্কু)..ভুল বাড়ির সামনে। যে ছবিটা ছাপছেন ওইটায় তারেক রহমান থাকেন না। অন্য কেউ থাকে। শওকত মাহমুদরে জিগাইছিলাম। সে তারেক রহমানের বাসায় যায় নাই। ফোনে কথা বলছে। কাজেই বৃথা চেষ্টা মধুসুদন!
৩. তারেকের পারিবারিক ছবি এমনকি শাশুড়ির ছবি পর্যন্ত জোগাড় করে ছাপছেন। কিন্তু তারেক স্কুলে যায়, সিনেমায় যায়, মার্কেটে যায়- ওইসব একটা ছবিও দিতে পারলেন না কেনো? গাজাখুরি গল্পের একটা সীমা থাকা উচিত।
৪. `মাই নেম ইজ খান' বা ‘খাট্টা-মিঠা’ সিনেমা কখনই দেখতে যায় নাই তারেক। যা লিখছেন এইটা একটা বানোয়াট গল্প। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লাম। আর যে পোষাকের বর্ননা দিয়েছেন, এই গরমের মধ্যে “তারেকের বাম হাতে ব্লেজার ধরা ছিলো”! আপনি উন্মাদ হইছেন নি- চাপা মারবেন তো সিজন খেয়াল করবেন না? শীতকালের ওয়াজ বর্ষাকালে করলেন? ‘জোবাইদা রহমান তার ন্যাট ওয়েস্টের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টিকেটের দাম দেন।’.....ভালই গাজায় দম দিছেন দেখছি। আপনি এত কাছে ছিলেন যে- ‘ন্যাট ওয়েস্টের ক্রেডিট কার্ড’ পর্যন্ত দেইখ্যা ফালাইছেন। তখন যে ছবিটা তুলছেন, ছাইপ্যা দেন, দেখি। যে কোনো রাস্তার পাবলিকও জানে- সিনেমার টিকেটের দাম কত। এইডা দিয়া একটা গপ্প খাওয়ানোর চেষ্টা করতাছেন!
৫. “সেলফ্রিজেস এর হোম এক্সেসরিজ ও ২য় তলার মেন্স ক্যাজুয়াল থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পাউন্ডের শপিং করেন” -এমন জলজ্যান্ত মিথ্যা গল্প তো লীগের পোলাপাইন করে। আপনিও ওই দলে যোগ দিলেন!
৬. “আব্দুল জলিলের সাথে তারেকের বৈঠক হয়েছে কয়েক মাস আগে”- ছবিটা ছাইপা দেন না? জমবে বেশ ভালো।
৭. “তারেকের আগে থেকেই বাত জ্বর ছিলো”। সত্য না। তারেক রহমান নিজেই তো জানেন না এই অসুখের কথা। কই পাইলেন আপনি?
৮. “রিমান্ডে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকার কারনে তারেকের কোমরের একটি হাঁড় সরে গেছে”- এটা তো আইএসপিআর ভাষ্য দিলেন। যোগাযোগ বেশ ভালোই দেখছি!
৯. ‘তারেক খুব সহসা কোন ধরনের যৌন মিলন করতে পারবেন না তার কোমরের কারনে’। ....আন্দাজে মাইরা দিলেন ভাই! টেষ্ট করার জন্য আপনার মা-বোন-বৌরে কবে পাঠাইছিলেন?
১০. তারেকের বাসায় কোনো কাজের মানুষ নাই। কোনো গাড়িও কিনেন নাই আর ড্রাইভারের তো প্রশ্নই উঠে না। ৮০০ পাউন্ডের ড্রাইভারটি কে? আপনি নিজেই নাকি?
১১. কমরুদ্দিনের বিষয় সম্পত্তি আর গাড়ি-বাড়ির যে বর্ণনা দিছেন তা নিয়া আর কথা বল্লাম না। টেলিফোন নম্বর যখন দিছেন, আগ্রহীরা যার যার নিজ দায়িত্বে খোঁজ নেয়াই ভালো।
১২. তারেকের অনেক খোজ রাখেন আপনি দেখছি! “তারেক ২০০৮ এ লন্ডনে এসে বার এট ল ডিগ্রী (ব্যারস্টারি) সম্পাদন করবে বলে মনস্থির করেন”। বেচারার জীবন নিয়া টানাটানি তখন, আপনি আপনি গল্প ফাঁদলেন- ব্যারস্টারি পড়ার মনস্থির...। আপনার মত বেহিসাবী লোকের পক্ষেই এটা মানায়। সাউথ ব্যাঙ্ক ইউনি, কুইন মেরী আর জিডিএলএ আপনি কয়বার দৌড়াইয়া ভর্তি হইতে পারছেন জানবার আগ্রহ রইলো।
১৩. লন্ডনে থাকার কারনে কতিপয় যায়গার নাম ও আইনশাস্ত্রে পড়ছে এমন বাংলাদেশী কিছু ছেলেপুলের নাম ব্লগের কল্যানে সবাই জানে। এখানে নতুন কিছু সাপ্লিমেন্ট করতে পারেন নাই।
১৪. লেখাটির মধ্যে যে ভাষায় আপনি গালাগালি করেছেন, তার চেয়েও অনেক বেশী হয়তো আমরা জানি; কিন্তু করি না। গালিগালির বহর দেখে আপনার পরিবার ও শিক্ষা সম্পর্কে বিরাট প্রশ্ন তৈরী হয়ে রইলো।
১৫. “আপনারা এখন ঠিক কোন বালটি ফেলবেন? “আপনারাই হয়ত এয়ারপোর্টে তারেককে সংবর্ধনা দিতে যাবেন।” ভবিষ্যতে সময় পাল্টালে আপনি আলমগীর কি করবেন তা বুঝে গেছি আমরা।
আমুক হাসিনার পা চাটে, তমুকে খালেদা-তারেকের পা চাটে..বলছেন। আমাদের জানতে ইচ্ছা করছে আপনি আলমগীর কার পা চাটেন? ধন্যবাদ আবারো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


