বঙ্গবন্ধু বড় নেতা ছিলো কোনো সন্দেহ নাই, ইন্দিরা তার বোন ছিলো- তা নিয়াও কোনো দোষ নাই। কিন্তু বিষয়টা হলো, উনি বাংলার মানুষকে ভাত কাপড়ের লোভ দেখিয়ে উদ্দীপ্ত করলেন- নিজে ক্ষমতায় বসার জন্য। সত্তরের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতার স্বাধ পেতে তিনি সব চেষ্টাই করেছিলেন, এমনকি ইয়াহিয়ার সাথে সলাপরামর্শ থেকে শুরু করে ‘এমএম আহমদ প্লানে’ও সাড়া দিয়েছিলেন। মোট কথা, তার দরকার ছিলো ক্ষমতা। আর দেশের মানুষকে উত্তেজিত করে পাক বাহিনীর মুখোমুখি করে দিলেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ খবর পেয়েও তিনি ইয়াহিয়ার পরামর্শে ধরা দিলেন- জাতিকে কিছু না বলেই। আর উনার সাথে ইয়াহিয়ার কি এমন চুক্তি ছিলো যে, তার নিজের পরিবারের লোকেরা নিরাপদে ঢাকার বুকে ভাতা খেতো? যেখানে বাংলার কোনো পরিবারের একজন লোক মুক্তিবাহিনীতে গেলে তার গুষ্টিসুদ্ধা শেষ করে দিয়েছে পাকবাহিনী; সেখানে হাসিনার দাবী হলো, কামাল-জামাল নাকি মুক্তিযোদ্ধা। ভালো কথা। তাহলে তাদের কি এমন কারিশমা, নাকি গোপন সমঝোতা যে- হাসিনাসহ মুজিব পরিবারের সকলেই অক্ষত ছিলেন, না পালিয়ে- ঢাকার বুকে! এমনকি আওয়ামীলীগের কোনো একজন সিনিয়র নেতা বা নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের কোনো সদস্য যুদ্ধে মারা যান নি। অনেক রহস্য এখনও অপ্রকাশিত। বিস্ময়ের সীমা নাই!!!!
স্বাধীন দেশে এসেই মুজিব সেই ক্ষমতার স্বাধ পেলেন যার জন্য এতকিছু। একে একে তিনি দন্ডমুন্ডের কর্তা হলেন, যুদ্ধাপরাধিদের ছেড়ে দিলেন, ভারতকে ফারাক্কা চালু করতে দিলেন। অব্যবস্থাপনা ও রুশ-ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নাগরিকদের থামাতে মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করলেন। বাকস্বাধীনতা হরন করলেন বাকশাল চালু করে। লুটপাট, অব্যবস্থাপনায় দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারা গেলো। প্রতিবাদী জাসদ ও অন্যান্যদের দমনের উদ্দেশ্যে ৪০ হাজার যুবককে বিনা বিচারে হত্যা করলেন। এসবের বিচার কি হয়েছে? নিজেকে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রের মালিক বানিয়ে যে আইন করেছিলেন, তাতে তিনিই তো নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে গেছেন (একথা আমার নয় তাজুদ্দিনের)। ফারুক-রশীদরা সেটা কার্যকর করেছে মাত্র। পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখুন, দেশে দেশে যিনিই ক্ষমতা আজীবনের জন্য কুক্ষিগত করেছেন, তাকেই বিদায় নিতে হয়েছে অস্বাভাবিক পন্থায়। এতে যে বিপ্লব বা পটপরিবর্তন হয়, তা জাতির স্বার্থে হয়। ওই সব ঘটনাকে কখনও সাধারন আইনের আওতায় আনা হয় না। তা না হলে বিপ্লব হতো না, বাংলাদেশও কখনও স্বাধীন হতো না।
২১ বছর পরে মুজিব কন্যা ক্ষমতায় এসে তার পিতৃহত্যার বিচারের জন্য প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠলেন। মুজিব হত্যার বিচার নিয়ে এতকাল রাজনীতি করতো আ’লীগ, আর হাসিনা তার কান্না দেখিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতো। আইনের স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে তিনি বিচারের নামে প্রহসন করলেন। তার চাহিদামত রায় হলো। পরে আসামীদের সাথে ছলচাতুরী করে তাদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করে জোর করে প্রাণদন্ড কার্যকর করলেন হাসিনা। এটিও একটা অন্যায়।
মুজিব হত্যার যদি বিচার করা হয়েছে, তাহলে সিরাজ সিকদারসহ ৭২-৭৫র ৪০ হাজার ব্যক্তিকে বিনা বিচারে হত্যার বিচার হবে না কেনো?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


