[ভাল না লাগলে আমার সূতা খুইল্যা ফালাইয়েন]
অনেক আগের কথা। তখন বাংলাদেশ আই.সি.সি কাপ জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। আমরাও ক্রিকেট জ্বরে ভুগছি। স্কুল শেষ করেই ক্রিকেট খেলতে চলে যেতাম। কিন্তু গ্রামের সবাই ঐ সময় ক্রিকেট খেলা বুঝত না।
একদিন আমরা সবাই মিলে ক্রিকেট খেলছি। ঐ সময় আব্বা লোক পাঠাল জরুরী কাজে বাসায় আসার জন্য। আমি খেলা থেকে একটু সময়ের ব্রেক নিয়ে বাসায় আসতেছি। পথে এক বন্ধু জানতে চাইলো খেলার কি অবস্থা?
আমি বললাম আসাদ ব্যাপক মাইর খাইতাছে। আর আসিফও যেভাবে পিঠাচ্ছে সুতা খুইল্যা যাইব।
বাসায় কাজ শেষ করে আবার খেলায় ফিরলাম। খেলা তখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কে জিতে কে হারে? ঐ সময় দেখি শ খানি মানুষ দা, লাঠি, বল্লম নিয়া আসিফ্যারে ধর... আসিফ্যারে ধর... বইল্যা এইদিকে আসতেছে। আমরা ভয়ে একসাথে সবাই জড়ো হলাম। আসিফ আমাদের মাঝখানে। তখন আসাদ ওদের কাছে গিয়া বলল-
-মামা কি হইছে?
-তুই নাকি ব্যাপক মাইর খাইছিস। আসিফ্যা নাকি তোর সূতা খুইল্যা ফেলছে।
ততক্ষণে আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম এবং বিস্তারিত ওদের কাছে শুনলাম। আমি যখন ঐ বন্ধুকে খেলার অবস্থা বলছিলাম তখন আসাদের আব্বা এ কথা শুনেছিল। দৌড়ে বাসায় গিয়া বলল আমার পোলারে পিডাইয়া সুতা খুইল্যা ফালতাছে আর তোরা বইসা আছিস। উল্লেখ্য যে আসাদের মামার বাড়ী হলো পাশের বাড়ী।
আমরা সবাই ঘটনা শুনে হাসতেছি। ওরাও বোকা হয়ে গেল।
এইদিকে কে জানি আসিফের বাপের কাছে খবর দিছিল আসিফরে মারার জন্য অনেক লোক গেছে। এইকথা শুনে আসিফের আব্বাও শ'দুয়েক লোক নিয়া আসলো। কিন্তু আমাদের সবাইকে হাসতে দেখে ওরাও বোকা হয়ে গেল। সবাই সবকিছু শুইন্যা অনেক হাসল।
এর পরদিন থেকে আমাদের এলাকায় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় বেড়ে গেল। সবাই ক্রিকেট খেলতে চলে আসত। শেষে দেখা যেত এক-এক টিমে বিশজন-ত্রিশজন ফিল্ডিং দিচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

