আমার আব্বা সাধারণতঃ রাগ করতেন না। কিন্তু যখন মাঝে মাঝে রাগ করে ফেলত তখন অগ্নিমূর্তি ধারণ করতেন।
একদিন আমি ও আমার ছোট ভাই বদরুল আমদের দোকান দিয়ে বাসায় ঢুকছি। কি মনে হলো বদরুলকে পিছন দিয়ে ল্যাঙ মারলাম। বদরুল পরে গেল এবং এমন জোড়ে চিৎকার শুরু করল যে ভয় পেয়ে গেলাম। আব্বা দোকানে বসা ছিল। সাথে সাথেই আমাকে আব্বা মারার জন্য দৌড়ানি দিল। আমিও জোড়ে দৌড় দিলাম।
দোকানের ভিতর দিয়ে এসে বাসায় ঢুকলাম, আবার বাসা দিয়ে বের হয়ে দোকানে ঢুকলাম, আবার দোকানের ভিতর দিয়ে এসে বাসায় ঢুকলাম। এভাবে চার-পাচ চক্রাকার দৌড়ানোর পর আব্বা বাসায় এসে থামল। আমিও দাড়িয়ে রইলাম। আব্বাকে আমাকে বলতে লাগল "তুই আজকেই এ বাসা থেকে বের হয়ে যাবি। তোকে যেন এ বাসায় না দেখি।"
আম্মার শুকনা মুখখানা দেখে খুব মায়া লাগল। শেষে আব্বাকে হেসে হেসে বলতে লাগলাম বাড়ি কি এইটা তোমার বাপের? না আমার বাপের? বাহির হইয়া যেতে চাইলে তুমিই বের হয়ে যাও। আব্বা হাসতে লাগল। ছোট ছিলাম বলে আব্বা আমার বুদ্ধির তারিফ করল।
আব্বা সাধারণতঃ আমাদেরকে কখনো মারতেন না। আর যেদিন একটু মারতো সেদিন এমন কান্না করতাম যে শেষে ৫০০ টাকার নিচে কান্না থামতনা। আসলে আব্বা আমাদের ভীষণ আদর করতেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

