আমরা রোজা কেন রাখি শুধু কি মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য? না। কেউবা রাখি পরিবারের চাপে, কেউবা সামাজিকতার ভয়ে। যাক সেটা আসল কথা না। রোজা রাখা একটি সংযমের কাজ। যেমন একটা নির্ধারিত সময় না খেয়ে থাকা, সমস্ত ছোট-বড় পাপকাজ থেকে দূরে থাকা।
সারাদিন না খেয়ে থাকাটা কিন্তু একটা সহজ কাজ না। কেননা ১১ মাস বিভিন্ন রসালো খাবার খেয়ে এসে হঠাৎ করে না খেয়ে থাকাটা একটু কঠিনই বৈকি। এর মাঝে যদি আমি অথবা আমরা দেখি রাস্তার কোন রেস্টুরেন্টে মজাদার একটি খাবার বানানো হইছে আর সেটা সবাই মজা করে খাচ্ছে। তাহলে আমার মত যারা খাদক প্রকৃতির লোক আছে তাদের কাছে ব্যাপারটা সহ্য করা একটু কঠিন। আমি বলছিনা তখনি গিয়ে আমরা খেতে বসে পরবো, কিন্তু মনের অজান্তেই মুখে যে পানি এসে পড়বে এবং জ্বিহবা জানিয়ে দিবে তার চাহিদার কথা সেটা কি আমরা ইচ্ছে করলেই আ্যাভোয়েড করতে পারবো?
তার চেয়ে আমার মনে হয় রোজার মাসে হোটেল-রেষ্টুরেন্ট খোলা রেখে বাইরে থেকে পর্দার ব্যাবস্থা করা। তাতে রোজাদেরদেরও কষ্ট হবে না আর যারা বিভিন্ন কারনে রোজা রাখতে পারেনাই তাদেরও অহেতুক রোজাদারদের সামনে লজ্জায় পড়তে হবেনা।
আপনে বলেছেন "মনে আছে , চেনস্মোকার আমরা আরাম করে বিড়ি খেতে খেতে রাস্তায় চলেছি । যে রিক্সায় উঠেছি , সেই রিক্সাওয়ালাও আগুন চেয়ে নিয়েছে আমাদের কাছ থেকে ।"---------- এটা কোন কৃতিত্ব বা বাহাদুরি, বা বলার মত কথা হলোনা। কেননা আপনি যে রিক্সা করে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছিলেন তার আশে পাশে একটি রিক্সা বা রাস্তায় দাঁড়ানো খুন ধর্মশীল একটি রোজাদার ব্যাক্তিও তো থাকতে পারতো। আবার এমনও হতে পারতো একজন চেইনস্মকারও থাকতে পারতো যে হয়তো রোজা রেখেছে আর এখন এই গন্ধ পাওয়ার পর মনে একটি ধূমপানের তীব্র আকাঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু সে অনেক কষ্ট করে তা নিবারণ করেছে। আমার প্রশ্ন হলো তাদের এমন কষ্ট করতে হবে কেন তারচেয়ে কি আমাদের আরেকটু নিরাপদ স্থানে সিগারেট টানাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
আমার গ্রামের বাড়িতে হিন্দু আছে অনেক। আমি এমনও দেখেছি যে আমাদের পাশের বাড়ির হিন্দুরায় এমন কোন ঝাঁঝাঁলো গ্রাণের তরকারী দিনে রান্না করে নাই যাতে আমাদের লোলুপ জিহ্ববা আকৃষ্ট না হয়। আবার এমনও দেখেছি অনেকেই রোজাদারদের কষ্ট দেওয়ার জন্যই ইচ্ছে করে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
আবার আমাদের এলাকায় যখন দুর্ঘা পূজা, কালি পূজা হয় তখন তার নিরাপত্তা দেয় আমাদের মুসলমানেরা এমন কি কয়েক জন হাফেজ, মাওলানাও তখন সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধের জন্য ঐ সময় আগাইয়া আসে।
ঐ সময় কিছু উগ্রপন্থী মৌলবাদী ওদেরকে বিভিন্ন ভাবে হেয় করার চেষ্টা করে কিন্তু আমাদের সামাজিক ভাবে সবার ধীর অবস্থানের জন্য তাদের হাউ-কাউ দুদিনেই শুণ্যে মিলিয়ে যায়। পরে দেখা যায় তারাই আবার আমাদের কাছে তাদের অতি মুন্সিয়ানার ব্যাপারে ক্ষমা চায়।
আপনি বলেছেন "এ বছর গুলশানে বিদেশী পর্যটককে পেটানো হয়েছে , রমজান মাসের পবিত্রতা ভেঙ্গে প্রকাশ্যে খাওয়া দাওয়া করার অপরাধে ।"
এইটি হলো একটি বিচ্ছিন্ন অতি উৎসাহী কিছু মানুষের ঘটনা। বা এমনও হতে পারে উনার প্রাকাশ্যে খাওয়ার ব্যাপারটাও ছিল কুরূচীপূর্ণ যা চোখে লাগার মতো।
সংবিধানে বিসমিল্লাহ বা ইসলামী রাষ্টের স্বীকৃত কোনটাই আসলে সমস্যা নয়।
আমরা যে জায়গাটা সবসময় এড়িয়ে যায় তা হলো রাষ্টীয়ভাবে যখন মৌলবাদী নামধারী কিছু গুষ্টিকে মদদ দেওয়া হয় আমরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে উল্টো অন্য একটি মৌলবাদী জোটের সাথে হাত মেলায়।
আশা করি বুঝবেন আমি কি বুঝাইতে চাইছি।
আশংকার কথা হলো যখনি ইসলাম ধর্ম কে নিয়া কোন পোস্ট আসে তখন ঐ পোস্টে এমন কিছু নামের ব্লগারকে মন্তব্য করতে দেখি যাদের সচরাচর দেখা যায় না। তখনি সন্দেহ লাগে এরা কি ইসলাম ধর্মটাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কিনা? সেজন্য বলেছিলাম "সেটা হতো একটা চিহ্নিত ধর্মগোষ্টীর স্লোগানে শব্দহীন কান্না"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

