আমাদের গ্রামের বাজারে স্বপনদার দোকান। পেশায় পোদ্দার মানে জুয়েলারীর কাজ করে। বাড়ী হলো নদীর ওপারের গ্রামে। স্বপনদার কথা এতো বলছি কারন উনিই ছিলো আমার প্রথম ভাগ্যবান রোগী
স্বপনদার সমস্যা ছিলো গিয়া চুলকানী। বলা নেই কওয়া নেই লজ্জা নেই শরম নেই খালি চুলকাইতো
সন্ধা হইতে না হইতেই স্বপনদা হাজির। আমি ভাব লইয়া কইলাম তোমারে না সন্ধায় আসতে কইলাম। যাও একশিশি নারিকেল তেল নিয়া আইসো। স্বপনদা কইলো আগেতো কইবা ওষুধটা কি। টেনশন লইয়োনা ভাই যা কইছি তাই করো। এক্কেবারে ভালা হইয়া যাইবো
চরে যাওয়ার কথা শুইন্যা মনে হয় স্বপনদা ভয় পাইছে
ও বাবাগো কইয়া এমুন জোড়ে স্বপনদা চিক্কুর দিলো যে আমার কানে তালা লাইগ্যা গেলো। ওমা স্বপনদা দেহি দৌড়াইতাছে
ধরাম কইরা শব্দ হইলো। স্বপনদা লাফ দিয়ে নদীতে পড়ছে। লাইট মাইরা দেখি স্বপনদা নদী সাঁতড়াইয়া পার হইয়া যাইতাছে। আমি চিক্কুর পাইরা স্বপনদারে ঢাকলাম। ছোট নদী দুই মিনিটে পার হইয়া গেছে স্বপনদা। এইপাড়ে আমি উনার লুঙ্গী এবং লাইট নিয়া দাঁড়াইয়া আছি।
ঐ পাড়ে উনি কাদাঁয় বইসা বইসা বিলাপ করতাছে ওমাগো..... ওবাবাগো......। ঐ পাড়ের তীর দিয়া কয়েকজন যাইতেছিলো তারা বললো - ঐ কেডা? কেডা কান্দে এইখানে। স্বপন্যানা। স্বপনদা আবার লাফ দিয়া নদীতে পড়লো। সাঁতার কাইট্যা এই পাড়ে আইসা গলা পানিতে দাঁড়াইয়া রইলো। আমারে কইলো মিয়া কি দিসো কও। আমিও ঘটনার আকস্মিকতায় হাসি এবং ভ্যাবাচ্যাকা দুইটায় খাইছি। আমি কইলাম চিন্তা কইরোনা স্বপনদা ভালা হইয়া যাইবা। আগেইতো কইছিলাম তেল মিশাইয়া লও। প্রায় আধঘন্টা নদীতে থাকার পর আমার সাথে বাজারে আসলো।
পরেরদিন সারাবেলা উনারে না দেইখ্যা টেনশন করতে লাগলাম। বিকেলবেলা সে আমারকাছে হাসিমুখে আইসা কয় ভাই আমিতো ভালা হইয়া গেছি। চলো তোমারে মিষ্টি খাওয়ায়

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



