ক্রিকেটের গণজোয়ারে ফুটবল কোথায় যে চলে গেছে সেটা গত কয়েকদিনে ব্লগে দেখলাম। জাতীয় দলের আট জন খেলোয়ার বিদ্রোহ করলো অথচ ব্লগে এর কোন আওয়াজই পেলামনা। অথচ কোন ক্রিকেটার পাদ মারলেও সেটা অনেক বড় খবর হয়ে যায়।
কি ঘটেছিলো সেদিন
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুশীলন করাচ্ছিলেন কোচ ডিডো। মূলত পাস বাই পাস কিভাবে বল নিয়ে নিচ থেকে উপরে উঠতে হয় সেটার একটা অনুশীলন। বার বার দেখিয়ে দেওয়া স্বত্ত্বেও কোচের মন মতো না হওয়ায় খানিকটা শাস্তি হিসাবে রানিং শুরু করেন। তরুন উদীয়মান ফুটবলাররা সেটা মেনে নিয়ে রানিং শুরু করেন। কিন্তু সিনিয়র খেলোয়ার রজনী কোচের সিদ্ধান্তকে চ্যালেন্জ ছুড়েঁ দিয়ে বলেন সে এটা করবেনা। কোচ বলেন, 'করতে হবে' 'চালিয়ে যাও'। বার কয়েকবার বলার পরও যখন রজনী তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তখন কোচ ক্যাম্পের শৃঙ্খলার স্বার্থে তাকে ক্যাম্প থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেন।
রজনী মাঠ ছেড়ে চলে যান। তারপর তাকে অনুসরণ করলো আরেক সিনিয়র খেলোয়ার আরমান আজিজ। তারপর একে একে মাঠ ছেড়ে যান ওয়ালী ফয়সাল, আরিফ হোসেন, জাহেদ পারভেজ, সৈকত, জাহিদ হোসেন ও জাহিদ হোসেন এমেলী। পরেরদিন শুক্রবার সকালের অনুশীলনেও অনুপস্থিত থাকলে রাগে ফেটে পড়েন ব্রাজিলীয় কোচ অ্যাডসন সিলভা ডিডো। তিনি সাফ জানিয়ে দেন অনুশীলন বর্জন করায় এই আট ফুটবলারকে তিনি জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন না। কোচ আরও বলেন, "কেউ দলে স্থায়ী নয়, প্রত্যেকেরই বিকল্প আছে দলে। পেলেরও বিকল্প ছিলো ব্রাজিল দলে। তাই কেউ নিজেকে দলের অপরিহার্য ভাবতে পারেনা।"
কিছু কথা না জানলেই নয়
ব্রাজিলের কোচ ডিডো বাংলাদেশেই পা রেখে স্বদর্পে ঘোষনা করেছিলো খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো দিলে উনি বাংলাদেশের ফুটবলকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। সেই সাথে বলেছিলো ফুটবলের মানোন্নয়ন তথা অবকাঠামোগত উন্নয়ন যাতে করে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ফুটবলার উঠে আসতে আগ্রহ বোধ করেন। ডিডো প্রিমিয়ারে ডিভিশনের প্রায় প্রতিটি খেলা নিবিড় ভাবে দেখেছেন। সেখান থেকে পছন্দের একটা টিম দাঁড় করিয়েছেন। ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য ফেডারেশনকে চাপ দেন। এই সেদিন বিকেএসপিতে অনুশীলন ক্যাম্প করতে গিয়ে সেখানে জেনারেটর না পেয়ে ফেডারেশনকে চাপ দেন। ডিডোর বক্তব্য ছিলো পরিষ্কার। ক্যাম্পে যদি খেলোয়ারদের খেলার বাইরের কোন কিছু নিয়ে চিন্তাই করতে হয় তাহলে ওরা ভালো খেলবে কিভাবে। সালাউদ্দিনও উনার সাথে একমত হয়ে সাথে সাথে জেনারেটরের ব্যবস্থা করেন।
দেশের বাইরে ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের চাপ সৃষ্টি করেন। ফলশ্রুতিতে নেপাল এবং মায়ানমার গিয়ে খেলোয়াড়েরা ম্যাচ খেলে এসেছে। খেলায় উন্নতির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। র্যাংকিং এ উন্নতি হয়েছে।
তাহলে কেন এই বিদ্রোহ
১। ডিডো শুরু থেকেই ফিটনেসের উপর খুব গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে আলফাজকেও বাদ পড়তে হয়। উনার লক্ষ্য ছিলো ভবিষ্যতে একটা শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশকে তুলে নেওয়া।
২। খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার ব্যপারে ছিলো চরম। বিকেএসপির জেনারেটর নিয়ে বাদল রায়ের সাথে টুকটাক কথা কাটাকাটি হলে সে সুযোগ-সুবিধা না দিলে ক্যাম্প ছাড়ার হুমকি দেন। যেখানে কোচরা চাকুরী বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া সেখানে ডিডো খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার জন্য চাকুরী ছাড়তেও রাজী।
৩। ফেডারেশনের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং পেশাদার ফুটবলের দেশ থেকে পেশাদার কোচ পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চাইলে বাদল রায়দের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে লেগে যায়। আমাদের সবাইকে জানতে হবে যে বাদল রায় বাংলাদেশ ফুটবলে অনেকদিন ধরে জড়িত। অভিযোগ আছে খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার বদলে বাদল রায় এবং আরো কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করছে। ফলে কোচের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনভাবেই ভালো যাচ্ছেনা।
৪। বাংলাদেশের ফুটবলাররা জানে এ দেশে ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই সব। তাদের ঠকমতো তোয়াজ করতে পারলেই দলে থাকা নিশ্চিত। শোনা যাচ্ছে বাদল রায়রা সালাউদ্দিনের অনুপস্থিতে সিনিয়র খেলোয়ারদের দ্বারা ইচ্ছে করেই এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রজনীর পর আরমান আজিজের বের হয়ে যাওয়া কি তারই ইঙ্গিত বহন করে।
সৈয়দ নইমুদ্দিনের সময় এর চেয়ে কঠোর অনুশীলন করেছে ফুটবলাররা। একবাক্যে সেটা সবাই স্বীকার করেছে। সেই সাথে অধিনায়ক আমিনুল এটাও বলেছে, "পরিপূর্ন ফিটনেসের জন্য এই অনুশীলনটা খুবই দরকার।" তাছাড়া এমিলি, ওয়ালী ফয়সালের মতো তরুন খেলোয়ারদের কোনভাবেই এটা কঠিন চাপ মনে হওয়ার কারন নেই।
তাহলে? অনেকেরই অনুমান অনুশীলনের চাপ নয় অন্যকোন কারনে এই বিদ্রোহ। আসলে কোচ তাড়ানোর উপায় খুঁজা হচ্ছে।
[হায়রে ফুটবলাররা কভে যে নিজের ভালো বুঝবি!]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

