somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাদল রায়রা ব্যাক্তিস্বার্থে ফুটবলের পুঙ্গা মারতাছে। একা সালাউদ্দিন কিছুই করতে পারবোনা!!!!!!!!!!!!!

২৭ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্রিকেটের গণজোয়ারে ফুটবল কোথায় যে চলে গেছে সেটা গত কয়েকদিনে ব্লগে দেখলাম। জাতীয় দলের আট জন খেলোয়ার বিদ্রোহ করলো অথচ ব্লগে এর কোন আওয়াজই পেলামনা। অথচ কোন ক্রিকেটার পাদ মারলেও সেটা অনেক বড় খবর হয়ে যায়।

কি ঘটেছিলো সেদিন
বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুশীলন করাচ্ছিলেন কোচ ডিডো। মূলত পাস বাই পাস কিভাবে বল নিয়ে নিচ থেকে উপরে উঠতে হয় সেটার একটা অনুশীলন। বার বার দেখিয়ে দেওয়া স্বত্ত্বেও কোচের মন মতো না হওয়ায় খানিকটা শাস্তি হিসাবে রানিং শুরু করেন। তরুন উদীয়মান ফুটবলাররা সেটা মেনে নিয়ে রানিং শুরু করেন। কিন্তু সিনিয়র খেলোয়ার রজনী কোচের সিদ্ধান্তকে চ্যালেন্জ ছুড়েঁ দিয়ে বলেন সে এটা করবেনা। কোচ বলেন, 'করতে হবে' 'চালিয়ে যাও'। বার কয়েকবার বলার পরও যখন রজনী তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তখন কোচ ক্যাম্পের শৃঙ্খলার স্বার্থে তাকে ক্যাম্প থেকে বেড়িয়ে যেতে বলেন।
রজনী মাঠ ছেড়ে চলে যান। তারপর তাকে অনুসরণ করলো আরেক সিনিয়র খেলোয়ার আরমান আজিজ। তারপর একে একে মাঠ ছেড়ে যান ওয়ালী ফয়সাল, আরিফ হোসেন, জাহেদ পারভেজ, সৈকত, জাহিদ হোসেন ও জাহিদ হোসেন এমেলী। পরেরদিন শুক্রবার সকালের অনুশীলনেও অনুপস্থিত থাকলে রাগে ফেটে পড়েন ব্রাজিলীয় কোচ অ্যাডসন সিলভা ডিডো। তিনি সাফ জানিয়ে দেন অনুশীলন বর্জন করায় এই আট ফুটবলারকে তিনি জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন না। কোচ আরও বলেন, "কেউ দলে স্থায়ী নয়, প্রত্যেকেরই বিকল্প আছে দলে। পেলেরও বিকল্প ছিলো ব্রাজিল দলে। তাই কেউ নিজেকে দলের অপরিহার্য ভাবতে পারেনা।"

কিছু কথা না জানলেই নয়
ব্রাজিলের কোচ ডিডো বাংলাদেশেই পা রেখে স্বদর্পে ঘোষনা করেছিলো খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো দিলে উনি বাংলাদেশের ফুটবলকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। সেই সাথে বলেছিলো ফুটবলের মানোন্নয়ন তথা অবকাঠামোগত উন্নয়ন যাতে করে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ফুটবলার উঠে আসতে আগ্রহ বোধ করেন। ডিডো প্রিমিয়ারে ডিভিশনের প্রায় প্রতিটি খেলা নিবিড় ভাবে দেখেছেন। সেখান থেকে পছন্দের একটা টিম দাঁড় করিয়েছেন। ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য ফেডারেশনকে চাপ দেন। এই সেদিন বিকেএসপিতে অনুশীলন ক্যাম্প করতে গিয়ে সেখানে জেনারেটর না পেয়ে ফেডারেশনকে চাপ দেন। ডিডোর বক্তব্য ছিলো পরিষ্কার। ক্যাম্পে যদি খেলোয়ারদের খেলার বাইরের কোন কিছু নিয়ে চিন্তাই করতে হয় তাহলে ওরা ভালো খেলবে কিভাবে। সালাউদ্দিনও উনার সাথে একমত হয়ে সাথে সাথে জেনারেটরের ব্যবস্থা করেন।
দেশের বাইরে ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের চাপ সৃষ্টি করেন। ফলশ্রুতিতে নেপাল এবং মায়ানমার গিয়ে খেলোয়াড়েরা ম্যাচ খেলে এসেছে। খেলায় উন্নতির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। র‌্যাংকিং এ উন্নতি হয়েছে।

তাহলে কেন এই বিদ্রোহ
১। ডিডো শুরু থেকেই ফিটনেসের উপর খুব গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে আলফাজকেও বাদ পড়তে হয়। উনার লক্ষ্য ছিলো ভবিষ্যতে একটা শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশকে তুলে নেওয়া।
২। খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার ব্যপারে ছিলো চরম। বিকেএসপির জেনারেটর নিয়ে বাদল রায়ের সাথে টুকটাক কথা কাটাকাটি হলে সে সুযোগ-সুবিধা না দিলে ক্যাম্প ছাড়ার হুমকি দেন। যেখানে কোচরা চাকুরী বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া সেখানে ডিডো খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার জন্য চাকুরী ছাড়তেও রাজী।
৩। ফেডারেশনের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং পেশাদার ফুটবলের দেশ থেকে পেশাদার কোচ পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চাইলে বাদল রায়দের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে লেগে যায়। আমাদের সবাইকে জানতে হবে যে বাদল রায় বাংলাদেশ ফুটবলে অনেকদিন ধরে জড়িত। অভিযোগ আছে খেলোয়ারদের সুযোগ-সুবিধার বদলে বাদল রায় এবং আরো কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করছে। ফলে কোচের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনভাবেই ভালো যাচ্ছেনা।
৪। বাংলাদেশের ফুটবলাররা জানে এ দেশে ফেডারেশনের কর্মকর্তারাই সব। তাদের ঠকমতো তোয়াজ করতে পারলেই দলে থাকা নিশ্চিত। শোনা যাচ্ছে বাদল রায়রা সালাউদ্দিনের অনুপস্থিতে সিনিয়র খেলোয়ারদের দ্বারা ইচ্ছে করেই এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। রজনীর পর আরমান আজিজের বের হয়ে যাওয়া কি তারই ইঙ্গিত বহন করে।

সৈয়দ নইমুদ্দিনের সময় এর চেয়ে কঠোর অনুশীলন করেছে ফুটবলাররা। একবাক্যে সেটা সবাই স্বীকার করেছে। সেই সাথে অধিনায়ক আমিনুল এটাও বলেছে, "পরিপূর্ন ফিটনেসের জন্য এই অনুশীলনটা খুবই দরকার।" তাছাড়া এমিলি, ওয়ালী ফয়সালের মতো তরুন খেলোয়ারদের কোনভাবেই এটা কঠিন চাপ মনে হওয়ার কারন নেই।

তাহলে? অনেকেরই অনুমান অনুশীলনের চাপ নয় অন্যকোন কারনে এই বিদ্রোহ। আসলে কোচ তাড়ানোর উপায় খুঁজা হচ্ছে।


[হায়রে ফুটবলাররা কভে যে নিজের ভালো বুঝবি!]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৬
১৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×