বর্ষাকাল। বাজারের চারদিকে বন্যার পানি থই থই করছে। এ সময় ডাকাতের খুব ভয় থাকে। কারন নদী পথে ডাকাতরা খুব সহজে ডাকাতি করে চলে যায়। তাই এবার ব্যাবসায়ী কমিটি বর্ষার শুরু থেকেই বাজারে পাহাড়ার ব্যাবস্থা করেছে। পাহাড়াদাররাও খুব তৎপর।
একটু পর পরই ভেসে আসছে "বস্তি ওয়ালা ভাই জাগোরে"।
আজকে কেন জানি পাহাড়াদারদের এই আত্নপ্রয়াস আমার কাছে খুব বিরক্তিকর ঠেকছে। এর একটা কারন হতে পারে আমার খুব মাথাব্যাথা। তাই এপাশ-ওপাশ করেও কোন ভাবেই ঘুমাতে পারছিলামনা। তাই যখনি পাহাড়াদাররা আমাদের বাসার কাছে এসে সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাইছে তখন উল্টো সেটা আমার বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বিরক্তি চরমসীমা পার করলে মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। তিন ব্যাটারির লাইট টা নিয়ে সোজা চলে গেলাম মন্দিরের কাছে। এ জায়গাটা বরাবরই খুব অন্ধকার থাকে। দিনেও পারতপক্ষে কেউ এদিক আসেনা।
পাহাড়াদাররা যখন গোদারা ঘাটের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তখন আমি খুব কৌশলে পানিতে টর্চ মারলাম। যাতে করে আলোটা রিফ্লেক্ট করে গোদারা ঘাটের রাস্তায় বট গাছটায় পড়ে। হলোও তাই। এভাবে একটু পর পর টর্চ মারা শুরু করলাম। পাহাড়াদাররা মনে হয় জমে গেছে। কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিলামনা। আমি নিরাশ না হয়ে টর্চ মেরেই চললাম। কিছুক্ষণ পরেই পাহাড়াদারদের চিৎকার ভেসে আসলো ডাকাত পড়ছে........ ডাকাত পড়ছে........।
আমি তারাতারি মন্দিরের কাছ থেকে সরে বাসার সামনে বাজারে চলে আসলাম। দেখি শত শত মানুষ বিভিন্ন রকম দেশী অস্ত্র নিয়ে ডাকাত পড়ছে ডাকাত পড়ছে বলে দৌড়াদৌড়ি করতেছে। আমিও খুব জোড়ে স্লোগান দিয়ে বাসায় ডুকলাম। এদিক দিয়া দেখি আম্মা দোয়া পড়তেছে। আব্বা বন্ধুক নিয়ে বের হইতেছে। আমারে বাইরে দেখে তারা চরম অবাক। আমি বললাম আব্বা বাজারে ডাকাত পড়ছে তারাতারি আসো। বাপ-বেটা মিলে দৌড়। যে যার মতো দৌড়াইতেছে। একবার এই যে এই যে ডাকাত শুনে ঐ দিকে দৌড়ি আরেকবার ঐ যে ঐ যে শুনে ঐদিকে দৌড়ি। কিন্তু কেউই আর ডাকাতের দেখা পাইলোনা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

