আমাদের নেতা কর্মীরা, শিক্ষিত তরুন সমাজকে প্রায়ই দেখি অতীতের ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় দিন গুলোর কথা স্মরণ করতে। হ্যাঁ ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, স্বাধীণতা সংগ্রামে এবং স্বৈরাচার পতনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলো ছাত্র সমাজ। খুব খেয়াল করলে দেখা যায় সময়ের প্রয়োজনে, মায়ের ভাষাকে রক্ষার্থে, স্বাধীনতার সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে তখন ছাত্র সমাজ একতাবদ্ধ হয়েছিলো, নিজেদের জীবনকে হাসতে হাসতে বিলিয়ে দিয়েছিলো।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! যখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হইলো ধপ করেই যেনো ছাত্র রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলো। টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ, খুন, গুলাগুলি, সিট দখল, ভার্সিটির পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটানো, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করা থেকে শুরু করে এমন কোন অপকর্ম নাই যা এই সংগঠনটি করে নাই। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান সাড়ির দলগুলোর যত অঙ্গ সংগঠন আছে সেগুলোর মাঝে এই সংগঠনটিই মনে হয় বর্তমানে সবচেয়ে বেশী কুকর্মের সাথে জড়িত। আগেই বলেছি সময়ের প্রয়োজনে একটা সময় ছাত্ররা সংগঠিত হয়েছিলো। আর এখন সময়ের অপেক্ষায় আর যত্তোসব কুকর্ম আছে সেগুলোর লিস্ট করে এখন এই সংগঠনটি অপেক্ষা করে নিজের দলের ক্ষমতার আশায়।
আপনাদেরকে মানতে হবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কোনভাবেই ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই। কত মেধাবী ছাত্রের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে শুধুমাত্র ছাত্ররাজনীতির বাকেঁ পরে।
জনপ্রিয় ব্লগার হোসাইনের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্লগ পাড়া বেশ সরগরম। পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য এবং পোস্টে ভারী হচ্ছে ব্লগের অলি গলি সব। হোসাইনকে আগে থেকে যারা চিনতো স্বভাবতই তারা কিছুটা হতভম্ব, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কিন্তু কেউকি গভীরভাবে হোসাইনের পোস্ট টি পড়েছেন? হোসাইন কি বলতে চেয়েছে বুঝতে চেষ্টা করছেন? যদি পড়ে থাকেন বা বুঝে থাকেন তাহলে সমস্যার মূল কথা নিয়ে পোস্ট দেন, মন্তব্য করুন। হোসাইনকে ছাগু, ছুপা শিবির ইত্যাদি ট্যাগ দেওয়ার চেয়ে এটা জানা/বুঝা বেশী জরুরী কেনো হোসাইন হঠাৎ করে এমন একটা পোস্ট দিলো? শংকিত হোন ছাত্রলীগের ধ্বংসাত্বক রাজনীতি নিয়ে। ছাত্রলীগের কুকর্ম বন্ধ করতে বলেন। প্রয়োজনে ছাত্ররাজনীতিকে না বলুন। না হলে এরকম একটা না হাজার হাজার হোসাইনের সফট কর্ণার শিবিরের দিকে চলে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



