কিছুক্ষণ আগেই মানহানির মামলায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও গবেষক ওয়াহিদ আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে কুমিল্লার একটি আদালত। মামলার অভিযোগঃ টিআইবির জরিপ প্রতিবেদনে বিচার বিভাগকে সেবাখাতের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানোয় বিচার বিভাগের মান মর্যাদা এবং সুনাম ক্ষুণ হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে বাদির সম্মানহানি হয়েছে।
গত ২৩ শে ডিসেম্বর টিআইবি অভিযোগ করেন সেবা খাতের মধ্যে বিচার বিভাগেই দুর্নীতি বেশি হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ঘুষ লেনদেন বেশি হয় উচ্চ আদালতে। ৬৪ জেলার ৬ হাজার খানার ওপর গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত এ জরিপ হয়।
একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে প্রতিক্রিয়াঃ যারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সেই সকল ভুক্ত ভোগীই মাত্র জানে আদালতের টাইপিস্ট থেকে শুরু করে মহুরী, উকিল, বিচারকরা কত ধরণের হেয় করে। যার প্রকোপ জেলা শহর গুলোতে আরো বেশী। কিছুদিন আগে ৯ টা মামলা নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আদালতে আমার যাওয়ার সুভাগ্য/দুর্ভাগ্য হয়েছিলো। তখন এর প্রকটতা টের পাই। সামান্য ঘটনায় ৩ পরিবার মিলে মামলাগুলো করে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিলো আমি যখন মামলার বাদি-বিবাদীদের বুঝিয়ে মামলা করার ক্ষতিগুলো তুলে ধরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রাজী করালাম। তখন মামলাগুলো উড্রো করতে গিয়ে নিধারুন বাস্তবতার মুখামুখি হয়েছিলাম।
তারও আগে ৯ই ডিসেম্বর টিআইবি এক জরিপ শেষে ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ। সেদিনের ঘোষণায় বলেন, বাংলাদেশের জনগণ পুলিশকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরপর জনপ্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং বিচার বিভাগকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ছয়জনই দুর্নীতির শিকার হয়েছেন এবং প্রতি চারজনের মধ্যে একজনকে বিভিন্ন কাজের জন্য ঘুষ দিতে হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এক প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন, টিআইবি দুর্নীতির যে চিত্র প্রকাশ করেছে, দেশে এর ব্যাপকতা তার চেয়েও বেশি।
টিআইবি সমালোচনায় মুখর দুর্ণিতীবাজ প্রতিষ্টান পুলিশ,
পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, আইন মন্ত্রী এবং আইন প্রতিমন্ত্রী।
সবচেয়ে মজাদার উক্তি করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিআইবি পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের এ ধরণের অভিযোগ নতুন না। প্রায়ই তিনি বিভিন্ন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান, দলের বিরুদ্ধে এ ধরণের সমালোচনায় মুখর হয়। যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়াটাকে হালকা করার জন্য এ ধরণের মন্তব্যগুলো ব্যাপকভাবে অন্তরায়।
টিআইবির সাথে সরকারের ভিতরে ভিতরে খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো আরো আগে। যখন টিআইবি সরকারি কেনাকাটায় দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কাজের জন্য অভিজ্ঞতা শিথিল এবং লটারির ব্যবস্থা আবার চালু করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলো এবং এ সংক্রান্ত আইন বাতিল করার আহবান জানিয়েছিলো।
যখন টিআইবি মন্ত্রিসভা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর সংশোধনীর যে প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করেছে, সেগুলো সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে এবং এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে কমিশন অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তখনি সরকার সংশ্লিষ্টদের সাথে টিআইবির দুরত্ব বাড়তে থাকে।
যার সর্বশেষ উদাহরণ দেখলাম মানহানির মামলায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও গবেষক ওয়াহিদ আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা।
ধিক্।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

