somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি বোবা ও বধির হয়ে গেলাম.....?

২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
৪০০ বছরের ঐতিহ্য আমাদের এই ঢাকা আর নাগরিক সেবা দেওয়ার জন্য গঠিত আমাদের ঢাকা সিটি করপোরেশন। আজ সেই ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ হয়ে গেল আওয়ামীলীগ সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায়।
আমরা কোনো প্রতিবাদই করলাম না? হয়তো করেছি নামকাওয়াস্তে।
আমরা আমাদের কথা বলা বা করা শুধু মাত্র পত্রিকা বা ব্লগেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি বা প্রেসক্লাবের সামনে গোটা কয়েক মানব বন্ধন করলেই হয়ে যায়।
এটা কি আমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদের বা আন্দোলনের দেউলিয়াত্ত্ব প্রমাণ করে না? প্রশ্নটির কারণে অনেকেই হয়তো আমাকে ভুল বুঝতে পারেন। তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আমাদের বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস কি বলে, আমরা ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুথান, ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ স্বৈরাচারী আন্দোলন করেছি।
এই বাংলাদেশ কোনো অন্যায় বা গণবিরোধী কিছু হলেই আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি, দিয়েছি রক্ত, দিয়েছি প্রাণ আর প্রতিষ্ঠা করেছি আমাদের অধিকার এবং মিলেছে মুক্তি। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে প্রতিবাদের ভাষা কেন জানি ভুলতে বসেছি। আমরা যেন অসার হয়ে গিয়েছি।
তা না হলে এই আওয়ামীলীগ সরকার একের পর এক গণবিরোধী আইন পাস করে যাচ্ছে কোন জনমত যাচাই না করে। অথচ আমরা চুপ।
এ বছরেইতো খোরা একটি যুক্তি দেখিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের আইন পাস করিয়েছে আর আজ মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্তের বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করলো।
হায়!! এই স্বেচ্ছাচারিতার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্যই কি আমরা তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি (অবশ্য অনেক বলে ক্ষমতা)।
বর্তমান বাংলাদেশে আমরা কি নিয়ে আন্দোলন করি?
আসলে বর্তমান আমরা কোনো কিছু নিয়েই আন্দোলন করি না। আমরাতো আন্দোলনের সকল দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি শুধু মাত্র বিরোধী দলের উপর তারা খাবে পুলিশের লাঠির বাড়ি,টিয়ার সেল, খাটবে জেল আর আমরা করবো খিস্তি খিঁউরি, দেখবো মজা বা গোটা কয়েক লাশ অথবা ক্ষোভ প্রকাশ করবো প্রতি পাঁচ বছর পর পর সরকার বদল করে। এইতো!!এ ছাড়া আরকি বলুন?
কিছু দিন আগে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, "দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির যাঁতাকলে পিষ্ঠ মানূষ বিরোধীদলের আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিবে না"
সরকার যে আমাদের জিম্মি করেছে এটা কামরুল ইসলামের কথায় প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই।
বিরোধীদল যখন হরতাল বা অন্য কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী দেয় তাদের সমর্থনতো দূরের কথা তখন আমরা সাধারণ মানুষরাই বা কতিপয় সুশীল সমাজ বা সরকার এর বিভিন্ন রুপ বা ব্যাখা দেই। তুলে ধরি অনেক যুক্তি। এতে আসলে আমরা পরোক্ষভাবে সরকারকেই লাভবান করছি। আর এই লাভের বা সুদে আসলে সরকার মাথায় উঠে গেছে, করছে যা খুশি মন চাইছে।
আপনারা হয়তো বলবেন আমি বিএনপি'র হরতালের সমর্থন করছি,না আমি হরতালের বিরোধী। তবে আমি চাই অন্যায়ের ঐক্যমতের জোড়ালো আন্দোলন সেটা ধর্মঘট হোক,রোড মার্চ বা হরতাল হোক।
একবার ভেবে দেখুনতো এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা সঠিক ভাবে করতে পারছে। কোনো না কোনো ভাবে তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে একটার পর একটা গণবিরোধী ইস্যূ সৃষ্টি করে আমাদের দৃষ্টি এদিক সেদিক ঘুড়িয়ে রেখেছে। অর্থনীতির অবস্থা বলা যায় বারোটা বেজে তেরটায় পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগ সরকারের সাফল্যের অনেকাংশ যেন ভারতের চুক্তি উপরই নির্ভর করছে। পৃথিবীতে চুক্তি বা ব্যবসা করার দেশ এই সরকার যেন খুঁজেই পাচ্ছে না। দেশ বিরোধী সকল চুক্তি আমাদের রুখতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আপনার মুখের কথা নাইবা বললাম। কেননা আপনার কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধে।


সবশেষে
আসুন বোবা ও বধির না হয়ে যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, গড়ি তুলি আন্দোলন।ঘৃণা করি দেশ বিরোধীদের।
এ স্বাধীন দেশ আমার, তোমার, সকলের......
আমার বাংলাদেশ আমার গর্ব।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×