শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় মঙ্গলবার চির বিদায় জানানো হল চ্যানেল আইয়ের সদ্য প্রয়াত যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মাহবুব মতিনকে। মিরপুর বুদ্ধিজীবী করবস্থানে সমাহিত করা হয় মাহবুবকে। মঙ্গলবার মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয় প্রাঙ্গণে। পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে মাহবুব মতিন প্রকৃতির চরমসত্য মৃত্যুর কোলে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন ১০ অক্টোবর। সেদিনই চ্যানেল আইয়ের সিদ্ধেশ্বরীর কার্যালয়ের সামনে প্রথম নামাজে জানাজার পর বারডমে হাসপাতালের হিমঘরে ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় যানাজার জন্য তাঁর মরদেহ নেয়া হয় সংবাদ প্রতিবেদকদের প্রতিষ্ঠান, জীবদ্দশায় তাঁরই প্রিয় আঙিনা ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে। শত শত সহকর্মী আর শুভানুভ্যায়ীর অশ্রুসজল প্রতীক্ষা ছিল তার জন্য। কেউই মেনে নিতে পারছেন না এই সাথীর অকালে ঝরে যাওয়া। সদাহাস্য-বন্ধুপ্রতিম, নির্ভীক সাংবাদিক মাহবুবকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর বিশেষ সহকারী ও প্রেস সচিব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তাঁরই হাতে গড়া সংগঠন ছোটরাইয়ের সদস্য, বার্তা সংস্থা ফোকাস বাংলা নিউজ এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।
জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি করবস্থানে দোয়া ও মোনাজাতে হয় মাহবুব-এর আত্মার শান্তি কামনায়। চিরনিদ্রায় শায়িত হন মাহবুব মতিন। চোখের আড়ালে চলে গেলেন মাহবুব, কিন্তু তাঁর অপার ভালবাসা-শ্রদ্ধা-স্নেহের গুণ এবং কাজ দিয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।
চ্যানেল আই নিউজ এর প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য মাহবুব মতিন। পেশাদারী মনোভাবের মতোই অফিসিয়াল দায়িত্বের পাশাপাশি সহকর্মীদের আনন্দে মাতিয়ে রাখতে জুড়ি ছিল না তাঁর। অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ে দক্ষ মাহবুব একাধিকবার দায়িত্ব পালন করার সময় স্পটে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্ভিক এই রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার হয়ে পরে হয়েছেন যুগ্ম বার্তা সম্পাদক।
মাহবুব মতিনের গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায়। বাবা মরহুম মাওলানা আব্দুল মতিন। বাবার চাকরীর সূত্রে মাহবুব মতিনের জন্ম পাকিস্তানের করাচীতে ১৯৭০ সালে ২২ শে জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম এ করার সময় থেকেই শুরু করেন লেখালেখির। একাধারে চিত্র সমালোচক, কবি এবং সংগঠক ছিলেন মাহবুব মতিন। তাঁর সাংবাদিকতার শুরু ১৯৯০ সালে, দৈনিক মিল্লাতে। কাজ করেছেন রুপালী, ভোরের কাগজ এবং সংবাদেও।
২০০১ সালে চ্যানেল আই সংবাদের সূচনা থেকেই ছিলেন মাহবুব। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক কর্মকান্ডেও জড়িত ছিলেন তিনি। ছোটদের দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন সংগঠন ছোটরাই। দেশের কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য প্রথম ওয়েবসাইট জার্নালিষ্টবিডিডট চালু করে তিনি। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রশিক্ষন ও গবেষনা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন একবার।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সাংবাদিক মাহবুব মতিনকে চিরবিদায়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।