somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর জীবন হুমকির মুখে : মেজর জিয়া উদ্দিন

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবারও রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন ৯ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব:) জিয়া উদ্দিন। তিনি বলেছেন, যতোদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না ততদিন শেখ হাসিনা ও মুজিব পরিবারের জীবন হুমকির মধ্যে থাকবে। যুদ্ধাপরাধীরা এখনো শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে। মুক্তিযুদ্ধের সরকারকে সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মেজর (অব:) জিয়া উদ্দিন সোমবার তার ধানমন্ডির বাসায় ফোকাস বাংলা নিউজের সঙ্গে একান্ত সাাৎকারে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে মতার লোভে ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য খুন করা হয়েছে। মতালিপ্সুরা এখনো চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মোস্তাক, রশিদ ও শাহরিয়ারের মতো খুনীদের সাঙ্গপাঙ্গরা এখনো আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে আছে। ঘরের শত্র“দের কারণে আবারও রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিষয়ে মেজর জিয়া উদ্দিন ফোকাস বাংলা নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব একটা গোয়েন্দা সংস্থা গঠন করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর সময়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার ইন্টিলিজেন্স টিম’ নামে একটি বাহিনী ছিল। যারা দেশের কর্মকান্ডের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি রিপোর্ট করতো। শেখ হাসিনারও এ ধরনের একটি সংস্থা গড়ে তোলা উচিত।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে মেজর (অব:) জিয়া বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা এবং জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার পাকিস্তান ও রাজকার প্রীতির কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে ৯ হাজার রাজাকারকে মুক্তি দিয়েছে। এরপর খালেদা জিয়ার সরকার রাজাকারদের পুনর্বাসন করেছে এবং মতার চেয়ারে বসিয়েছে। এরশাদের ভূমিকাও পরিষ্কার নয়। এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনী ও রাজাকারদের লালন পালন করেছে। তাই এখনো রাজাকাররা দেশকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, নিজামী-মুজাহিদ এদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ল ল নারীর ইজ্জত হরণ করছে। তারাই আজকে স্বাধীনতার পে কথা বলছে। এসব ঘৃণ্য রাজাকারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। এখন রাজাকারদের বিচারের সময় এসেছে। আওয়ামীলীগ সরকার অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। মুক্তিযুদ্ধের সরকারও যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে না পারে তাহলে আমি বিশ্বাস করি নতুন প্রজন্ম এ অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবে।
জিয়া উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ১১ হাজার রাজাকারকে সাধারণ মা করেছিলো। যারা ছিলেন কৃষক কিংবা খেটে খাওয়া মানুষ। যারা টাকার বিনিময়ে পাকিস্তানীদের সহায়তা করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কখনই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পাকিস্তানীদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের মা করেননি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মেজর জিয়াউর রহমান রাজাকারদের মুক্তি দিয়ে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এসব রাজাকাররাই ছিলো জিয়াউর রহমানের প্রধান শক্তি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান এই প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল যে, ’৭১-এর বর্বরতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মা চাইবে। বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান মা চাইবে, এটি ছিল মুখ্য বিষয়। পাশাপাশি ওই অপরাধীদের বিচার করবে। কিন্তু কোনো প্রতিশ্র“তিই তারা রাখেনি। পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে আজও বাংলাদেশের কাছে মা চায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শুধু যুদ্ধাপরাধী নয়, সময়ের দাবি অনুযায়ী দেশে যুদ্ধাপরাধীদের মদদদাতাদেরও বিচার হওয়া উচিত মন্তব্য করে জিয়া উদ্দিন বলেন, যুদ্ধাপরাধ পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ। পৃথিবীতে যারা সভ্য জাতির দাবিদার এমন প্রতিটি জাতিই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশের বেলায় এর ব্যতিক্রম হতে পারে না, হবেও না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের সরকার মতাসীন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান হবে। গণতন্ত্র ধ্বংস হবে।


১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×